ঢাকা ১০:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেসির বার্তা: শক্তিশালী আর্জেন্টিনাকে হারানো হবে বড় চ্যালেঞ্জ

দল নিয়ে আত্মবিশ্বাসী লিওনেল মেসি। ছবি: সংগৃহীত।

মেসির বার্তা বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের নতুন করে আশাবাদী করে তুলেছে। চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরে নিজের প্রথম ম্যাচেই গোল করেছেন লিওনেল মেসি। আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় পাওয়ার পর আর্জেন্টিনা অধিনায়ক জানিয়েছেন, বর্তমান দলটিকে হারানো যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্য কঠিন হবে।

মেসির বার্তা শুধু আত্মবিশ্বাসের প্রকাশ নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরে গড়ে ওঠা একটি সফল দলের প্রতি তার বিশ্বাসের প্রতিফলন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোপা আমেরিকা, ফাইনালিসিমা এবং বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে আর্জেন্টিনা নিজেদের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্য নিয়েই এবার মাঠে নামবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

আইসল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে শুরুতে মাঠে না থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নামেন মেসি। মাঠে নেমেই তিনি আক্রমণে গতি এনে দেন এবং একটি পেনাল্টি আদায় করেন। পরে সেই পেনাল্টি থেকেই গোল করেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। ম্যাচে তার উপস্থিতি পুরো দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।

মেসির বার্তা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, এই দল তাদের অর্জনের যোগ্য এবং প্রতিটি ম্যাচে নিজেদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করে। তার মতে, ফুটবলে সব সময় সাফল্য পাওয়া সম্ভব নয়, তবে ধারাবাহিক পরিশ্রম এবং সঠিক মানসিকতা থাকলে বড় অর্জন সম্ভব। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আর্জেন্টিনা যে সাফল্য পেয়েছে, সেটি কেবল ভাগ্যের কারণে নয়, বরং কঠোর পরিশ্রমের ফল।

বিশ্বকাপে টানা দুইবার শিরোপা জয়ের ইতিহাস খুব একটা দেখা যায় না। ১৯৬২ সালের পর কোনো দল এই কীর্তি গড়তে পারেনি। ফলে আর্জেন্টিনার সামনে এবার বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। তবুও মেসির বিশ্বাস, বর্তমান স্কোয়াডে এমন অনেক খেলোয়াড় আছেন যারা কঠিন পরিস্থিতিতেও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। দলীয় সমন্বয়, অভিজ্ঞতা এবং আত্মবিশ্বাসই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।

গত মাসে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলতে গিয়ে পেশিতে চোট পেয়েছিলেন মেসি। বিশ্বকাপের আগে সেই চোট আর্জেন্টিনা শিবিরে উদ্বেগ তৈরি করেছিল। তবে মাঠে ফিরে গোল করার মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন যে এখন তিনি অনেকটাই সুস্থ। ম্যাচ শেষে মেসি বলেন, মাঠে ফিরতে পেরে তিনি আনন্দিত এবং প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করছেন। দীর্ঘদিন পর কোনো শারীরিক অস্বস্তি ছাড়াই খেলতে পারায় নিজেকে স্বস্তিতে মনে হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মেসির বার্তা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে যখন তিনি প্রতিপক্ষদের উদ্দেশে বলেন, আর্জেন্টিনাকে হারানো সহজ হবে না। কারণ দলটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ এবং প্রতিটি ম্যাচে জয়ের মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামে। তার মতে, এই দলের খেলোয়াড়রা বড় মঞ্চে চাপ সামলাতে জানে এবং প্রয়োজনের মুহূর্তে নিজেদের সেরাটা বের করে আনতে সক্ষম।

বিশ্বকাপ শুরু হতে আর বেশি সময় বাকি নেই। আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচের আগে হাতে রয়েছে প্রায় এক সপ্তাহ সময়। এই সময়ের মধ্যে দলের অন্যান্য খেলোয়াড়রাও পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠবেন বলে আশা করছেন মেসি। তার বিশ্বাস, সবাই সেরা অবস্থায় থাকলে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে আর্জেন্টিনা অন্যতম ফেবারিট দল হিসেবেই মাঠে নামবে।

সমর্থকদের কাছেও মেসির এই বক্তব্য আত্মবিশ্বাসের নতুন উৎস হয়ে উঠেছে। বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনার যাত্রা কত দূর যাবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে মেসির বার্তা পরিষ্কার—দল প্রস্তুত, খেলোয়াড়রা আত্মবিশ্বাসী এবং বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারাতে হলে প্রতিপক্ষকে নিজেদের সেরাটা খেলতেই হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মেসির বার্তা: শক্তিশালী আর্জেন্টিনাকে হারানো হবে বড় চ্যালেঞ্জ

Update Time : ০৭:৩৩:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

মেসির বার্তা বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের নতুন করে আশাবাদী করে তুলেছে। চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরে নিজের প্রথম ম্যাচেই গোল করেছেন লিওনেল মেসি। আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় পাওয়ার পর আর্জেন্টিনা অধিনায়ক জানিয়েছেন, বর্তমান দলটিকে হারানো যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্য কঠিন হবে।

মেসির বার্তা শুধু আত্মবিশ্বাসের প্রকাশ নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরে গড়ে ওঠা একটি সফল দলের প্রতি তার বিশ্বাসের প্রতিফলন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোপা আমেরিকা, ফাইনালিসিমা এবং বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে আর্জেন্টিনা নিজেদের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্য নিয়েই এবার মাঠে নামবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

আইসল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে শুরুতে মাঠে না থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নামেন মেসি। মাঠে নেমেই তিনি আক্রমণে গতি এনে দেন এবং একটি পেনাল্টি আদায় করেন। পরে সেই পেনাল্টি থেকেই গোল করেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। ম্যাচে তার উপস্থিতি পুরো দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।

আরও পড়ুন  নেইমারের হাতে সময় আরও ২ মাস, বিশ্বকাপ দলে সুযোগের ইঙ্গিত ব্রাজিল কোচের

মেসির বার্তা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, এই দল তাদের অর্জনের যোগ্য এবং প্রতিটি ম্যাচে নিজেদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করে। তার মতে, ফুটবলে সব সময় সাফল্য পাওয়া সম্ভব নয়, তবে ধারাবাহিক পরিশ্রম এবং সঠিক মানসিকতা থাকলে বড় অর্জন সম্ভব। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আর্জেন্টিনা যে সাফল্য পেয়েছে, সেটি কেবল ভাগ্যের কারণে নয়, বরং কঠোর পরিশ্রমের ফল।

বিশ্বকাপে টানা দুইবার শিরোপা জয়ের ইতিহাস খুব একটা দেখা যায় না। ১৯৬২ সালের পর কোনো দল এই কীর্তি গড়তে পারেনি। ফলে আর্জেন্টিনার সামনে এবার বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। তবুও মেসির বিশ্বাস, বর্তমান স্কোয়াডে এমন অনেক খেলোয়াড় আছেন যারা কঠিন পরিস্থিতিতেও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। দলীয় সমন্বয়, অভিজ্ঞতা এবং আত্মবিশ্বাসই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।

আরও পড়ুন  বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল বিভক্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট দল

গত মাসে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলতে গিয়ে পেশিতে চোট পেয়েছিলেন মেসি। বিশ্বকাপের আগে সেই চোট আর্জেন্টিনা শিবিরে উদ্বেগ তৈরি করেছিল। তবে মাঠে ফিরে গোল করার মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন যে এখন তিনি অনেকটাই সুস্থ। ম্যাচ শেষে মেসি বলেন, মাঠে ফিরতে পেরে তিনি আনন্দিত এবং প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করছেন। দীর্ঘদিন পর কোনো শারীরিক অস্বস্তি ছাড়াই খেলতে পারায় নিজেকে স্বস্তিতে মনে হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মেসির বার্তা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে যখন তিনি প্রতিপক্ষদের উদ্দেশে বলেন, আর্জেন্টিনাকে হারানো সহজ হবে না। কারণ দলটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ এবং প্রতিটি ম্যাচে জয়ের মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামে। তার মতে, এই দলের খেলোয়াড়রা বড় মঞ্চে চাপ সামলাতে জানে এবং প্রয়োজনের মুহূর্তে নিজেদের সেরাটা বের করে আনতে সক্ষম।

আরও পড়ুন  আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ র‌্যাঙ্কিং অভিশাপ: ইতিহাস কি এবার বদলাবে?

বিশ্বকাপ শুরু হতে আর বেশি সময় বাকি নেই। আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচের আগে হাতে রয়েছে প্রায় এক সপ্তাহ সময়। এই সময়ের মধ্যে দলের অন্যান্য খেলোয়াড়রাও পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠবেন বলে আশা করছেন মেসি। তার বিশ্বাস, সবাই সেরা অবস্থায় থাকলে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে আর্জেন্টিনা অন্যতম ফেবারিট দল হিসেবেই মাঠে নামবে।

সমর্থকদের কাছেও মেসির এই বক্তব্য আত্মবিশ্বাসের নতুন উৎস হয়ে উঠেছে। বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনার যাত্রা কত দূর যাবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে মেসির বার্তা পরিষ্কার—দল প্রস্তুত, খেলোয়াড়রা আত্মবিশ্বাসী এবং বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারাতে হলে প্রতিপক্ষকে নিজেদের সেরাটা খেলতেই হবে।