তামান্না ভাটিয়া দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণী সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় মুখ। তবে এবার অভিনয় নয়, বরং নিজের একটি মন্তব্যের কারণে আলোচনায় এসেছেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে দক্ষিণী সিনেমায় নারীদের উপস্থাপন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
তামান্না ভাটিয়ার মতে, দক্ষিণী সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে নারীদের প্রতি একটি নির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি এখনো বিদ্যমান। তাঁর ভাষায়, সেই দৃষ্টিভঙ্গিকে কিছুটা পুরুষতান্ত্রিক বলা যায় এবং সেখানে নারীদের সব সময় ইতিবাচক বা প্রশংসনীয়ভাবে উপস্থাপন করা হয় না। তবে তিনি এটাও স্বীকার করেছেন যে দক্ষিণী সিনেমার নিজস্ব তারকাকেন্দ্রিক সংস্কৃতি রয়েছে, যা দর্শকদের কাছে দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয়।
বর্তমানে তামান্না ভাটিয়া অপেক্ষা করছেন তার নতুন সিনেমা ‘বিবান: ফোর্স অব দ্য ফরেস্ট’-এর মুক্তির জন্য। ছবিটি পরিচালনা করেছেন দীপক মিশ্র। এতে তার সঙ্গে আরও অভিনয় করেছেন সিদ্ধার্থ মালহোত্রা, মনীশ পাল, সুনীল গ্রোভার ও শ্বেতা তিওয়ারির মতো পরিচিত মুখ। সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার কথা আগামী আগস্টে।
অভিনয়জীবনের শুরুটা হিন্দি সিনেমায় হলেও তামান্না ভাটিয়ার প্রকৃত সাফল্য আসে তেলুগু চলচ্চিত্রে। এরপর ধীরে ধীরে তিনি দক্ষিণী সিনেমার প্রথম সারির অভিনেত্রীদের একজন হয়ে ওঠেন। প্রায় দুই দশকের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি মনে করেন, বাণিজ্যিক সাফল্যের ক্ষেত্রে দক্ষিণী সিনেমা অনেক সময় নির্দিষ্ট কিছু ফর্মুলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
অন্যদিকে বলিউড সম্পর্কে তামান্না ভাটিয়ার মূল্যায়ন কিছুটা ভিন্ন। তাঁর মতে, হিন্দি চলচ্চিত্রে শিল্পনির্ভর অভিনয় এবং বাণিজ্যিক বিনোদন—দুই ধরনের কাজেরই সুযোগ রয়েছে। কেউ অভিনয়কেন্দ্রিক চরিত্রে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, আবার কেউ নাচ-গান ও গ্ল্যামারনির্ভর চরিত্রে বেশি সফল হন। বলিউড উভয় ধারার শিল্পীদের জন্য জায়গা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে বলেই তিনি মনে করেন।
তবে নিজের বক্তব্যকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখছেন না তামান্না ভাটিয়া। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এগুলো সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ। অন্য শিল্পীদের অভিজ্ঞতা ভিন্ন হতে পারে। তবু দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি মনে করেন, যেসব অভিনেত্রী বছরের পর বছর জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পেরেছেন, তারা অভিনয় দক্ষতার পাশাপাশি বাণিজ্যিক সিনেমার চাহিদার সঙ্গেও নিজেদের মানিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন। আর এ কারণেই দক্ষিণী ও বলিউড—দুই ইন্ডাস্ট্রির তুলনায় নারীদের অবস্থান নিয়ে আলোচনা এখনও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।



























