বিশ্বকাপ ২০২৬-এ নিজেদের প্রথম ম্যাচের আগে এখনো চূড়ান্ত কৌশল গোপন রেখেছে আর্জেন্টিনা। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচকে সামনে রেখে কোচ লিওনেল স্কালোনি দুটি ভিন্ন ফরমেশন নিয়ে কাজ করছেন। কোন ছকে মাঠে নামবেন মেসিরা, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়।
কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচ দিয়েই শুরু হবে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ অভিযান। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা শুরুটা জয় দিয়ে করতে চাইলেও প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নিচ্ছে না। তাই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কৌশলগত নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন স্কালোনি।
বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে রক্ষণভাগে। মিডফিল্ড ও আক্রমণভাগ প্রায় নিশ্চিত হলেও ডিফেন্সে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি কোচ। এ কারণেই অনুশীলনে একাধিক বিকল্প সাজিয়ে দেখা হচ্ছে।
আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওআইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, অনুশীলনে কখনো ৪-৪-২ আবার কখনো ৩-৫-২ ফরমেশন ব্যবহার করছেন স্কালোনি। প্রতিপক্ষের ধরন অনুযায়ী কোন ছক কার্যকর হবে, সেটিই যাচাই করা হচ্ছে।
শনিবারের অনুশীলনের প্রথম অংশে ৪-৪-২ ফরমেশনে দলকে সাজানো হয়। রক্ষণভাগে ছিলেন গঞ্জালো মন্তিয়েল, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, নিকোলাস ওতামেন্দি ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। তবে পরবর্তী সেশনে কিছু পরিবর্তনও দেখা গেছে।
এক পর্যায়ে রোমেরোর জায়গায় ফাকুন্দো মেদিনাকে লেফটব্যাক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে, স্কালোনি এখনো নির্দিষ্ট একটি কম্বিনেশনে স্থির হননি। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিকল্প পরিকল্পনা খোলা রাখছেন তিনি।
টিওআইসি স্পোর্টসের ধারণা, আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৪-৪-২ ফরমেশনেই খেলার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। কারণ এই ছক আর্জেন্টিনাকে রক্ষণে ভারসাম্য এবং আক্রমণে নমনীয়তা দুটোই দেবে।
তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, সেন্ট্রাল ডিফেন্সে কারা খেলবেন। দুটি পজিশনের জন্য মূলত তিনজন ফুটবলারের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে। কোচের সামনে একাধিক সমীকরণ খোলা রয়েছে।
আবার এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না যে তিনজন সেন্টারব্যাককেই একসঙ্গে খেলানো হবে। সেক্ষেত্রে লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে লেফটব্যাকে দেখা যেতে পারে। এই পজিশনে খেলার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার।
বিকল্প হিসেবে ৩-৫-২ ফরমেশনও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রেখেছেন স্কালোনি। এই কৌশলে ডান পাশে জুলিয়ানো সিমিওনে এবং বাঁ পাশে নিকোলাস গঞ্জালেসকে অ্যাটাকিং উইং-ব্যাক হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
এই ছকে রাইট স্টপারে থাকবেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। মাঝখানে সুইপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অভিজ্ঞ নিকোলাস ওতামেন্দি। অন্যদিকে লেফট স্টপারে দেখা যাবে লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে।
তবে আলজেরিয়ার বিপক্ষে এই ফরমেশন ব্যবহারের সম্ভাবনা খুব বেশি নয়। পরবর্তী ম্যাচগুলোতে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হতে পারে।
রক্ষণভাগ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও মাঝমাঠে স্কালোনির পরিকল্পনা অনেকটাই পরিষ্কার। এনজো ফার্নান্দেজ, আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার এবং রদ্রিগো দি পলকে একসঙ্গে মাঠে নামানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
এই তিন ফুটবলারের সমন্বয়ই আর্জেন্টিনার খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করবে। বল দখল, পাসিং ও আক্রমণ তৈরির দায়িত্ব মূলত তাদের কাঁধেই থাকবে।
আক্রমণভাগে অধিনায়ক লিওনেল মেসির সঙ্গী হিসেবে এগিয়ে আছেন লাউতারো মার্তিনেজ। সাম্প্রতিক সময়ে তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্স কোচিং স্টাফের আস্থা আরও বাড়িয়েছে।
অন্যদিকে বাঁ পায়ের গোড়ালির লিগামেন্ট সমস্যার কারণে হুলিয়ান আলভারেজ পুরোপুরি ছন্দে নেই। সর্বশেষ দুটি প্রীতি ম্যাচেও তিনি মাঠের বাইরে ছিলেন।
এ কারণে শুরুর একাদশে জায়গা পাওয়ার দৌড়ে আপাতত এগিয়ে রয়েছেন লাউতারো মার্তিনেজ। যদিও ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী আলভারেজকে বদলি হিসেবেও ব্যবহার করা হতে পারে।
দলের বাকি একটি আক্রমণাত্মক জায়গা নিয়ে লড়াই চলছে জুলিয়ানো সিমিওনে ও থিয়াগো আলমাদার মধ্যে। গত এক বছরে ধারাবাহিকভাবে সুযোগ পাওয়ায় আলমাদা কিছুটা এগিয়ে আছেন।
সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনার পরিকল্পনা এখনো পুরোপুরি প্রকাশ্যে আসেনি। স্কালোনি বরাবরের মতোই প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত রাখতে নিজের কৌশল গোপন রেখেছেন।
এখন দেখার বিষয়, বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে তিনি কোন ছক বেছে নেন। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত, মাঠে নামার আগ পর্যন্ত স্কালোনির আসল পরিকল্পনা শুধু তিনিই জানেন।




























