ঢাকা ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ৫ আগস্ট কেন ‘৩৬ জুলাই’? Logo জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে জাতির উদ্দেশে যা বলেছিলেন ড. ইউনূস Logo আজ ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর Logo চট্টগ্রামে একদিনে ঘুরুন যে ৬ মনোমুগ্ধকর সমুদ্রসৈকতে Logo অবিশ্বাস্য রেকর্ড! নাথান থমাস বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ অধ্যাপক হলেন Logo ম্রুণাল ঠাকুরের কঠোর সতর্কবার্তা: AI ডিপফেক অপব্যবহারে আইনি ব্যবস্থা Logo রিজভীর বিস্ফোরক দাবি: জনগণের পারমাণবিক শক্তিতে ফ্যাসিবাদের পতন Logo বিপজ্জনক গ্রহাণু প্রতিরোধ: বিজ্ঞানীদের শক্তিশালী নতুন পরিকল্পনা Logo টানা দুই সপ্তাহ নিয়মিত ডিম খেলে শরীরে যেসব পরিবর্তন আসে Logo টেলিগ্রাম অ্যাপ স্টোর: হঠাৎ উধাও, অবশেষে সামনে এলো বড় কারণ?

ফুটবলকে আমেরিকানরা সকার বলে কেন

  • Mir Yeaz Mahmud
  • Update Time : ০১:৫২:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
  • ৫৪২

ফুটবলকে কেন সকার বলা হয়, তার পেছনের ইতিহাস ও উৎপত্তি। ছবি: সংগৃহীত।

সকার শব্দের ইতিহাস নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের কৌতূহলের শেষ নেই। ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হওয়ায় আবারও আলোচনায় এসেছে একটি পুরোনো বিতর্ক—বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ যে খেলাকে ‘ফুটবল’ বলে, যুক্তরাষ্ট্রে সেটিকে কেন ‘সকার’ বলা হয়?

অনেকের ধারণা, ‘সকার’ শব্দটি যুক্তরাষ্ট্রের সৃষ্টি। তবে ইতিহাস বলছে ভিন্ন কথা। মজার বিষয় হলো, শব্দটির জন্ম হয়েছিল ইংল্যান্ডেই। উনিশ শতকের শেষ দিকে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শব্দ সংক্ষিপ্ত করে বলার একটি বিশেষ প্রবণতা ছিল। তারা বিভিন্ন শব্দের শেষে ‘আর’ বা ‘এর’ ধ্বনি যোগ করে নতুন রূপ তৈরি করতেন।

ফুটবলের আনুষ্ঠানিক নাম ছিল ‘অ্যাসোসিয়েশন ফুটবল’। ১৮৬৩ সালে ফুটবলের নিয়মকানুন নির্ধারণের পর এই নামটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতে শুরু করে। অক্সফোর্ডের শিক্ষার্থীরা ‘অ্যাসোসিয়েশন’ শব্দটিকে সংক্ষেপে ‘অ্যাসক’ বলতেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটি পরিবর্তিত হয়ে ‘সকার’ রূপ লাভ করে। একই সময়ে ‘রাগবি ফুটবল’ থেকে ‘রাগার’ শব্দও তৈরি হয়েছিল, যদিও সেটি জনপ্রিয়তা পায়নি।

বর্তমানে অনেক ব্রিটিশ সমর্থক ‘সকার’ শব্দটি অপছন্দ করলেও একসময় ব্রিটেনেই এটি খুব সাধারণভাবে ব্যবহৃত হতো। ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক পরাজয়ের সংবাদে ব্রিটিশ পত্রিকাগুলো ‘সকার’ শব্দ ব্যবহার করেছিল। এমনকি ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি কোচ আলফ রামসেও তাঁর লেখায় এই শব্দ ব্যবহার করেছেন। ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ জয়ের সময়ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ‘সকার’ শব্দ দেখা গেছে।

তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে শব্দটি টিকে গেল কেন? এর মূল কারণ বিভ্রান্তি এড়ানো। যুক্তরাষ্ট্রে ‘ফুটবল’ বলতে সাধারণত আমেরিকান ফুটবলকে বোঝানো হয়, যা ডিম্বাকৃতির বল হাতে নিয়ে খেলা হয়। ফলে দুই খেলাকে আলাদা করতে ‘সকার’ শব্দটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং ধীরে ধীরে সেটিই প্রচলিত নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও জাপানেও ‘সকার’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়। যদিও এসব দেশের অনেক মানুষ ‘ফুটবল’ শব্দটিও ব্যবহার করেন।

ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। ভাষা ও অঞ্চলের ভিন্নতায় এর নাম বদলালেও খেলাটির প্রতি মানুষের ভালোবাসা একই রয়ে গেছে। তাই বলা যায়, ‘সকার’ শব্দটিকে আজ আমেরিকান সংস্কৃতির অংশ মনে হলেও এর শিকড় আসলে ইংল্যান্ডের ইতিহাসে প্রোথিত।

৫ আগস্ট কেন ‘৩৬ জুলাই’?

ফুটবলকে আমেরিকানরা সকার বলে কেন

Update Time : ০১:৫২:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

সকার শব্দের ইতিহাস নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের কৌতূহলের শেষ নেই। ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হওয়ায় আবারও আলোচনায় এসেছে একটি পুরোনো বিতর্ক—বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ যে খেলাকে ‘ফুটবল’ বলে, যুক্তরাষ্ট্রে সেটিকে কেন ‘সকার’ বলা হয়?

অনেকের ধারণা, ‘সকার’ শব্দটি যুক্তরাষ্ট্রের সৃষ্টি। তবে ইতিহাস বলছে ভিন্ন কথা। মজার বিষয় হলো, শব্দটির জন্ম হয়েছিল ইংল্যান্ডেই। উনিশ শতকের শেষ দিকে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শব্দ সংক্ষিপ্ত করে বলার একটি বিশেষ প্রবণতা ছিল। তারা বিভিন্ন শব্দের শেষে ‘আর’ বা ‘এর’ ধ্বনি যোগ করে নতুন রূপ তৈরি করতেন।

আরও পড়ুন  চাপ আর্জেন্টিনার, দাবি ইংলিশ ডিফেন্ডার গেহির | বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের বড় বার্তা

ফুটবলের আনুষ্ঠানিক নাম ছিল ‘অ্যাসোসিয়েশন ফুটবল’। ১৮৬৩ সালে ফুটবলের নিয়মকানুন নির্ধারণের পর এই নামটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতে শুরু করে। অক্সফোর্ডের শিক্ষার্থীরা ‘অ্যাসোসিয়েশন’ শব্দটিকে সংক্ষেপে ‘অ্যাসক’ বলতেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটি পরিবর্তিত হয়ে ‘সকার’ রূপ লাভ করে। একই সময়ে ‘রাগবি ফুটবল’ থেকে ‘রাগার’ শব্দও তৈরি হয়েছিল, যদিও সেটি জনপ্রিয়তা পায়নি।

বর্তমানে অনেক ব্রিটিশ সমর্থক ‘সকার’ শব্দটি অপছন্দ করলেও একসময় ব্রিটেনেই এটি খুব সাধারণভাবে ব্যবহৃত হতো। ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক পরাজয়ের সংবাদে ব্রিটিশ পত্রিকাগুলো ‘সকার’ শব্দ ব্যবহার করেছিল। এমনকি ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি কোচ আলফ রামসেও তাঁর লেখায় এই শব্দ ব্যবহার করেছেন। ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ জয়ের সময়ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ‘সকার’ শব্দ দেখা গেছে।

আরও পড়ুন  শুল্কে চাপ: বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের প্রভাব

তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে শব্দটি টিকে গেল কেন? এর মূল কারণ বিভ্রান্তি এড়ানো। যুক্তরাষ্ট্রে ‘ফুটবল’ বলতে সাধারণত আমেরিকান ফুটবলকে বোঝানো হয়, যা ডিম্বাকৃতির বল হাতে নিয়ে খেলা হয়। ফলে দুই খেলাকে আলাদা করতে ‘সকার’ শব্দটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং ধীরে ধীরে সেটিই প্রচলিত নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও জাপানেও ‘সকার’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়। যদিও এসব দেশের অনেক মানুষ ‘ফুটবল’ শব্দটিও ব্যবহার করেন।

আরও পড়ুন  ২০৩০ বিশ্বকাপ: সরাসরি অংশ নেওয়া ৬ দেশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। ভাষা ও অঞ্চলের ভিন্নতায় এর নাম বদলালেও খেলাটির প্রতি মানুষের ভালোবাসা একই রয়ে গেছে। তাই বলা যায়, ‘সকার’ শব্দটিকে আজ আমেরিকান সংস্কৃতির অংশ মনে হলেও এর শিকড় আসলে ইংল্যান্ডের ইতিহাসে প্রোথিত।