ঢাকা ০৮:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সঞ্জয় দেবের গাজর দিয়ে বাদ্যযন্ত্র বানিয়ে বাজানোর গল্প

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৪:৫৬:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • ৫১৫

সঞ্জয় দেব ও মুজা বাংলা গানকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার স্বপ্নের কথা বলেছেন। | ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে পারফর্ম করে আলোচনায় আসা সঞ্জয় দেব আবারও খবরের শিরোনামে। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন সংগীতশিল্পী, ডিজে ও প্রযোজক সম্প্রতি আলোচিত হয়েছেন দুই বছর আগের এক সাক্ষাৎকারের কারণে, যেখানে তিনি মার্কিন-বাংলাদেশি শিল্পী মুজার সঙ্গে সংগীত, জীবনসংগ্রাম এবং বাংলা গানের ভবিষ্যৎ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন।

সাক্ষাৎকারে সঞ্জয় দেব জানান, সংগীত তাঁর কাছে শুধু পেশা নয়, বরং জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার কঠিন সময়ে সংগীতই ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় আশ্রয়। ছোটবেলায় শাস্ত্রীয় সংগীত ও তবলা শেখা এই শিল্পী পরে ইলেকট্রনিক ড্যান্স মিউজিক (ইডিএম) জগতে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেন।

কথোপকথনের এক পর্যায়ে মুজা জানতে চান, সবচেয়ে অদ্ভুত কোন বস্তু ব্যবহার করে তিনি সংগীত তৈরি করেছেন। জবাবে সঞ্জয় জানান, তিনি একবার গাজরে সমান দূরত্বে কয়েকটি ছিদ্র করে সেটিকে পিকোলোর মতো বাজিয়েছিলেন। তাঁর ভাষায়, গাজর দিয়েও সুন্দর সুর তোলা সম্ভব হয়েছিল। এই ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা শ্রোতাদের মধ্যেও ব্যাপক কৌতূহল তৈরি করেছে।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র দুই সংস্কৃতির মিশ্রণে বেড়ে ওঠা সঞ্জয় দেব মনে করেন, এই দ্বৈত পরিচয়ই তাঁর সংগীতকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, বাংলা গান একদিন স্প্যানিশ কিংবা আফ্রোবিটসের মতো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জনপ্রিয়তা পেতে পারে। বাংলা ভাষার মাধুর্য এবং বিশাল শ্রোতাগোষ্ঠীকে তিনি এ সম্ভাবনার বড় শক্তি হিসেবে দেখেন।

সঞ্জয় দেবের সাক্ষাৎকারে
সঞ্জয় দেব মুজার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে সংগীত ও বাংলা গানের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলছেন

সফলতার স্মৃতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সঞ্জয় আবেগঘন একটি অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। করোনা মহামারির পর প্রায় ১৫ বছর পর তিনি যখন শ্রীমঙ্গলের গ্রামের বাড়িতে ফিরে যান, তখন এলাকার মানুষ তাঁকে ঘিরে ভালোবাসা ও গর্ব প্রকাশ করেন। সেই মুহূর্তকে তিনি জীবনের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি বলে উল্লেখ করেন।

সংগীত তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে সঞ্জয় বলেন, সাধারণত তিনি প্রথমে কর্ড প্রগ্রেশন তৈরি করেন। এরপর সুর, গানের কথা এবং সবশেষে প্রোডাকশনের কাজ সম্পন্ন করেন। শিল্পীদের সঙ্গে কাজের ক্ষেত্রেও তিনি বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক বোঝাপড়াকে বেশি গুরুত্ব দেন।

খাবারের প্রসঙ্গে তিনি জানান, ভারতীয় ও বাংলাদেশি দুই ধরনের খাবারই তাঁর প্রিয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের বিরিয়ানি তাঁর খুব পছন্দ। আর যদি সংগীতশিল্পী না হতেন, তাহলে পাইলট হওয়ার স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করতেন বলেও জানান তিনি।

বর্তমানে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা সঞ্জয় দেব বাংলা গান ও সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর বিশ্বাস, সঠিক উপস্থাপনা ও আধুনিক সাউন্ডের মাধ্যমে বাংলা গানও বিশ্বসংগীতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সঞ্জয় দেবের গাজর দিয়ে বাদ্যযন্ত্র বানিয়ে বাজানোর গল্প

Update Time : ০৪:৫৬:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে পারফর্ম করে আলোচনায় আসা সঞ্জয় দেব আবারও খবরের শিরোনামে। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন সংগীতশিল্পী, ডিজে ও প্রযোজক সম্প্রতি আলোচিত হয়েছেন দুই বছর আগের এক সাক্ষাৎকারের কারণে, যেখানে তিনি মার্কিন-বাংলাদেশি শিল্পী মুজার সঙ্গে সংগীত, জীবনসংগ্রাম এবং বাংলা গানের ভবিষ্যৎ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন।

সাক্ষাৎকারে সঞ্জয় দেব জানান, সংগীত তাঁর কাছে শুধু পেশা নয়, বরং জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার কঠিন সময়ে সংগীতই ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় আশ্রয়। ছোটবেলায় শাস্ত্রীয় সংগীত ও তবলা শেখা এই শিল্পী পরে ইলেকট্রনিক ড্যান্স মিউজিক (ইডিএম) জগতে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেন।

আরও পড়ুন  মাস্টারশেফ ইউকেতে পেঁয়াজু দিয়ে বাজিমাত করলেন সাবিনা খান , MasterChef UK 2026

কথোপকথনের এক পর্যায়ে মুজা জানতে চান, সবচেয়ে অদ্ভুত কোন বস্তু ব্যবহার করে তিনি সংগীত তৈরি করেছেন। জবাবে সঞ্জয় জানান, তিনি একবার গাজরে সমান দূরত্বে কয়েকটি ছিদ্র করে সেটিকে পিকোলোর মতো বাজিয়েছিলেন। তাঁর ভাষায়, গাজর দিয়েও সুন্দর সুর তোলা সম্ভব হয়েছিল। এই ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা শ্রোতাদের মধ্যেও ব্যাপক কৌতূহল তৈরি করেছে।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র দুই সংস্কৃতির মিশ্রণে বেড়ে ওঠা সঞ্জয় দেব মনে করেন, এই দ্বৈত পরিচয়ই তাঁর সংগীতকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, বাংলা গান একদিন স্প্যানিশ কিংবা আফ্রোবিটসের মতো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জনপ্রিয়তা পেতে পারে। বাংলা ভাষার মাধুর্য এবং বিশাল শ্রোতাগোষ্ঠীকে তিনি এ সম্ভাবনার বড় শক্তি হিসেবে দেখেন।

আরও পড়ুন  বিশ্বকাপের আগে স্বস্তি, ফিটনেস নিয়ে সুখবর দিলেন মার্তিনেজ
সঞ্জয় দেবের সাক্ষাৎকারে
সঞ্জয় দেব মুজার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে সংগীত ও বাংলা গানের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলছেন

সফলতার স্মৃতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সঞ্জয় আবেগঘন একটি অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। করোনা মহামারির পর প্রায় ১৫ বছর পর তিনি যখন শ্রীমঙ্গলের গ্রামের বাড়িতে ফিরে যান, তখন এলাকার মানুষ তাঁকে ঘিরে ভালোবাসা ও গর্ব প্রকাশ করেন। সেই মুহূর্তকে তিনি জীবনের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি বলে উল্লেখ করেন।

সংগীত তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে সঞ্জয় বলেন, সাধারণত তিনি প্রথমে কর্ড প্রগ্রেশন তৈরি করেন। এরপর সুর, গানের কথা এবং সবশেষে প্রোডাকশনের কাজ সম্পন্ন করেন। শিল্পীদের সঙ্গে কাজের ক্ষেত্রেও তিনি বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক বোঝাপড়াকে বেশি গুরুত্ব দেন।

আরও পড়ুন  ব্যাচেলর পয়েন্ট সিজন ৫-এ নেপালি চমক! কে এই ‘নিউ সেনসেশন’ সুন্দরী?

খাবারের প্রসঙ্গে তিনি জানান, ভারতীয় ও বাংলাদেশি দুই ধরনের খাবারই তাঁর প্রিয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের বিরিয়ানি তাঁর খুব পছন্দ। আর যদি সংগীতশিল্পী না হতেন, তাহলে পাইলট হওয়ার স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করতেন বলেও জানান তিনি।

বর্তমানে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা সঞ্জয় দেব বাংলা গান ও সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর বিশ্বাস, সঠিক উপস্থাপনা ও আধুনিক সাউন্ডের মাধ্যমে বাংলা গানও বিশ্বসংগীতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।