ঢাকা ০৭:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজনৈতিক ব্যঙ্গে আলোচনায় ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’ সিনেমা

চিত্রঃ প্রশংসায় ভাসছে রাজনৈতিক ব্যঙ্গধর্মী চলচ্চিত্র দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল (সংগৃহীত)

রাজনৈতিক ব্যঙ্গে আলোচনায় দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল। মুক্তির প্রথম দিন থেকেই দর্শকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এবং প্রশংসায় ভাসছে ব্যতিক্রমধর্মী এই চলচ্চিত্র। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বাস্তবতা, ছাত্ররাজনীতি, ক্ষমতার বলয় এবং তরুণদের স্বপ্নভঙ্গের গল্পকে কেন্দ্র করে নির্মিত সিনেমাটি ইতোমধ্যে দর্শক ও সমালোচকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। রাজধানীর বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের পর দর্শকদের প্রতিক্রিয়া থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, সমসাময়িক সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতাকে সাহসিকতার সঙ্গে তুলে ধরার কারণে ছবিটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

 

গত শুক্রবার দেশের দুটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’। রাজধানীর বসুন্ধরা সিটিতে অবস্থিত স্টার সিনেপ্লেক্স এবং কেরানীগঞ্জের লায়ন সিনেমাসে প্রদর্শিত বিভিন্ন প্রদর্শনীতে দর্শকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়স ও পেশার মানুষও ছবিটি দেখতে প্রেক্ষাগৃহে ভিড় করেন। প্রথম দিনের বিকেলের প্রদর্শনী শেষে দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন চলচ্চিত্রটির পরিচালক, নির্বাহী প্রযোজক এবং অভিনয়শিল্পীরা।

 

এ সময় দর্শকদের অনেকে ছবির গল্প বলার ধরন, নির্মাণশৈলী এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার উপস্থাপনাকে সাহসী ও সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন পর এমন একটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে, যা বিনোদনের পাশাপাশি সমাজের গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতাও তুলে ধরেছে। চলচ্চিত্রটির মূল শক্তি হিসেবে দর্শকরা উল্লেখ করেছেন এর ব্যঙ্গাত্মক উপস্থাপনাকে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পরিচিত নানা বিষয় যেমন হল সংস্কৃতি, গেস্টরুম, ক্ষমতার রাজনীতি, বড় ভাই সংস্কৃতি এবং তরুণদের হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নকে অত্যন্ত বাস্তবভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নেতৃত্বের নানা অন্ধকার দিকও ছবিতে স্থান পেয়েছে।

 

প্রেক্ষাগৃহ থেকে বেরিয়ে একজন দর্শক বলেন, ছবিটি নিয়ে খুব বেশি প্রচারণা চোখে না পড়লেও সিনেমাটি তাকে মুগ্ধ করেছে। তার মতে, গল্প বলার কৌশল এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার চিত্রায়ণ ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। এমন ধরনের চলচ্চিত্র বাংলা সিনেমায় খুব বেশি দেখা যায় না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।আরেকজন দর্শক বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার নানা দিক যেভাবে ছবিতে তুলে ধরা হয়েছে, তা সত্যিই সাহসী উদ্যোগ। তার মতে, এত স্পষ্ট রাজনৈতিক ব্যঙ্গ এবং সমালোচনা থাকার পরও ছবিটি অনুমোদন পেয়েছে, সেটিই সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয়।

 

চলচ্চিত্রটির পরিচালক আকাশ হক এবং নির্বাহী প্রযোজক মোহাম্মদ হাফিজউদ্দিন মুন্না জানান, প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শন শেষ হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। প্রায় পঞ্চাশটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চলচ্চিত্র সংসদের সহযোগিতায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে স্বল্প ব্যয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে ছবিটি পৌঁছে দেওয়া হবে। তারা বলেন, এই চলচ্চিত্র মূলত তরুণদের গল্প, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের গল্প এবং সমকালীন সময়ের গল্প। দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যেন সহজে ছবিটি দেখতে পারে, সেই লক্ষ্য থেকেই বিশেষ প্রদর্শনীর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ কাজে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সম্ভাব্য পৃষ্ঠপোষকদের সহযোগিতাও কামনা করেছেন তারা।

 

নির্মাতাদের মতে, তরুণ প্রজন্মকে ঘিরে নির্মিত চলচ্চিত্রগুলো আরও বেশি দর্শকের কাছে পৌঁছানো প্রয়োজন। কারণ এসব চলচ্চিত্র শুধু বিনোদন দেয় না, বরং সমাজ, রাজনীতি এবং বাস্তব জীবন সম্পর্কে ভাবনারও সুযোগ তৈরি করে। তারা আশা প্রকাশ করেন, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এ ধরনের সাংস্কৃতিক উদ্যোগে এগিয়ে আসবেন। ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’ নির্মিত হয়েছে লেখক রনো আনোয়ারের ছোটগল্প ‘ঝরা পাতার দুঃখ বিলাস’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে। সাহিত্যভিত্তিক গল্পকে সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে উপস্থাপন করায় চলচ্চিত্রটি আলাদা মাত্রা পেয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

 

মুক্তির আগেই বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসা অর্জন করে ছবিটি। ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের বাংলাদেশ প্যানোরামা বিভাগে এটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সমালোচক সংস্থার পুরস্কার অর্জন করে। এছাড়া ‘আমার ভাষার চলচ্চিত্র উৎসব’-এ হীরালাল সেন পদক এবং সেরা চিত্রনাট্যের সম্মান লাভ করে চলচ্চিত্রটি। চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেছেন দেবদ্যুতি আইচ, রকি খান, ববি বিশ্বাসসহ একদল তরুণ শিল্পী। তাদের অভিনয়ও দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয় ছবির বাস্তবতাকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে বলে মত দিয়েছেন অনেক দর্শক।

 

সিনেমাটির দুটি গান ‘সহমত ভাই’ এবং ‘রাজনীতির ময়দান’ ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। গান দুটি চলচ্চিত্রের রাজনৈতিক ব্যঙ্গাত্মক আবহকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে মনে করছেন দর্শকরা। অনেকেই গানগুলোর কথা ও উপস্থাপনাকে সময়ের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক বলে উল্লেখ করেছেন। সব মিলিয়ে ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’ শুধু একটি চলচ্চিত্র নয়, বরং সমসাময়িক সমাজ ও রাজনীতিকে ব্যঙ্গের মাধ্যমে বিশ্লেষণের একটি সাহসী প্রয়াস হিসেবে আলোচনায় এসেছে।

 

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা, তরুণদের স্বপ্ন, ক্ষমতার রাজনীতি এবং সামাজিক সংকটকে কেন্দ্র করে নির্মিত এ চলচ্চিত্রটি দর্শকদের মধ্যে নতুন ধরনের আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। মুক্তির প্রথম দিনেই যে সাড়া মিলেছে, তা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে চলচ্চিত্রটি আগামী দিনগুলোতেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনৈতিক ব্যঙ্গে আলোচনায় ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’ সিনেমা

Update Time : ০৪:৩০:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

রাজনৈতিক ব্যঙ্গে আলোচনায় দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল। মুক্তির প্রথম দিন থেকেই দর্শকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এবং প্রশংসায় ভাসছে ব্যতিক্রমধর্মী এই চলচ্চিত্র। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বাস্তবতা, ছাত্ররাজনীতি, ক্ষমতার বলয় এবং তরুণদের স্বপ্নভঙ্গের গল্পকে কেন্দ্র করে নির্মিত সিনেমাটি ইতোমধ্যে দর্শক ও সমালোচকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। রাজধানীর বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের পর দর্শকদের প্রতিক্রিয়া থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, সমসাময়িক সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতাকে সাহসিকতার সঙ্গে তুলে ধরার কারণে ছবিটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

 

গত শুক্রবার দেশের দুটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’। রাজধানীর বসুন্ধরা সিটিতে অবস্থিত স্টার সিনেপ্লেক্স এবং কেরানীগঞ্জের লায়ন সিনেমাসে প্রদর্শিত বিভিন্ন প্রদর্শনীতে দর্শকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়স ও পেশার মানুষও ছবিটি দেখতে প্রেক্ষাগৃহে ভিড় করেন। প্রথম দিনের বিকেলের প্রদর্শনী শেষে দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন চলচ্চিত্রটির পরিচালক, নির্বাহী প্রযোজক এবং অভিনয়শিল্পীরা।

 

এ সময় দর্শকদের অনেকে ছবির গল্প বলার ধরন, নির্মাণশৈলী এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার উপস্থাপনাকে সাহসী ও সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন পর এমন একটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে, যা বিনোদনের পাশাপাশি সমাজের গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতাও তুলে ধরেছে। চলচ্চিত্রটির মূল শক্তি হিসেবে দর্শকরা উল্লেখ করেছেন এর ব্যঙ্গাত্মক উপস্থাপনাকে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পরিচিত নানা বিষয় যেমন হল সংস্কৃতি, গেস্টরুম, ক্ষমতার রাজনীতি, বড় ভাই সংস্কৃতি এবং তরুণদের হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নকে অত্যন্ত বাস্তবভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নেতৃত্বের নানা অন্ধকার দিকও ছবিতে স্থান পেয়েছে।

আরও পড়ুন  ইডেন কলেজে মব সন্ত্রাসের অভিযোগ ক্ষোভে নাছির উদ্দিন

 

প্রেক্ষাগৃহ থেকে বেরিয়ে একজন দর্শক বলেন, ছবিটি নিয়ে খুব বেশি প্রচারণা চোখে না পড়লেও সিনেমাটি তাকে মুগ্ধ করেছে। তার মতে, গল্প বলার কৌশল এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার চিত্রায়ণ ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। এমন ধরনের চলচ্চিত্র বাংলা সিনেমায় খুব বেশি দেখা যায় না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।আরেকজন দর্শক বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার নানা দিক যেভাবে ছবিতে তুলে ধরা হয়েছে, তা সত্যিই সাহসী উদ্যোগ। তার মতে, এত স্পষ্ট রাজনৈতিক ব্যঙ্গ এবং সমালোচনা থাকার পরও ছবিটি অনুমোদন পেয়েছে, সেটিই সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয়।

 

চলচ্চিত্রটির পরিচালক আকাশ হক এবং নির্বাহী প্রযোজক মোহাম্মদ হাফিজউদ্দিন মুন্না জানান, প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শন শেষ হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। প্রায় পঞ্চাশটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চলচ্চিত্র সংসদের সহযোগিতায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে স্বল্প ব্যয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে ছবিটি পৌঁছে দেওয়া হবে। তারা বলেন, এই চলচ্চিত্র মূলত তরুণদের গল্প, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের গল্প এবং সমকালীন সময়ের গল্প। দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যেন সহজে ছবিটি দেখতে পারে, সেই লক্ষ্য থেকেই বিশেষ প্রদর্শনীর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ কাজে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সম্ভাব্য পৃষ্ঠপোষকদের সহযোগিতাও কামনা করেছেন তারা।

আরও পড়ুন  তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয় হতে চান

 

নির্মাতাদের মতে, তরুণ প্রজন্মকে ঘিরে নির্মিত চলচ্চিত্রগুলো আরও বেশি দর্শকের কাছে পৌঁছানো প্রয়োজন। কারণ এসব চলচ্চিত্র শুধু বিনোদন দেয় না, বরং সমাজ, রাজনীতি এবং বাস্তব জীবন সম্পর্কে ভাবনারও সুযোগ তৈরি করে। তারা আশা প্রকাশ করেন, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এ ধরনের সাংস্কৃতিক উদ্যোগে এগিয়ে আসবেন। ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’ নির্মিত হয়েছে লেখক রনো আনোয়ারের ছোটগল্প ‘ঝরা পাতার দুঃখ বিলাস’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে। সাহিত্যভিত্তিক গল্পকে সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে উপস্থাপন করায় চলচ্চিত্রটি আলাদা মাত্রা পেয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

 

মুক্তির আগেই বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসা অর্জন করে ছবিটি। ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের বাংলাদেশ প্যানোরামা বিভাগে এটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সমালোচক সংস্থার পুরস্কার অর্জন করে। এছাড়া ‘আমার ভাষার চলচ্চিত্র উৎসব’-এ হীরালাল সেন পদক এবং সেরা চিত্রনাট্যের সম্মান লাভ করে চলচ্চিত্রটি। চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেছেন দেবদ্যুতি আইচ, রকি খান, ববি বিশ্বাসসহ একদল তরুণ শিল্পী। তাদের অভিনয়ও দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয় ছবির বাস্তবতাকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে বলে মত দিয়েছেন অনেক দর্শক।

আরও পড়ুন  টম হল্যান্ড এর অবশেষে জেনডায়ার সঙ্গে বিয়ে

 

সিনেমাটির দুটি গান ‘সহমত ভাই’ এবং ‘রাজনীতির ময়দান’ ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। গান দুটি চলচ্চিত্রের রাজনৈতিক ব্যঙ্গাত্মক আবহকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে মনে করছেন দর্শকরা। অনেকেই গানগুলোর কথা ও উপস্থাপনাকে সময়ের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক বলে উল্লেখ করেছেন। সব মিলিয়ে ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’ শুধু একটি চলচ্চিত্র নয়, বরং সমসাময়িক সমাজ ও রাজনীতিকে ব্যঙ্গের মাধ্যমে বিশ্লেষণের একটি সাহসী প্রয়াস হিসেবে আলোচনায় এসেছে।

 

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা, তরুণদের স্বপ্ন, ক্ষমতার রাজনীতি এবং সামাজিক সংকটকে কেন্দ্র করে নির্মিত এ চলচ্চিত্রটি দর্শকদের মধ্যে নতুন ধরনের আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। মুক্তির প্রথম দিনেই যে সাড়া মিলেছে, তা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে চলচ্চিত্রটি আগামী দিনগুলোতেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।