ঢাকা ০৬:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইতিহাস বদলাতে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা, মেসির শেষ মিশন?

আর্জেন্টিনা ফুটবল দল

বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ২০২৬ বিশ্বকাপে মাঠে নামছে নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন নিয়ে। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিতে ৬৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটাতে চায় লিওনেল স্কালোনির দল। একই সঙ্গে এটি হতে পারে অধিনায়ক লিওনেল মেসির বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ।

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে শিরোপা ধরে রাখা সবসময়ই কঠিন কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি দেশ এই কীর্তি গড়তে পেরেছে। ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ সালে ইতালি এবং ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে ব্রাজিল টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস তৈরি করেছিল।

এরপর দীর্ঘ ৬৪ বছর ধরে কোনো দলই বিশ্বকাপের মুকুট ধরে রাখতে পারেনি। সেই কঠিন চ্যালেঞ্জই এবার গ্রহণ করেছে আর্জেন্টিনা। কাতার বিশ্বকাপ জয়ের চার বছর পর আবারও শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে নামছে দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম সফল দলটি।

এই অভিযানের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অবশ্যই লিওনেল মেসি। ৩৮ বছর বয়সী এই কিংবদন্তির জন্য এটি শেষ বিশ্বকাপ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তাই পুরো ফুটবল বিশ্ব তাকিয়ে আছে, বিদায়ের আগে তিনি আরেকটি স্বপ্নপূরণ করতে পারেন কি না।

২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে নিজের দীর্ঘদিনের অপূর্ণতা দূর করেছিলেন মেসি। তবে এবার তার সামনে আরও বড় এক সুযোগ এসেছে। টানা দ্বিতীয় শিরোপা জিতে নিজের কিংবদন্তিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যই এখন তার সামনে।

প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনিও আগের সফল কাঠামোতে খুব বেশি পরিবর্তন আনেননি। গত কয়েক বছরে যে দলটি ধারাবাহিকভাবে সাফল্য এনে দিয়েছে, সেই দলকেই তিনি ধরে রেখেছেন। অভিজ্ঞতা ও তরুণ শক্তির সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে ভারসাম্যপূর্ণ একটি স্কোয়াড।

গোলবারের নিচে থাকবেন বিশ্বসেরা গোলরক্ষকদের একজন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। রক্ষণভাগে দায়িত্ব পালন করবেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরোসহ কয়েকজন পরীক্ষিত ফুটবলার। তাদের দৃঢ়তা আর্জেন্টিনার অন্যতম বড় শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মিডফিল্ডে এনজো ফার্নান্দেজ ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের উপস্থিতি দলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণ তৈরি এবং রক্ষণে সহায়তা করার ক্ষেত্রে এই দুই ফুটবলারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আক্রমণভাগে থাকছেন লাউতারো মার্তিনেজ ও হুলিয়ান আলভারেজ। গত কয়েক বছরে এই জুটি নিজেদের কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে। মেসির সঙ্গে তাদের সমন্বয় প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে আর্জেন্টিনা। শুধু তাই নয়, ২০২৪ কোপা আমেরিকার শিরোপাও নিজেদের করে নিয়েছে তারা। ফলে আত্মবিশ্বাসের দিক থেকে স্কালোনির দল বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

তবে সবকিছুই যে পুরোপুরি ইতিবাচক, এমনটা বলার সুযোগ নেই। বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচের প্রতিপক্ষ নির্বাচন নিয়ে কিছু প্রশ্ন উঠেছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, তুলনামূলক দুর্বল দলের বিপক্ষে বেশি ম্যাচ খেলেছে আর্জেন্টিনা।

এই বিষয়টি নকআউট পর্বে সমস্যার কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন সমালোচকরা। কারণ ফ্রান্স, স্পেন কিংবা ব্রাজিলের মতো শীর্ষ দলগুলোর বিপক্ষে ম্যাচের চাপ সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেই পরিস্থিতিতে দল কতটা মানিয়ে নিতে পারবে, সেটিই বড় পরীক্ষা।

এদিকে মাঠের বাইরেও কয়েকজন তারকা ফুটবলারকে ঘিরে আলোচনা চলছে। ইউরোপের বেশ কয়েকটি বড় ক্লাব হুলিয়ান আলভারেজ, এনজো ফার্নান্দেজ, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারকে নিয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

যদিও দলবদলের গুঞ্জন আপাতত বিশ্বকাপ মিশনে কোনো প্রভাব ফেলতে দিচ্ছে না আর্জেন্টিনা। দলের সবাই পুরো মনোযোগ রেখেছে টুর্নামেন্টে সফল হওয়ার দিকে। স্কালোনিও খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখার চেষ্টা করছেন।

সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সামনে তিনটি বড় লক্ষ্য রয়েছে। শিরোপা ধরে রাখা, মেসিকে স্মরণীয় বিদায় উপহার দেওয়া এবং বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লেখা। এখন দেখার বিষয়, স্কালোনির দল সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে পারে কি না।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইতিহাস বদলাতে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা, মেসির শেষ মিশন?

Update Time : ০৩:১৮:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ২০২৬ বিশ্বকাপে মাঠে নামছে নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন নিয়ে। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিতে ৬৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটাতে চায় লিওনেল স্কালোনির দল। একই সঙ্গে এটি হতে পারে অধিনায়ক লিওনেল মেসির বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ।

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে শিরোপা ধরে রাখা সবসময়ই কঠিন কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি দেশ এই কীর্তি গড়তে পেরেছে। ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ সালে ইতালি এবং ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে ব্রাজিল টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস তৈরি করেছিল।

এরপর দীর্ঘ ৬৪ বছর ধরে কোনো দলই বিশ্বকাপের মুকুট ধরে রাখতে পারেনি। সেই কঠিন চ্যালেঞ্জই এবার গ্রহণ করেছে আর্জেন্টিনা। কাতার বিশ্বকাপ জয়ের চার বছর পর আবারও শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে নামছে দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম সফল দলটি।

এই অভিযানের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অবশ্যই লিওনেল মেসি। ৩৮ বছর বয়সী এই কিংবদন্তির জন্য এটি শেষ বিশ্বকাপ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তাই পুরো ফুটবল বিশ্ব তাকিয়ে আছে, বিদায়ের আগে তিনি আরেকটি স্বপ্নপূরণ করতে পারেন কি না।

আরও পড়ুন  ব্রাজিলের ৬ গোলের উৎসব, আনচেলত্তির কৌশলে পানামা বিধ্বস্ত

২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে নিজের দীর্ঘদিনের অপূর্ণতা দূর করেছিলেন মেসি। তবে এবার তার সামনে আরও বড় এক সুযোগ এসেছে। টানা দ্বিতীয় শিরোপা জিতে নিজের কিংবদন্তিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যই এখন তার সামনে।

প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনিও আগের সফল কাঠামোতে খুব বেশি পরিবর্তন আনেননি। গত কয়েক বছরে যে দলটি ধারাবাহিকভাবে সাফল্য এনে দিয়েছে, সেই দলকেই তিনি ধরে রেখেছেন। অভিজ্ঞতা ও তরুণ শক্তির সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে ভারসাম্যপূর্ণ একটি স্কোয়াড।

গোলবারের নিচে থাকবেন বিশ্বসেরা গোলরক্ষকদের একজন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। রক্ষণভাগে দায়িত্ব পালন করবেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরোসহ কয়েকজন পরীক্ষিত ফুটবলার। তাদের দৃঢ়তা আর্জেন্টিনার অন্যতম বড় শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন  বিশ্বকাপে মেসির সামনে যেসব ঐতিহাসিক রেকর্ড ভাঙার সুযোগ

মিডফিল্ডে এনজো ফার্নান্দেজ ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের উপস্থিতি দলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণ তৈরি এবং রক্ষণে সহায়তা করার ক্ষেত্রে এই দুই ফুটবলারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আক্রমণভাগে থাকছেন লাউতারো মার্তিনেজ ও হুলিয়ান আলভারেজ। গত কয়েক বছরে এই জুটি নিজেদের কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে। মেসির সঙ্গে তাদের সমন্বয় প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে আর্জেন্টিনা। শুধু তাই নয়, ২০২৪ কোপা আমেরিকার শিরোপাও নিজেদের করে নিয়েছে তারা। ফলে আত্মবিশ্বাসের দিক থেকে স্কালোনির দল বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

তবে সবকিছুই যে পুরোপুরি ইতিবাচক, এমনটা বলার সুযোগ নেই। বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচের প্রতিপক্ষ নির্বাচন নিয়ে কিছু প্রশ্ন উঠেছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, তুলনামূলক দুর্বল দলের বিপক্ষে বেশি ম্যাচ খেলেছে আর্জেন্টিনা।

এই বিষয়টি নকআউট পর্বে সমস্যার কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন সমালোচকরা। কারণ ফ্রান্স, স্পেন কিংবা ব্রাজিলের মতো শীর্ষ দলগুলোর বিপক্ষে ম্যাচের চাপ সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেই পরিস্থিতিতে দল কতটা মানিয়ে নিতে পারবে, সেটিই বড় পরীক্ষা।

আরও পড়ুন  বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার জার্সি নম্বর চূড়ান্ত, মেসির গায়ে ১০ নম্বর

এদিকে মাঠের বাইরেও কয়েকজন তারকা ফুটবলারকে ঘিরে আলোচনা চলছে। ইউরোপের বেশ কয়েকটি বড় ক্লাব হুলিয়ান আলভারেজ, এনজো ফার্নান্দেজ, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারকে নিয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

যদিও দলবদলের গুঞ্জন আপাতত বিশ্বকাপ মিশনে কোনো প্রভাব ফেলতে দিচ্ছে না আর্জেন্টিনা। দলের সবাই পুরো মনোযোগ রেখেছে টুর্নামেন্টে সফল হওয়ার দিকে। স্কালোনিও খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখার চেষ্টা করছেন।

সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সামনে তিনটি বড় লক্ষ্য রয়েছে। শিরোপা ধরে রাখা, মেসিকে স্মরণীয় বিদায় উপহার দেওয়া এবং বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লেখা। এখন দেখার বিষয়, স্কালোনির দল সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে পারে কি না।