ঢাকা ০৮:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo পরীমনিকে ঘিরে বড় সুখবর: ওটিটি প্ল্যাটফর্মে আসছে নতুন ওয়েব ফিল্ম ‘সেপারেশন’ Logo সাবালেঙ্কাকে হারিয়ে ইউএস ওপেনের নতুন রানী রিবাকিনা Logo লিভারপুলের হতাশার ড্র, চেলসিও পেল না জয় Logo মেসির গোলেও জয় পেল না ইন্টার মিয়ামি Logo এমবাপ্পের জোড়া গোলে রিয়ালের বড় জয় Logo শি জিনপিং কেন মোদির নৈশভোজে গেলেন না, জানুন আসল কারণ Logo স্কুল-কলেজে শিক্ষকদের রাজনীতিমুক্ত রাখা, ক্লাস লাইভ মনিটরিং: ১৫ নির্দেশনায় কী বদলাবে? Logo ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে প্রবাসীদের পোস্টাল ভোটের নিবন্ধন Logo চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে শিশুর মৃত্যু, নতুন ভর্তি ৫৪ Logo প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে চাকরির সুযোগ: ৮ পদে নিয়োগ, বেতন সর্বোচ্চ ৫৩ হাজার টাকা

বিশ্বকাপ উদ্বোধনী ম্যাচেই ইতিহাস, ৩ লাল কার্ডের রেকর্ড

মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর পর্দা উঠেছে দারুণ নাটকীয় এক ম্যাচ দিয়ে। স্বাগতিক মেক্সিকো উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টে শুভ সূচনা করেছে। তবে জয়ের চেয়েও বেশি আলোচনায় এসেছে ম্যাচে দেখানো তিনটি লাল কার্ড, যা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি শুরু থেকেই ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। গ্যালারিভর্তি দর্শকদের সামনে নিজেদের শক্তি ও আত্মবিশ্বাসের প্রমাণ দিতে মরিয়া ছিল স্বাগতিক মেক্সিকো। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকাও চেয়েছিল চমক দেখাতে।

ম্যাচের শুরুতে দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করে। তবে ধীরে ধীরে বলের দখল এবং আক্রমণের ধার বাড়াতে থাকে মেক্সিকো। তাদের আক্রমণভাগের গতির সঙ্গে তাল মেলাতে বেশ বেগ পেতে হয় দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণভাগকে।

প্রথমার্ধে মেক্সিকোর একাধিক আক্রমণ দক্ষিণ আফ্রিকার ডিফেন্স সামাল দিলেও শেষ পর্যন্ত চাপ ধরে রাখতে পারেনি তারা। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত আসে যখন দক্ষিণ আফ্রিকার ডিফেন্ডার স্পেপেলো সিথোলের একটি ভুলের সুযোগ নেন মেক্সিকোর ফরোয়ার্ড হুলিয়ান কুইনোনেস।

সুযোগটি কাজে লাগিয়ে কুইনোনেস বল জালে পাঠান এবং বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে প্রথম গোলের আনন্দে ভাসান স্বাগতিক সমর্থকদের। এই গোলের পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে মেক্সিকো। বিপরীতে চাপে পড়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়লেও বিরতির পর সমতায় ফেরার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামে দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় ৪৯ মিনিটে। ব্রায়ান গুতিয়েরেজকে কঠোর ট্যাকল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন ডিফেন্ডার স্পেপেলো সিথোলে।

রেফারি কোনো দ্বিধা না করে তাকে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দেন। ফলে পুরো দ্বিতীয়ার্ধের বড় একটি অংশ ১০ জন নিয়ে খেলতে বাধ্য হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। এতে ম্যাচে ফেরার তাদের সম্ভাবনা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে লাল কার্ডের ঘটনা খুবই বিরল। এর আগে সর্বশেষ এমন ঘটনা ঘটেছিল ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত সেই আসরে জার্মানির বিপক্ষে বলিভিয়ার মিডফিল্ডার মার্কো এচেভেরি লাল কার্ড দেখেছিলেন।

৩২ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে একজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখলেন। কিন্তু নাটক এখানেই শেষ হয়নি। বরং ম্যাচ যত এগিয়েছে, উত্তেজনা তত বেড়েছে।

একজন কম নিয়ে খেললেও দক্ষিণ আফ্রিকা কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করছিল। কিন্তু মেক্সিকো সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে আরও আক্রমণ বাড়ায়। তাদের ধারাবাহিক চাপের ফল আসে ম্যাচের ৬৭তম মিনিটে।

ডান দিক থেকে রবার্তো আলভারাদোর নিখুঁত ক্রস বক্সের ভেতরে পেয়ে দুর্দান্ত হেড করেন অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রাউল হিমেনেজ। দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক চেষ্টা করেও বল ঠেকাতে পারেননি। ফলে ব্যবধান দাঁড়ায় ২-০।

এই গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় মেক্সিকো। স্টেডিয়ামে তখন উৎসবের আমেজ। দর্শকরা বুঝতে শুরু করেন যে উদ্বোধনী ম্যাচে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে যাচ্ছে তাদের দল।

তবে ম্যাচের শেষদিকে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ৮৪ মিনিটে একটি সংঘর্ষের ঘটনায় ভিএআরের সাহায্য নেন ম্যাচ রেফারি। রিপ্লে দেখে নিশ্চিত হওয়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকার থেম্বা জোয়ানেকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়।

আলভারাদোর মুখে কনুই মারার অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকা তখন মাত্র নয়জন খেলোয়াড় নিয়ে মাঠে লড়াই চালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। ম্যাচে তাদের সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে যায়।

দুই লাল কার্ডে দক্ষিণ আফ্রিকার হতাশা বাড়লেও নাটকের শেষ অধ্যায় তখনও বাকি ছিল। নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে আরেকটি কঠোর ট্যাকলের ঘটনায় আবারও রেফারির পকেট থেকে বেরিয়ে আসে লাল কার্ড।

মেক্সিকোর ডিফেন্ডার সিজার মন্টেস পেনাল্টি বক্সের ঠিক বাইরে খুলিসা মুদাউকে বিপজ্জনকভাবে ট্যাকল করেন। ঘটনাটি দেখে রেফারি সরাসরি তাকে লাল কার্ড দেখান এবং মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন।

ফলে ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার আগেই তিনটি লাল কার্ডের সাক্ষী হয়ে যায় ফুটবল বিশ্ব। দক্ষিণ আফ্রিকা নয়জন এবং মেক্সিকো ১০ জন নিয়ে ম্যাচ শেষ করে। এমন দৃশ্য বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে আগে কখনো দেখা যায়নি।

ফিফার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো উদ্বোধনী ম্যাচে আগে তিনটি লাল কার্ড দেখানো হয়নি। সেই হিসেবে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচই রেকর্ড বইয়ে নিজের জায়গা নিশ্চিত করে ফেলেছে।

মেক্সিকোর জন্য এই জয় শুধু তিন পয়েন্টই এনে দেয়নি, বরং গ্রুপ-এ থেকে নকআউট পর্বে ওঠার পথে বড় সুবিধাও তৈরি করেছে। প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়ায় আত্মবিশ্বাস নিয়ে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে নামতে পারবে দলটি।

অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য এটি ছিল হতাশাজনক এক শুরু। পরাজয়ের পাশাপাশি দুই খেলোয়াড়ের লাল কার্ড তাদের পরবর্তী ম্যাচের পরিকল্পনাকেও কঠিন করে তুলবে। দলের কোচিং স্টাফকে এখন নতুন করে কৌশল সাজাতে হবে।

ম্যাচ শেষে মেক্সিকোর খেলোয়াড়রা জয় উদযাপনে মেতে উঠলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল রেফারিং এবং লাল কার্ডের ঘটনাগুলো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ সাধারণত উৎসবমুখর পরিবেশ এবং ফুটবলীয় সৌন্দর্যের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকে। কিন্তু ২০২৬ আসরের প্রথম ম্যাচ ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে অন্য এক কারণে। তিনটি লাল কার্ডের নজির গড়ে বিশ্বকাপের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার এই লড়াই।

টুর্নামেন্টের শুরুতেই এমন নাটকীয় ম্যাচ ফুটবলপ্রেমীদের সামনে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এবারের বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে রোমাঞ্চে ভরপুর। সামনের দিনগুলোতে আরও চমক, উত্তেজনা এবং ইতিহাসের অপেক্ষায় থাকবে বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবল সমর্থক।

জনপ্রিয় সংবাদ

পরীমনিকে ঘিরে বড় সুখবর: ওটিটি প্ল্যাটফর্মে আসছে নতুন ওয়েব ফিল্ম ‘সেপারেশন’

বিশ্বকাপ উদ্বোধনী ম্যাচেই ইতিহাস, ৩ লাল কার্ডের রেকর্ড

Update Time : ১২:২০:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর পর্দা উঠেছে দারুণ নাটকীয় এক ম্যাচ দিয়ে। স্বাগতিক মেক্সিকো উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টে শুভ সূচনা করেছে। তবে জয়ের চেয়েও বেশি আলোচনায় এসেছে ম্যাচে দেখানো তিনটি লাল কার্ড, যা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি শুরু থেকেই ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। গ্যালারিভর্তি দর্শকদের সামনে নিজেদের শক্তি ও আত্মবিশ্বাসের প্রমাণ দিতে মরিয়া ছিল স্বাগতিক মেক্সিকো। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকাও চেয়েছিল চমক দেখাতে।

ম্যাচের শুরুতে দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করে। তবে ধীরে ধীরে বলের দখল এবং আক্রমণের ধার বাড়াতে থাকে মেক্সিকো। তাদের আক্রমণভাগের গতির সঙ্গে তাল মেলাতে বেশ বেগ পেতে হয় দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণভাগকে।

প্রথমার্ধে মেক্সিকোর একাধিক আক্রমণ দক্ষিণ আফ্রিকার ডিফেন্স সামাল দিলেও শেষ পর্যন্ত চাপ ধরে রাখতে পারেনি তারা। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত আসে যখন দক্ষিণ আফ্রিকার ডিফেন্ডার স্পেপেলো সিথোলের একটি ভুলের সুযোগ নেন মেক্সিকোর ফরোয়ার্ড হুলিয়ান কুইনোনেস।

সুযোগটি কাজে লাগিয়ে কুইনোনেস বল জালে পাঠান এবং বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে প্রথম গোলের আনন্দে ভাসান স্বাগতিক সমর্থকদের। এই গোলের পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে মেক্সিকো। বিপরীতে চাপে পড়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়লেও বিরতির পর সমতায় ফেরার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামে দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় ৪৯ মিনিটে। ব্রায়ান গুতিয়েরেজকে কঠোর ট্যাকল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন ডিফেন্ডার স্পেপেলো সিথোলে।

আরও পড়ুন  বিশ্বকাপ না জিতেও কিংবদন্তি: যাদের ভুলতে পারেনি ফুটবল

রেফারি কোনো দ্বিধা না করে তাকে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দেন। ফলে পুরো দ্বিতীয়ার্ধের বড় একটি অংশ ১০ জন নিয়ে খেলতে বাধ্য হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। এতে ম্যাচে ফেরার তাদের সম্ভাবনা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে লাল কার্ডের ঘটনা খুবই বিরল। এর আগে সর্বশেষ এমন ঘটনা ঘটেছিল ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত সেই আসরে জার্মানির বিপক্ষে বলিভিয়ার মিডফিল্ডার মার্কো এচেভেরি লাল কার্ড দেখেছিলেন।

৩২ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে একজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখলেন। কিন্তু নাটক এখানেই শেষ হয়নি। বরং ম্যাচ যত এগিয়েছে, উত্তেজনা তত বেড়েছে।

একজন কম নিয়ে খেললেও দক্ষিণ আফ্রিকা কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করছিল। কিন্তু মেক্সিকো সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে আরও আক্রমণ বাড়ায়। তাদের ধারাবাহিক চাপের ফল আসে ম্যাচের ৬৭তম মিনিটে।

ডান দিক থেকে রবার্তো আলভারাদোর নিখুঁত ক্রস বক্সের ভেতরে পেয়ে দুর্দান্ত হেড করেন অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রাউল হিমেনেজ। দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক চেষ্টা করেও বল ঠেকাতে পারেননি। ফলে ব্যবধান দাঁড়ায় ২-০।

এই গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় মেক্সিকো। স্টেডিয়ামে তখন উৎসবের আমেজ। দর্শকরা বুঝতে শুরু করেন যে উদ্বোধনী ম্যাচে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে যাচ্ছে তাদের দল।

আরও পড়ুন  মেসির সামনে ডাবল মুকুট, ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে এই মহাতারকা

তবে ম্যাচের শেষদিকে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ৮৪ মিনিটে একটি সংঘর্ষের ঘটনায় ভিএআরের সাহায্য নেন ম্যাচ রেফারি। রিপ্লে দেখে নিশ্চিত হওয়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকার থেম্বা জোয়ানেকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়।

আলভারাদোর মুখে কনুই মারার অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকা তখন মাত্র নয়জন খেলোয়াড় নিয়ে মাঠে লড়াই চালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। ম্যাচে তাদের সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে যায়।

দুই লাল কার্ডে দক্ষিণ আফ্রিকার হতাশা বাড়লেও নাটকের শেষ অধ্যায় তখনও বাকি ছিল। নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে আরেকটি কঠোর ট্যাকলের ঘটনায় আবারও রেফারির পকেট থেকে বেরিয়ে আসে লাল কার্ড।

মেক্সিকোর ডিফেন্ডার সিজার মন্টেস পেনাল্টি বক্সের ঠিক বাইরে খুলিসা মুদাউকে বিপজ্জনকভাবে ট্যাকল করেন। ঘটনাটি দেখে রেফারি সরাসরি তাকে লাল কার্ড দেখান এবং মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন।

ফলে ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার আগেই তিনটি লাল কার্ডের সাক্ষী হয়ে যায় ফুটবল বিশ্ব। দক্ষিণ আফ্রিকা নয়জন এবং মেক্সিকো ১০ জন নিয়ে ম্যাচ শেষ করে। এমন দৃশ্য বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে আগে কখনো দেখা যায়নি।

ফিফার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো উদ্বোধনী ম্যাচে আগে তিনটি লাল কার্ড দেখানো হয়নি। সেই হিসেবে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচই রেকর্ড বইয়ে নিজের জায়গা নিশ্চিত করে ফেলেছে।

আরও পড়ুন  ফ্রান্সকে হারিয়ে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করল ইংল্যান্ড

মেক্সিকোর জন্য এই জয় শুধু তিন পয়েন্টই এনে দেয়নি, বরং গ্রুপ-এ থেকে নকআউট পর্বে ওঠার পথে বড় সুবিধাও তৈরি করেছে। প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়ায় আত্মবিশ্বাস নিয়ে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে নামতে পারবে দলটি।

অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য এটি ছিল হতাশাজনক এক শুরু। পরাজয়ের পাশাপাশি দুই খেলোয়াড়ের লাল কার্ড তাদের পরবর্তী ম্যাচের পরিকল্পনাকেও কঠিন করে তুলবে। দলের কোচিং স্টাফকে এখন নতুন করে কৌশল সাজাতে হবে।

ম্যাচ শেষে মেক্সিকোর খেলোয়াড়রা জয় উদযাপনে মেতে উঠলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল রেফারিং এবং লাল কার্ডের ঘটনাগুলো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ সাধারণত উৎসবমুখর পরিবেশ এবং ফুটবলীয় সৌন্দর্যের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকে। কিন্তু ২০২৬ আসরের প্রথম ম্যাচ ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে অন্য এক কারণে। তিনটি লাল কার্ডের নজির গড়ে বিশ্বকাপের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার এই লড়াই।

টুর্নামেন্টের শুরুতেই এমন নাটকীয় ম্যাচ ফুটবলপ্রেমীদের সামনে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এবারের বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে রোমাঞ্চে ভরপুর। সামনের দিনগুলোতে আরও চমক, উত্তেজনা এবং ইতিহাসের অপেক্ষায় থাকবে বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবল সমর্থক।