ঢাকা ১০:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বাংলাদেশের উন্নয়নে জাতিসংঘের আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা চায় সরকার Logo সৌরজগতের বাইরে বহির্গ্রহ থেকে রেডিও সংকেত শনাক্ত Logo মাত্র ৭ দিনে মনোযোগ বাড়াবেন যেভাবে, জানুন সহজ কৌশল Logo দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে এমপি জসীমের নেতৃত্বে চন্দনাইশে স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ Logo নতুন উপজেলায় সাতকানিয়ার ৬ ইউনিয়নের সাথে দোহাজারীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে: এমপি জসীম উদ্দীন আহমেদ Logo চন্দনাইশে গাছবাড়ীয়া সরকারি কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বাস উপহারের ঘোষণা এমপি জসীম উদ্দীন আহমেদের Logo ডিজিটাল ব্যাংকের প্রাথমিক অনুমোদন পেল বিকাশ-রবিসহ চার প্রতিষ্ঠান Logo সাবরেজিস্ট্রারের নির্দেশে ঘুষ, আদালতে দুই কর্মচারীর জবানবন্দি Logo মরিয়মের মৃত্যু মামলায় গাজী নজরুল ফের ৪ দিনের রিমান্ডে Logo থানার দরজা ভেঙে পালাল কিশোর গ্যাংয়ের ১৭ সদস্য

ফুটবলকে আমেরিকানরা সকার বলে কেন

ফুটবলকে কেন সকার বলা হয়, তার পেছনের ইতিহাস ও উৎপত্তি। ছবি: সংগৃহীত।

সকার শব্দের ইতিহাস নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের কৌতূহলের শেষ নেই। ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হওয়ায় আবারও আলোচনায় এসেছে একটি পুরোনো বিতর্ক—বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ যে খেলাকে ‘ফুটবল’ বলে, যুক্তরাষ্ট্রে সেটিকে কেন ‘সকার’ বলা হয়?

অনেকের ধারণা, ‘সকার’ শব্দটি যুক্তরাষ্ট্রের সৃষ্টি। তবে ইতিহাস বলছে ভিন্ন কথা। মজার বিষয় হলো, শব্দটির জন্ম হয়েছিল ইংল্যান্ডেই। উনিশ শতকের শেষ দিকে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শব্দ সংক্ষিপ্ত করে বলার একটি বিশেষ প্রবণতা ছিল। তারা বিভিন্ন শব্দের শেষে ‘আর’ বা ‘এর’ ধ্বনি যোগ করে নতুন রূপ তৈরি করতেন।

ফুটবলের আনুষ্ঠানিক নাম ছিল ‘অ্যাসোসিয়েশন ফুটবল’। ১৮৬৩ সালে ফুটবলের নিয়মকানুন নির্ধারণের পর এই নামটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতে শুরু করে। অক্সফোর্ডের শিক্ষার্থীরা ‘অ্যাসোসিয়েশন’ শব্দটিকে সংক্ষেপে ‘অ্যাসক’ বলতেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটি পরিবর্তিত হয়ে ‘সকার’ রূপ লাভ করে। একই সময়ে ‘রাগবি ফুটবল’ থেকে ‘রাগার’ শব্দও তৈরি হয়েছিল, যদিও সেটি জনপ্রিয়তা পায়নি।

বর্তমানে অনেক ব্রিটিশ সমর্থক ‘সকার’ শব্দটি অপছন্দ করলেও একসময় ব্রিটেনেই এটি খুব সাধারণভাবে ব্যবহৃত হতো। ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক পরাজয়ের সংবাদে ব্রিটিশ পত্রিকাগুলো ‘সকার’ শব্দ ব্যবহার করেছিল। এমনকি ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি কোচ আলফ রামসেও তাঁর লেখায় এই শব্দ ব্যবহার করেছেন। ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ জয়ের সময়ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ‘সকার’ শব্দ দেখা গেছে।

তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে শব্দটি টিকে গেল কেন? এর মূল কারণ বিভ্রান্তি এড়ানো। যুক্তরাষ্ট্রে ‘ফুটবল’ বলতে সাধারণত আমেরিকান ফুটবলকে বোঝানো হয়, যা ডিম্বাকৃতির বল হাতে নিয়ে খেলা হয়। ফলে দুই খেলাকে আলাদা করতে ‘সকার’ শব্দটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং ধীরে ধীরে সেটিই প্রচলিত নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও জাপানেও ‘সকার’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়। যদিও এসব দেশের অনেক মানুষ ‘ফুটবল’ শব্দটিও ব্যবহার করেন।

ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। ভাষা ও অঞ্চলের ভিন্নতায় এর নাম বদলালেও খেলাটির প্রতি মানুষের ভালোবাসা একই রয়ে গেছে। তাই বলা যায়, ‘সকার’ শব্দটিকে আজ আমেরিকান সংস্কৃতির অংশ মনে হলেও এর শিকড় আসলে ইংল্যান্ডের ইতিহাসে প্রোথিত।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের উন্নয়নে জাতিসংঘের আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা চায় সরকার

ফুটবলকে আমেরিকানরা সকার বলে কেন

Update Time : ০১:৫২:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

সকার শব্দের ইতিহাস নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের কৌতূহলের শেষ নেই। ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হওয়ায় আবারও আলোচনায় এসেছে একটি পুরোনো বিতর্ক—বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ যে খেলাকে ‘ফুটবল’ বলে, যুক্তরাষ্ট্রে সেটিকে কেন ‘সকার’ বলা হয়?

অনেকের ধারণা, ‘সকার’ শব্দটি যুক্তরাষ্ট্রের সৃষ্টি। তবে ইতিহাস বলছে ভিন্ন কথা। মজার বিষয় হলো, শব্দটির জন্ম হয়েছিল ইংল্যান্ডেই। উনিশ শতকের শেষ দিকে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শব্দ সংক্ষিপ্ত করে বলার একটি বিশেষ প্রবণতা ছিল। তারা বিভিন্ন শব্দের শেষে ‘আর’ বা ‘এর’ ধ্বনি যোগ করে নতুন রূপ তৈরি করতেন।

আরও পড়ুন  মার্কিন ভিসা স্থগিত: শুধু অভিবাসীদের জন্য

ফুটবলের আনুষ্ঠানিক নাম ছিল ‘অ্যাসোসিয়েশন ফুটবল’। ১৮৬৩ সালে ফুটবলের নিয়মকানুন নির্ধারণের পর এই নামটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতে শুরু করে। অক্সফোর্ডের শিক্ষার্থীরা ‘অ্যাসোসিয়েশন’ শব্দটিকে সংক্ষেপে ‘অ্যাসক’ বলতেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটি পরিবর্তিত হয়ে ‘সকার’ রূপ লাভ করে। একই সময়ে ‘রাগবি ফুটবল’ থেকে ‘রাগার’ শব্দও তৈরি হয়েছিল, যদিও সেটি জনপ্রিয়তা পায়নি।

বর্তমানে অনেক ব্রিটিশ সমর্থক ‘সকার’ শব্দটি অপছন্দ করলেও একসময় ব্রিটেনেই এটি খুব সাধারণভাবে ব্যবহৃত হতো। ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক পরাজয়ের সংবাদে ব্রিটিশ পত্রিকাগুলো ‘সকার’ শব্দ ব্যবহার করেছিল। এমনকি ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি কোচ আলফ রামসেও তাঁর লেখায় এই শব্দ ব্যবহার করেছেন। ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ জয়ের সময়ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ‘সকার’ শব্দ দেখা গেছে।

আরও পড়ুন  এআই নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের টানাপোড়েন, পক্ষ বাছাইয়ের চাপ

তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে শব্দটি টিকে গেল কেন? এর মূল কারণ বিভ্রান্তি এড়ানো। যুক্তরাষ্ট্রে ‘ফুটবল’ বলতে সাধারণত আমেরিকান ফুটবলকে বোঝানো হয়, যা ডিম্বাকৃতির বল হাতে নিয়ে খেলা হয়। ফলে দুই খেলাকে আলাদা করতে ‘সকার’ শব্দটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং ধীরে ধীরে সেটিই প্রচলিত নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও জাপানেও ‘সকার’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়। যদিও এসব দেশের অনেক মানুষ ‘ফুটবল’ শব্দটিও ব্যবহার করেন।

আরও পড়ুন  ইরানি জাহাজ জব্দ করার প্রস্তুতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী

ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। ভাষা ও অঞ্চলের ভিন্নতায় এর নাম বদলালেও খেলাটির প্রতি মানুষের ভালোবাসা একই রয়ে গেছে। তাই বলা যায়, ‘সকার’ শব্দটিকে আজ আমেরিকান সংস্কৃতির অংশ মনে হলেও এর শিকড় আসলে ইংল্যান্ডের ইতিহাসে প্রোথিত।