ঢাকা ০৪:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo অতল মস্কোর পর ওরেনবুর্গে, যুবরাজের নতুন সাফল্য Logo তাসকিন আহমেদের অস্ট্রেলিয়া টেস্টে ‘সেরাটা’ দেওয়ার প্রত্যয় Logo নিউইয়র্ক মাতালেন অপূর্ব, মুগ্ধতা প্রকাশ করলেন শহরটি নিয়ে Logo শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ: ভারতের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অনুরোধ Logo মিশা সওদাগরের বাসায় নব্বই দশকের নায়কদের নস্টালজিক আড্ডা! Logo রঙিন সুরমায় আফজাল হোসেন আফসানা মিমির আবেগঘন গল্প Logo হজের পর অভিনয়কে বিদায়, হাসান মাসুদের জীবনে নতুন অধ্যায় Logo শুটিংয়ের সময় দুর্ঘটনাবশত নাকের নথ গিলে ফেললেন শেহনাজ গিল! Logo ২৫ পেরোলেই কি চাকরি কঠিন? তরুণদের জন্য বড় বাস্তবতা Logo রিজভীকে নিয়ে মুখ খুললেন শাবনূর, ‘প্ররোচনায় এসব মিথ্যা ছড়াচ্ছে’

জ্বর হলে কোন পানিতে গোসল করবেন? জানুন সঠিক নিয়ম

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০২:৪৪:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৫

জ্বরের সময় খুব ঠান্ডা বা অতিরিক্ত গরম পানি নয়, কুসুম গরম পানিতে অল্প সময় গোসল করা তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক।

জ্বর হলে গোসলের জন্য কোন পানি নিরাপদ, জানুন চিকিৎসকদের পরামর্শ

জ্বর হলে গোসল পুরোপুরি বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। তবে এ সময় খুব ঠান্ডা বা অতিরিক্ত গরম পানি ব্যবহার করা ঠিক নয়। চিকিৎসকদের মতে, জ্বরের সময় কুসুম গরম বা ঈষদুষ্ণ পানি দিয়ে অল্প সময় গোসল করা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ও আরামদায়ক। এতে জ্বরের মূল কারণ দূর না হলেও শরীরের ঘাম, অস্বস্তি ও ক্লান্তি কিছুটা কমতে পারে।

জ্বর এলেই অনেকে গোসল করা বন্ধ করে দেন। আবার কেউ দ্রুত শরীরের তাপমাত্রা কমানোর আশায় বরফঠান্ডা পানি ব্যবহার করেন। কেউ কেউ মনে করেন, গরম পানি দিয়ে গোসল করলে শরীর আরাম পাবে। কিন্তু অতিরিক্ত ঠান্ডা কিংবা অতিরিক্ত গরম—দুই ধরনের পানিই জ্বরের সময় অস্বস্তি বাড়াতে পারে।

জ্বরের সময় ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করা থেকে বিরত থাকাই ভালো। হিমশীতল পানি শরীরে লাগলে কাঁপুনি শুরু হতে পারে। কাঁপুনির সময় শরীর নিজের তাপমাত্রা বাড়ানোর চেষ্টা করে এবং এতে শরীরে আরও তাপ তৈরি হতে পারে। ফলে জ্বর কমার পরিবর্তে অস্বস্তি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

শুধু তাই নয়, ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর আরও অস্বস্তিকর লাগতে পারে। বিশেষ করে দুর্বলতা বা শরীর ব্যথার মতো উপসর্গ থাকলে ঠান্ডা পানি পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুলতে পারে। তাই জ্বরের সময় বরফঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল বা শরীর মোছানো এড়িয়ে চলাই ভালো।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত গরম পানিও জ্বরের সময় উপকারী নয়। খুব গরম পানিতে গোসল করলে শরীরে অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে এবং পানিশূন্যতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এর পাশাপাশি মাথা ঘোরা, দুর্বলতা ও অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। শরীরের তাপমাত্রা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে।

তাহলে জ্বর হলে কীভাবে গোসল করবেন? এ সময় কুসুম গরম বা ঈষদুষ্ণ পানি ব্যবহার করা যেতে পারে। খুব বেশি সময় ধরে গোসল না করে অল্প সময়ের মধ্যে গোসল শেষ করাই ভালো। গোসলের পর শরীর ভালোভাবে মুছে শুকনো ও আরামদায়ক পোশাক পরা উচিত।

কুসুম গরম পানিতে গোসল করলে জ্বরের কারণ দূর হয় না। তবে শরীরে জমে থাকা ঘাম ও অস্বস্তি কমাতে এটি সহায়ক হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে গোসলের পর শরীর কিছুটা সতেজ ও আরামদায়কও লাগে। তাই জ্বর হলেই গোসল একেবারে বন্ধ করে দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

তবে জ্বরের সময় গোসল করার আগে নিজের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করা জরুরি। কেউ যদি খুব দুর্বল হয়ে পড়েন, দাঁড়িয়ে থাকতে না পারেন, মাথা ঘোরে বা অচেতন ভাব থাকে, তাহলে গোসল না করাই ভালো। এ ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

জ্বর নিজে কোনো রোগ নয়, বরং শরীরের একটি লক্ষণ। সাধারণত সংক্রমণ বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার বিরুদ্ধে শরীর প্রতিরোধ গড়ে তোলার সময় জ্বর দেখা দিতে পারে। তাই শুধু শরীরের তাপমাত্রা কমানোর চেষ্টা না করে জ্বরের কারণ খুঁজে বের করাও গুরুত্বপূর্ণ।

জ্বরের সময় পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া, নিয়মিত পানি ও তরল পান করা এবং হালকা ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ সেবন করতে হবে। জ্বর দীর্ঘস্থায়ী হলে বা গুরুতর কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

সব মিলিয়ে, জ্বরের সময় হিমশীতল বা অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে গোসল না করে কুসুম গরম পানি ব্যবহার করাই তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। অল্প সময় গোসল করে শরীর শুকিয়ে বিশ্রাম নেওয়া যেতে পারে। তবে শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে গোসলের চেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াকেই বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

অতল মস্কোর পর ওরেনবুর্গে, যুবরাজের নতুন সাফল্য

জ্বর হলে কোন পানিতে গোসল করবেন? জানুন সঠিক নিয়ম

Update Time : ০২:৪৪:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

জ্বর হলে গোসলের জন্য কোন পানি নিরাপদ, জানুন চিকিৎসকদের পরামর্শ

জ্বর হলে গোসল পুরোপুরি বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। তবে এ সময় খুব ঠান্ডা বা অতিরিক্ত গরম পানি ব্যবহার করা ঠিক নয়। চিকিৎসকদের মতে, জ্বরের সময় কুসুম গরম বা ঈষদুষ্ণ পানি দিয়ে অল্প সময় গোসল করা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ও আরামদায়ক। এতে জ্বরের মূল কারণ দূর না হলেও শরীরের ঘাম, অস্বস্তি ও ক্লান্তি কিছুটা কমতে পারে।

জ্বর এলেই অনেকে গোসল করা বন্ধ করে দেন। আবার কেউ দ্রুত শরীরের তাপমাত্রা কমানোর আশায় বরফঠান্ডা পানি ব্যবহার করেন। কেউ কেউ মনে করেন, গরম পানি দিয়ে গোসল করলে শরীর আরাম পাবে। কিন্তু অতিরিক্ত ঠান্ডা কিংবা অতিরিক্ত গরম—দুই ধরনের পানিই জ্বরের সময় অস্বস্তি বাড়াতে পারে।

জ্বরের সময় ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করা থেকে বিরত থাকাই ভালো। হিমশীতল পানি শরীরে লাগলে কাঁপুনি শুরু হতে পারে। কাঁপুনির সময় শরীর নিজের তাপমাত্রা বাড়ানোর চেষ্টা করে এবং এতে শরীরে আরও তাপ তৈরি হতে পারে। ফলে জ্বর কমার পরিবর্তে অস্বস্তি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

আরও পড়ুন  তরুণীরা কেন বয়সে বড় পুরুষের প্রতি আকৃষ্ট হন

শুধু তাই নয়, ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর আরও অস্বস্তিকর লাগতে পারে। বিশেষ করে দুর্বলতা বা শরীর ব্যথার মতো উপসর্গ থাকলে ঠান্ডা পানি পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুলতে পারে। তাই জ্বরের সময় বরফঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল বা শরীর মোছানো এড়িয়ে চলাই ভালো।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত গরম পানিও জ্বরের সময় উপকারী নয়। খুব গরম পানিতে গোসল করলে শরীরে অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে এবং পানিশূন্যতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এর পাশাপাশি মাথা ঘোরা, দুর্বলতা ও অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। শরীরের তাপমাত্রা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে।

তাহলে জ্বর হলে কীভাবে গোসল করবেন? এ সময় কুসুম গরম বা ঈষদুষ্ণ পানি ব্যবহার করা যেতে পারে। খুব বেশি সময় ধরে গোসল না করে অল্প সময়ের মধ্যে গোসল শেষ করাই ভালো। গোসলের পর শরীর ভালোভাবে মুছে শুকনো ও আরামদায়ক পোশাক পরা উচিত।

আরও পড়ুন  মোবাইলেই শনাক্ত করুন হোটেলকক্ষের গোপন ক্যামেরা সহজে

কুসুম গরম পানিতে গোসল করলে জ্বরের কারণ দূর হয় না। তবে শরীরে জমে থাকা ঘাম ও অস্বস্তি কমাতে এটি সহায়ক হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে গোসলের পর শরীর কিছুটা সতেজ ও আরামদায়কও লাগে। তাই জ্বর হলেই গোসল একেবারে বন্ধ করে দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

তবে জ্বরের সময় গোসল করার আগে নিজের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করা জরুরি। কেউ যদি খুব দুর্বল হয়ে পড়েন, দাঁড়িয়ে থাকতে না পারেন, মাথা ঘোরে বা অচেতন ভাব থাকে, তাহলে গোসল না করাই ভালো। এ ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন  মস্তিষ্ক সচল রাখার সহজ ও কার্যকর উপায়

জ্বর নিজে কোনো রোগ নয়, বরং শরীরের একটি লক্ষণ। সাধারণত সংক্রমণ বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার বিরুদ্ধে শরীর প্রতিরোধ গড়ে তোলার সময় জ্বর দেখা দিতে পারে। তাই শুধু শরীরের তাপমাত্রা কমানোর চেষ্টা না করে জ্বরের কারণ খুঁজে বের করাও গুরুত্বপূর্ণ।

জ্বরের সময় পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া, নিয়মিত পানি ও তরল পান করা এবং হালকা ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ সেবন করতে হবে। জ্বর দীর্ঘস্থায়ী হলে বা গুরুতর কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

সব মিলিয়ে, জ্বরের সময় হিমশীতল বা অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে গোসল না করে কুসুম গরম পানি ব্যবহার করাই তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। অল্প সময় গোসল করে শরীর শুকিয়ে বিশ্রাম নেওয়া যেতে পারে। তবে শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে গোসলের চেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াকেই বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।