ঢাকা ০৯:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কোন শাক কেন খাবেন? ১২ শাকের অবিশ্বাস্য স্বাস্থ্যগুণ জানুন Logo বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে নতুন চিন্তা, বিষধর প্রাণী নিয়ে সতর্ক জার্মান ফুটবলাররা Logo মাত্র ২০ মিনিট প্রকৃতিতে বদলে যাবে আপনার শরীর ও মন! Logo সংস্কার বাস্তবায়নে ছাড় নয়: এনসিপির কঠোর বার্তা Logo কোলস্ল সালাদ বানানোর সহজ রেসিপি, স্বাদ হবে রেস্টুরেন্টের মতো Logo বেন গিভিরের হুঁশিয়ারি: ‘পুরো লেবানন পুড়িয়ে ফেলার দাবি’ Logo শিশুর অতিরিক্ত ঘাম কি রোগের লক্ষণ? যেসব সংকেত জানতেই হবে Logo মাছের বাজারে আগুন, রাজধানীতে স্বস্তি কেবল সবজিতে Logo টাইগারদের বীরোচিত লড়াই, ৭ রানের জয়ে সিরিজ নিশ্চিত করলো অস্ট্রেলিয়া Logo ভারত-মিয়ানমার সীমান্তে বেড়া নির্মাণ, কী চ্যালেঞ্জ সামনে?

ফুটবলকে আমেরিকানরা সকার বলে কেন

ফুটবলকে কেন সকার বলা হয়, তার পেছনের ইতিহাস ও উৎপত্তি। ছবি: সংগৃহীত।

সকার শব্দের ইতিহাস নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের কৌতূহলের শেষ নেই। ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হওয়ায় আবারও আলোচনায় এসেছে একটি পুরোনো বিতর্ক—বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ যে খেলাকে ‘ফুটবল’ বলে, যুক্তরাষ্ট্রে সেটিকে কেন ‘সকার’ বলা হয়?

অনেকের ধারণা, ‘সকার’ শব্দটি যুক্তরাষ্ট্রের সৃষ্টি। তবে ইতিহাস বলছে ভিন্ন কথা। মজার বিষয় হলো, শব্দটির জন্ম হয়েছিল ইংল্যান্ডেই। উনিশ শতকের শেষ দিকে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শব্দ সংক্ষিপ্ত করে বলার একটি বিশেষ প্রবণতা ছিল। তারা বিভিন্ন শব্দের শেষে ‘আর’ বা ‘এর’ ধ্বনি যোগ করে নতুন রূপ তৈরি করতেন।

ফুটবলের আনুষ্ঠানিক নাম ছিল ‘অ্যাসোসিয়েশন ফুটবল’। ১৮৬৩ সালে ফুটবলের নিয়মকানুন নির্ধারণের পর এই নামটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতে শুরু করে। অক্সফোর্ডের শিক্ষার্থীরা ‘অ্যাসোসিয়েশন’ শব্দটিকে সংক্ষেপে ‘অ্যাসক’ বলতেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটি পরিবর্তিত হয়ে ‘সকার’ রূপ লাভ করে। একই সময়ে ‘রাগবি ফুটবল’ থেকে ‘রাগার’ শব্দও তৈরি হয়েছিল, যদিও সেটি জনপ্রিয়তা পায়নি।

বর্তমানে অনেক ব্রিটিশ সমর্থক ‘সকার’ শব্দটি অপছন্দ করলেও একসময় ব্রিটেনেই এটি খুব সাধারণভাবে ব্যবহৃত হতো। ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক পরাজয়ের সংবাদে ব্রিটিশ পত্রিকাগুলো ‘সকার’ শব্দ ব্যবহার করেছিল। এমনকি ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি কোচ আলফ রামসেও তাঁর লেখায় এই শব্দ ব্যবহার করেছেন। ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ জয়ের সময়ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ‘সকার’ শব্দ দেখা গেছে।

তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে শব্দটি টিকে গেল কেন? এর মূল কারণ বিভ্রান্তি এড়ানো। যুক্তরাষ্ট্রে ‘ফুটবল’ বলতে সাধারণত আমেরিকান ফুটবলকে বোঝানো হয়, যা ডিম্বাকৃতির বল হাতে নিয়ে খেলা হয়। ফলে দুই খেলাকে আলাদা করতে ‘সকার’ শব্দটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং ধীরে ধীরে সেটিই প্রচলিত নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও জাপানেও ‘সকার’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়। যদিও এসব দেশের অনেক মানুষ ‘ফুটবল’ শব্দটিও ব্যবহার করেন।

ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। ভাষা ও অঞ্চলের ভিন্নতায় এর নাম বদলালেও খেলাটির প্রতি মানুষের ভালোবাসা একই রয়ে গেছে। তাই বলা যায়, ‘সকার’ শব্দটিকে আজ আমেরিকান সংস্কৃতির অংশ মনে হলেও এর শিকড় আসলে ইংল্যান্ডের ইতিহাসে প্রোথিত।

জনপ্রিয় সংবাদ

কোন শাক কেন খাবেন? ১২ শাকের অবিশ্বাস্য স্বাস্থ্যগুণ জানুন

ফুটবলকে আমেরিকানরা সকার বলে কেন

Update Time : ০১:৫২:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

সকার শব্দের ইতিহাস নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের কৌতূহলের শেষ নেই। ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হওয়ায় আবারও আলোচনায় এসেছে একটি পুরোনো বিতর্ক—বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ যে খেলাকে ‘ফুটবল’ বলে, যুক্তরাষ্ট্রে সেটিকে কেন ‘সকার’ বলা হয়?

অনেকের ধারণা, ‘সকার’ শব্দটি যুক্তরাষ্ট্রের সৃষ্টি। তবে ইতিহাস বলছে ভিন্ন কথা। মজার বিষয় হলো, শব্দটির জন্ম হয়েছিল ইংল্যান্ডেই। উনিশ শতকের শেষ দিকে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শব্দ সংক্ষিপ্ত করে বলার একটি বিশেষ প্রবণতা ছিল। তারা বিভিন্ন শব্দের শেষে ‘আর’ বা ‘এর’ ধ্বনি যোগ করে নতুন রূপ তৈরি করতেন।

আরও পড়ুন  পাকিস্তানে ইরান আলোচনা মার্কিন প্রতিনিধিদের

ফুটবলের আনুষ্ঠানিক নাম ছিল ‘অ্যাসোসিয়েশন ফুটবল’। ১৮৬৩ সালে ফুটবলের নিয়মকানুন নির্ধারণের পর এই নামটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতে শুরু করে। অক্সফোর্ডের শিক্ষার্থীরা ‘অ্যাসোসিয়েশন’ শব্দটিকে সংক্ষেপে ‘অ্যাসক’ বলতেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটি পরিবর্তিত হয়ে ‘সকার’ রূপ লাভ করে। একই সময়ে ‘রাগবি ফুটবল’ থেকে ‘রাগার’ শব্দও তৈরি হয়েছিল, যদিও সেটি জনপ্রিয়তা পায়নি।

বর্তমানে অনেক ব্রিটিশ সমর্থক ‘সকার’ শব্দটি অপছন্দ করলেও একসময় ব্রিটেনেই এটি খুব সাধারণভাবে ব্যবহৃত হতো। ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক পরাজয়ের সংবাদে ব্রিটিশ পত্রিকাগুলো ‘সকার’ শব্দ ব্যবহার করেছিল। এমনকি ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি কোচ আলফ রামসেও তাঁর লেখায় এই শব্দ ব্যবহার করেছেন। ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ জয়ের সময়ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ‘সকার’ শব্দ দেখা গেছে।

আরও পড়ুন  বিশ্বকাপে দর্শকদের জন্য সহজ হচ্ছে মার্কিন ভিসা

তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে শব্দটি টিকে গেল কেন? এর মূল কারণ বিভ্রান্তি এড়ানো। যুক্তরাষ্ট্রে ‘ফুটবল’ বলতে সাধারণত আমেরিকান ফুটবলকে বোঝানো হয়, যা ডিম্বাকৃতির বল হাতে নিয়ে খেলা হয়। ফলে দুই খেলাকে আলাদা করতে ‘সকার’ শব্দটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং ধীরে ধীরে সেটিই প্রচলিত নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও জাপানেও ‘সকার’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়। যদিও এসব দেশের অনেক মানুষ ‘ফুটবল’ শব্দটিও ব্যবহার করেন।

আরও পড়ুন  আইভরি কোস্টের জয়: শেষ মুহূর্তের গোলে হারল ইকুয়েডর

ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। ভাষা ও অঞ্চলের ভিন্নতায় এর নাম বদলালেও খেলাটির প্রতি মানুষের ভালোবাসা একই রয়ে গেছে। তাই বলা যায়, ‘সকার’ শব্দটিকে আজ আমেরিকান সংস্কৃতির অংশ মনে হলেও এর শিকড় আসলে ইংল্যান্ডের ইতিহাসে প্রোথিত।