প্রবাসীর আত্মহত্যার একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায়। দীর্ঘ ৯ বছর প্রবাসজীবন কাটিয়ে দেশে ফেরার মাত্র ১০ দিনের মাথায় আনোয়ার হোসেন (৩৫) নামের এক কুয়েতপ্রবাসী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। পরিবারের দাবি, স্ত্রীর দ্বিতীয় বিয়ে এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েই তিনি এই চরম সিদ্ধান্ত নেন।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে উপজেলার নদনা ইউনিয়নের দক্ষিণ শাকতলা গ্রামের নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ দুপুরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত আনোয়ার হোসেন স্থানীয় মফিজ উদ্দিনের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কুয়েতে কর্মরত ছিলেন এবং সেখান থেকে পরিবারের ভরণপোষণের জন্য নিয়মিত অর্থ পাঠাতেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আনোয়ার প্রায় নয় বছর ধরে কুয়েতে কাজ করতেন। প্রবাসে থাকাকালে তিনি স্ত্রীর কাছে নিয়মিত টাকা পাঠাতেন এবং সেই অর্থ দিয়ে স্ত্রী নিজের নামে জমিও কিনেছিলেন। তবে প্রায় ছয় মাস আগে দুই সন্তানের জননী আকলিমা আক্তার স্বামীর দূর সম্পর্কের এক ভাগনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তিনি নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যান এবং ওই যুবককে বিয়ে করেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় ৯ থেকে ১০ দিন আগে দেশে ফেরেন আনোয়ার হোসেন। দেশে ফিরে তিনি স্ত্রীকে সংসারে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। দুই সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে একাধিকবার যোগাযোগের উদ্যোগ নিলেও সফল হননি। অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে তার স্ত্রী সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এতে তিনি আরও হতাশ হয়ে পড়েন।
স্বজনদের দাবি, গত শনিবার আকলিমা আক্তার আনোয়ার হোসেনের কাছে তালাকের নোটিশ পাঠান। এই ঘটনা তাকে গভীরভাবে আঘাত করে। পরিবারের ভাষ্যমতে, দীর্ঘদিনের প্রবাসজীবনের কষ্ট, সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা এবং স্ত্রীকে ফিরে না পাওয়ার হতাশা মিলিয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এরপরই আত্মহত্যার মতো সিদ্ধান্ত নেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন জানান, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।






















