ফুটবল বিশ্বকাপের আবহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন এক আলোচনা জন্ম দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের একটি পুরোনো ছবি শেয়ার করার পর অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, তিনি কি ব্রাজিলের সমর্থক? যদিও এ বিষয়ে তার পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো মন্তব্য আসেনি, তবুও একটি স্টোরিকে ঘিরে এখন ব্যাপক আলোচনা চলছে।
বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগে দেওয়া ওই স্টোরিতে দেখা যায় ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের একটি পুরোনো ছবি। ছবিতে ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার রোনালদোকে উড়োজাহাজ থেকে নামতে দেখা যায়। তার হাতে একটি ভিডিও ক্যামেরাও ছিল, যা ছবিটিকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে।
ছবিটির উপরে বাংলায় লেখা ছিল, ‘আপনারা কি রেডি?’ সংক্ষিপ্ত এই বার্তাটি ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্বকাপের উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তে এমন একটি পোস্ট অনেকের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে।
স্টোরিতে শুধু ছবি নয়, সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল সার্জিও মেন্ডেজ অ্যান্ড ব্রাজিল ৬৬-এর জনপ্রিয় একটি গানও। গানটিতে ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি, সাম্বার তাল এবং ল্যাটিন আমেজের উপস্থিতি রয়েছে। ফলে অনেকেই পোস্টটিকে ব্রাজিলের প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্টোরিটির স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয় নানা ধরনের আলোচনা। কেউ কেউ মনে করছেন, জাইমা রহমান সম্ভবত ব্রাজিল ফুটবল দলের সমর্থক। আবার কেউ এটিকে বিশ্বকাপ উপলক্ষে সাধারণ শুভেচ্ছা বার্তা হিসেবেও ব্যাখ্যা করছেন।
বিশ্বকাপকে ঘিরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও ফুটবল উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। দেশের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াঙ্গনের অনেক পরিচিত ব্যক্তিত্বও নিজেদের প্রিয় দল নিয়ে খোলামেলা মত প্রকাশ করেন। সেই প্রেক্ষাপটে জাইমা রহমানের স্টোরিও বিশেষ আগ্রহের জন্ম দিয়েছে।
বাংলাদেশে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা নতুন কোনো বিষয় নয়। বিশ্বকাপ এলেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় পতাকা উত্তোলন, ব্যানার, ফেস্টুন এবং নানা আয়োজন চোখে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দুই দলের সমর্থকদের সরব উপস্থিতি দেখা যায়।
এমন পরিস্থিতিতে ব্রাজিল দলের ছবি ব্যবহার করে করা একটি পোস্ট সহজেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে পোস্টটিতে ব্যবহৃত গান এবং ক্যাপশনকে ঘিরে নানা ধরনের ব্যাখ্যা সামনে আসছে।
তবে এখন পর্যন্ত জাইমা রহমান প্রকাশ্যে কোথাও নিজেকে ব্রাজিলের সমর্থক হিসেবে পরিচয় দেননি। তার স্টোরিতে ব্রাজিল দলের ছবি থাকলেও সেটিকে নিশ্চিত সমর্থনের প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মত দিয়েছেন অনেক পর্যবেক্ষক।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত পছন্দ, আগ্রহ কিংবা মুহূর্তের অনুভূতি প্রকাশে প্রায়ই বিভিন্ন ছবি, ভিডিও ও গান ব্যবহার করা হয়। অনেক সময় এসব পোস্টের ভিন্ন ভিন্ন অর্থ খুঁজে নেন অনুসারীরা। জাইমা রহমানের এই স্টোরির ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছেন অনেকে।
বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিলকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, সেই আবহও এই আলোচনাকে আরও উসকে দিয়েছে। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল হিসেবে ব্রাজিলের জনপ্রিয়তা এখনও তুঙ্গে। ফলে ব্রাজিল-সংশ্লিষ্ট যে কোনো পোস্ট দ্রুত ভাইরাল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই ব্রাজিলের বিশাল সমর্থকগোষ্ঠী রয়েছে। ফুটবলের সৌন্দর্য, আক্রমণাত্মক খেলার ধরণ এবং অতীতের সাফল্যের কারণে দেশটিতে ব্রাজিলের জনপ্রিয়তা অন্য অনেক দেশের তুলনায় বেশি। ফলে জাইমা রহমানের স্টোরিটি ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।
অনেক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, বিশ্বকাপের আগে এমন একটি পোস্ট তাদের উৎসাহিত করেছে। কেউ কেউ এটিকে ব্রাজিল ভক্তদের জন্য শুভকামনার বার্তা হিসেবেও দেখছেন। আবার অনেকেই মজা করে লিখছেন, দেশের পরিচিত ব্যক্তিদের মধ্যেও ব্রাজিল সমর্থক বাড়ছে।
তবে অন্য একটি অংশ মনে করছে, একটি ছবি বা গান ব্যবহার করলেই কাউকে নির্দিষ্ট দলের সমর্থক বলা যায় না। তাদের মতে, জাইমা রহমান হয়তো বিশ্বকাপের আবহকে সামনে রেখে সাধারণভাবে ফুটবলপ্রেমীদের উদ্দেশে পোস্টটি শেয়ার করেছেন।
ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন আলোচনা প্রায়ই দেখা যায়। জনপ্রিয় ব্যক্তি বা জনপরিচিত মুখদের ছোট্ট একটি পোস্টও অনেক সময় বড় আলোচনার জন্ম দেয়। কারণ তাদের প্রতিটি কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে।
বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার প্রাক্কালে জাইমা রহমানের এই স্টোরি ঠিক তেমনই একটি আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তিনি সত্যিই ব্রাজিলের সমর্থক কি না, সে প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা। তবে একটি সাধারণ স্টোরি যে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে এতটা কৌতূহল তৈরি করতে পারে, সেটিই আবারও প্রমাণিত হলো।




























