হাম প্রতিকার নিয়ে সচেতনতা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশে এখনো হামের সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বিভিন্ন হাসপাতালে প্রতিদিন নতুন আক্রান্ত শিশুর খোঁজ মিলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলমান টিকাদান কর্মসূচির কারণে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার আশা থাকলেও অভিভাবকদের আরও কিছুদিন সতর্ক থাকতে হবে।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। এটি মিজলস ভাইরাসের কারণে হয়ে থাকে, যা আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি, হাঁচি বা ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত সংক্রমণের ৮ থেকে ১২ দিনের মধ্যে রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়।
হামের প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে উচ্চমাত্রার জ্বর, শুকনো কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগ দেখা দেওয়া। পরে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি ওঠে, যা সাধারণত মুখ থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম খুব সহজেই একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তি লক্ষণ প্রকাশের কয়েক দিন আগেই অন্যকে সংক্রমিত করতে পারেন। এমনকি কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে বাতাসে ছড়িয়ে থাকা ভাইরাসও দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সংক্রমণ ঘটাতে সক্ষম।
হাম প্রতিকার হিসেবে নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই। আক্রান্ত শিশুকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার এবং পর্যাপ্ত তরল খাবার দিতে হয়। জ্বর নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল ব্যবহার করা যেতে পারে। রোগের জটিলতা কমাতে ভিটামিন-এ ক্যাপসুলও দেওয়া হয়।
তবে হাম অনেক সময় নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, কানের সংক্রমণ কিংবা মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। শিশুর শ্বাসকষ্ট, ঘন ঘন বমি, খিঁচুনি, অতিরিক্ত দুর্বলতা বা খাবার গ্রহণে অনীহা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।
হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সময়মতো টিকা গ্রহণ। শিশুর বয়স ৯ মাস হলে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি নিয়মিত হাত ধোয়া, হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলা এবং আক্রান্ত শিশুকে কিছুদিন আলাদা রাখা সংক্রমণ কমাতে সহায়তা করে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করা গেলে হাম থেকে সৃষ্ট অধিকাংশ জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। তাই শিশুর শরীরে জ্বর ও ফুসকুড়ি দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।





























