ঢাকা ১১:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বৃহস্পতিবার স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ দেবেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী Logo ৭১১ কোটি রুপিতে পুরো আবাসিক টাওয়ার কিনলেন দীনেশ ঠক্কর Logo উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা বাড়ানোর সুপারিশ Logo ঢাকাসহ ১৫ জেলায় ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির শঙ্কা Logo কাজিপুরে আফজাল হোসেন স্মৃতি আন্তঃইউনিয়ন ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত Logo গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিক্ষোভ মিছিল গাজীপুর Logo উত্তরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা Logo ইউপি নির্বাচনের নতুন বিধিমালা চূড়ান্ত, হুমকি দিলে শাস্তি Logo আসিয়ান কাপের প্রতিপক্ষ নিয়ে হামজা বললেন, ‘কাউকে ভয় পেতে আসিনি’ Logo নার্সিং কর্মীদের পদোন্নতির প্রস্তুতি শুরু, কাগজ জমার শেষ সময় জানাল অধিদপ্তর

রাজবাড়ীতে পাটক্ষেত থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

আসাদুল ইসলাম ছবি: সংগৃহীত

রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় এক যুবকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার বিলমানুষমারি গ্রামে একটি পাটক্ষেত থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় আসাদুল ইসলাম (২৫) নামে ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৫ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে স্থানীয়দের দেওয়া সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় শোক, উদ্বেগ এবং নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে এই রহস্যজনক মৃত্যু।

নিহত আসাদুল ইসলাম বিলমানুষমারি গ্রামের শাহজাহান মন্ডলের ছেলে। তিনি মীর মশাররফ হোসেন সরকারি ডিগ্রি কলেজের একজন শিক্ষার্থী ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি এলাকায় শান্ত স্বভাবের ও পরিচিত একজন তরুণ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যু পরিবার, বন্ধু-বান্ধব এবং স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, রবিবার দুপুরের দিকে আসাদুল বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন আত্মীয়স্বজন ও পরিচিত স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। রাত বাড়লেও তিনি বাড়ি ফিরে না আসায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে পরিবার। পরে রাত ১০টার দিকে বিষয়টি কালুখালী থানা পুলিশকে জানানো হয়।

সোমবার সকালে সূর্যদিয়া মাদ্রাসার পাশের একটি পাটক্ষেতে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় কয়েকজন পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মরদেহের হাত-পা বাঁধা ছিল এবং শরীরের কিছু অংশে পোড়ার চিহ্ন দেখা গেছে। ঘটনাস্থলের আলামত দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যার পর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল।

খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। এলাকাবাসীর অনেকেই বলছেন, এমন নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া জরুরি, যাতে প্রকৃত অপরাধীরা আইনের আওতায় আসে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্কও বিরাজ করছে।

জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতারা দাবি করেছেন, আসাদুল ইসলাম সংগঠনের একজন কর্মী ছিলেন। তবে তার মৃত্যুর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক বিষয় জড়িত কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য নিশ্চিত করেনি পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে বলে জানিয়েছে।

কালুখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে এটি একটি হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা মরদেহ উদ্ধার করেছি এবং ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছি। কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে এবং কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করা হবে।’ তিনি আরও জানান, মরদেহের কিছু অংশে পোড়ার চিহ্ন থাকায় বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত তথ্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে আসাদুল ইসলামের পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছে। তাদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন। স্থানীয়রাও একই দাবি জানিয়ে ঘটনার দ্রুত সমাধান প্রত্যাশা করছেন।

রাজবাড়ীর এই ঘটনাটি স্থানীয় জনমনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশের পরই হয়তো মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হবে। তবে এরই মধ্যে একটি বিষয় স্পষ্ট—এক তরুণ শিক্ষার্থীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যু পুরো এলাকাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

বৃহস্পতিবার স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ দেবেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী

রাজবাড়ীতে পাটক্ষেত থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

Update Time : ১২:৩৮:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় এক যুবকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার বিলমানুষমারি গ্রামে একটি পাটক্ষেত থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় আসাদুল ইসলাম (২৫) নামে ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৫ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে স্থানীয়দের দেওয়া সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় শোক, উদ্বেগ এবং নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে এই রহস্যজনক মৃত্যু।

নিহত আসাদুল ইসলাম বিলমানুষমারি গ্রামের শাহজাহান মন্ডলের ছেলে। তিনি মীর মশাররফ হোসেন সরকারি ডিগ্রি কলেজের একজন শিক্ষার্থী ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি এলাকায় শান্ত স্বভাবের ও পরিচিত একজন তরুণ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যু পরিবার, বন্ধু-বান্ধব এবং স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, রবিবার দুপুরের দিকে আসাদুল বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন আত্মীয়স্বজন ও পরিচিত স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। রাত বাড়লেও তিনি বাড়ি ফিরে না আসায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে পরিবার। পরে রাত ১০টার দিকে বিষয়টি কালুখালী থানা পুলিশকে জানানো হয়।

আরও পড়ুন  তথ্যমন্ত্রীর নামে ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও পেজ, সতর্ক থাকার আহ্বান

সোমবার সকালে সূর্যদিয়া মাদ্রাসার পাশের একটি পাটক্ষেতে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় কয়েকজন পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মরদেহের হাত-পা বাঁধা ছিল এবং শরীরের কিছু অংশে পোড়ার চিহ্ন দেখা গেছে। ঘটনাস্থলের আলামত দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যার পর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল।

খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। এলাকাবাসীর অনেকেই বলছেন, এমন নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া জরুরি, যাতে প্রকৃত অপরাধীরা আইনের আওতায় আসে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্কও বিরাজ করছে।

আরও পড়ুন  গাঁজাসহ আটক স্বামী: কারাগারে সাক্ষাতে নতুন তথ্য

জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতারা দাবি করেছেন, আসাদুল ইসলাম সংগঠনের একজন কর্মী ছিলেন। তবে তার মৃত্যুর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক বিষয় জড়িত কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য নিশ্চিত করেনি পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে বলে জানিয়েছে।

কালুখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে এটি একটি হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা মরদেহ উদ্ধার করেছি এবং ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছি। কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে এবং কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করা হবে।’ তিনি আরও জানান, মরদেহের কিছু অংশে পোড়ার চিহ্ন থাকায় বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  আ স ম ফিরোজ: নতুন দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ

পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত তথ্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে আসাদুল ইসলামের পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছে। তাদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন। স্থানীয়রাও একই দাবি জানিয়ে ঘটনার দ্রুত সমাধান প্রত্যাশা করছেন।

রাজবাড়ীর এই ঘটনাটি স্থানীয় জনমনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশের পরই হয়তো মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হবে। তবে এরই মধ্যে একটি বিষয় স্পষ্ট—এক তরুণ শিক্ষার্থীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যু পুরো এলাকাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।