বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো নকআউট নিশ্চিত করেছে আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। রাউন্ড অব ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনাকে নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন কেপ ভার্দের প্রধান কোচ বুবিস্তা। তিনি জানিয়েছেন, শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলতে পারা তাদের জন্য বড় সম্মান, তবে দলটি নিজেদের সামর্থ্যের ওপরও পূর্ণ বিশ্বাস রাখছে।
গ্রুপ ‘এইচ’-এ তিনটি ম্যাচ খেলেও হার দেখেনি কেপ ভার্দে। সৌদি আরবের বিপক্ষে ড্র করার পাশাপাশি উরুগুয়ে ও ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষেও দারুণ লড়াই করে তারা শেষ পর্যন্ত নকআউটের টিকিট নিশ্চিত করেছে। প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েই এমন সাফল্য ফুটবল বিশ্বে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে নকআউট পর্বে ওঠা সবচেয়ে ছোট দেশ এখন কেপ ভার্দে। জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ হলেও মাঠের পারফরম্যান্সে তারা প্রমাণ করেছে, ফুটবলে সাফল্য শুধু জনসংখ্যা বা ঐতিহ্যের ওপর নির্ভর করে না। শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস ও দলীয় ঐক্য থাকলে বড় অর্জন সম্ভব।
আগামী ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত হবে কেপ ভার্দে ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচ। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে এই লড়াই দেশটির ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পুরো দেশের সমর্থকদের চোখ এখন সেই ম্যাচের দিকেই।
ম্যাচের আগে সংবাদমাধ্যমে কথা বলতে গিয়ে কোচ বুবিস্তা বলেন, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলতে পারা তাদের জন্য বিশেষ একটি উপলক্ষ। তাঁর ভাষায়, ‘আর্জেন্টিনা এমন একটি দেশ, যার সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। কেপ ভার্দের অনেক মানুষ সেখানে অভিবাসী হিসেবে বসবাস করেন। তাই এই ম্যাচ আমাদের জন্য শুধুই একটি ফুটবল ম্যাচ নয়, এর সঙ্গে আবেগও জড়িয়ে আছে।’
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের বিপক্ষে খেলতে গেলেও কেপ ভার্দে নিজেদের ছোট করে দেখছে না। বরং গ্রুপ পর্বের পারফরম্যান্স থেকে আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামতে চায় দলটি। কোচের বিশ্বাস, প্রতিটি ম্যাচেই তাদের খেলোয়াড়েরা নিজেদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামে এবং সেটিই দলটির সবচেয়ে বড় শক্তি।
নিজেদের নকআউট নিশ্চিত করার পেছনে কঠোর পরিশ্রম ও মানসিক দৃঢ়তাকেই প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বুবিস্তা। তিনি বলেন, ‘ছেলেরা যা অর্জন করেছে, তার জন্য আমি গর্বিত। আমাদের সমর্থকেরা এই আনন্দের প্রাপ্য। আর একটি গোল পেলে হয়তো আনন্দটা আরও বাড়ত। ম্যাচ জেতার জন্য দল সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে এবং আমি তাদের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট।’
কোচের মতে, এই সাফল্যকে শুধুমাত্র রূপকথা বললে খেলোয়াড়দের পরিশ্রমের মূল্যায়ন করা হবে না। দীর্ঘ সময় ধরে পরিকল্পনা, অনুশীলন এবং কঠিন পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধরে খেলার ফল হিসেবেই এসেছে এই অর্জন। দলের প্রতিটি সদস্য নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে নকআউট নিশ্চিত করার পরও কিছুটা বিস্ময়ের অনুভূতি কাজ করছে বলে স্বীকার করেছেন বুবিস্তা। তিনি বলেন, ‘এটি কিছুটা চমকে যাওয়ার মতোই, যদিও প্রথম দুই ম্যাচের পর থেকেই আমাদের বিশ্বাস ছিল যে আমরা এই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারব। আমরা ছোট একটি দেশ হতে পারি, কিন্তু যা চাই, তার জন্য লড়াই করি। আমাদের কাছে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়।’
এখন সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নামবে কেপ ভার্দে। কাগজে-কলমে ফেবারিট আর্জেন্টিনা হলেও বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে আফ্রিকার দলটি। তাই মিয়ামির এই ম্যাচে আরেকটি চমক উপহার দিতে পারে কি না, সেটিই এখন ফুটবলপ্রেমীদের সবচেয়ে বড় আগ্রহের বিষয়।
























