রাশিয়ার নতুন হামলায় আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ইউক্রেনের পরিস্থিতি। রাজধানী কিয়েভ ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভে চালানো ধারাবাহিক হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। হামলার ফলে আবাসিক ভবন, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। নতুন এই হামলা চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কিয়েভে রুশ হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। হামলার পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা হয়। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে কাজ করছে জরুরি সেবা বিভাগ ও উদ্ধারকারী দল। শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
অন্যদিকে খারকিভে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। সেখানে হামলার পর সৃষ্ট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে পাঁচজন উদ্ধারকর্মী প্রাণ হারান। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুন নেভানোর সময় নতুন করে হামলার শিকার হন তারা। এতে কয়েকজন আহতও হয়েছেন। যুদ্ধক্ষেত্রে উদ্ধারকর্মীদের মৃত্যু আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো যুদ্ধকালীন জরুরি সেবাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
এই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইউক্রেনের ঐতিহাসিক ডরমিশন ক্যাথেড্রাল। শতাব্দীপ্রাচীন এই ধর্মীয় স্থাপনাটি কিয়েভ পেচেরস্ক লাভরা মঠের অংশ এবং দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রতীক। হামলার পর ক্যাথেড্রালের কিছু অংশে আগুন লাগে এবং কাঠামোগত ক্ষতি হয় বলে জানা গেছে। ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া স্ভিরিডেঙ্কো বলেছেন, এটি শুধু একটি স্থাপনার ওপর হামলা নয়, বরং ইউক্রেনের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং জাতীয় পরিচয়ের ওপর আঘাত। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে রাশিয়ার অভ্যন্তরেও পাল্টা ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। মস্কোর দক্ষিণে অবস্থিত তুলা অঞ্চলে চালানো এক ড্রোন হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, হামলার কারণে কয়েকটি ভবন ও যানবাহনে আগুন ধরে যায়। যদিও হামলার দায় আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ স্বীকার করেনি, তবে রাশিয়া এ ঘটনার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করেছে। এতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
সাম্প্রতিক হামলার প্রভাবে কিয়েভের প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন। বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, দেশের নিরাপত্তা ও জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার সাম্প্রতিক আলোচনা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। তবে জি-৭ বৈঠকের আগে সংঘটিত এই হামলাগুলো যুদ্ধের দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।



























