ঢাকা ০১:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo এসএসসি ফল প্রকাশ, জিপিএ–৫ পেল ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী Logo চট্টগ্রাম বোর্ডে এসএসসির ফলাফলে বড় পতন, পাসের হার ৫৯.৪৮ শতাংশ Logo ভক্তদের চমকে দিয়ে বিরতির ঘোষণা ক্যাটসআই তারকা সোফিয়ার Logo ছেলের জন্মের খবর শুনে যেন আরও সাহসী হয়ে উঠেছিলেন অমিতাভ বচ্চন! Logo বার্সা ছাড়তে চান তোরেস, পিএসজিতে যাওয়ার জোর গুঞ্জন Logo ইরানে অর্থনৈতিক চাপ বাড়াবেন ট্রাম্প, বড় ইঙ্গিত Logo স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিনের নতুন দায়িত্ব, প্রজ্ঞাপন জারি Logo ঢাকায় বৃষ্টির পূর্বাভাস, কখন নামবে বৃষ্টি? Logo প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভারতীয় হাইকমিশনারেরসঙ্গে প্রথমবার সৌজন্য সাক্ষাৎ আজ Logo সৌদি আরবে আগুনে ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যু, হৃদয়বিদারক ঘটনা

ছেলের জন্মের খবর শুনে যেন আরও সাহসী হয়ে উঠেছিলেন অমিতাভ বচ্চন!

‘খুন পসিনা’ সিনেমায় অমিতাভ বচ্চনের ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাকশন দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

অমিতাভ বচ্চনের ক্যারিয়ারের শুরুর সময়ের একটি অবিশ্বাস্য ঘটনা আবারও আলোচনায় এসেছে। ১৯৭৬ সালে ছেলে অভিষেক বচ্চনের জন্মের পর ‘খুন পসিনা’ সিনেমার শুটিংয়ে সত্যিকারের বাঘের সঙ্গে লড়াইয়ের দৃশ্যে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় এমন ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাকশন দৃশ্যে অভিনয় করা ছিল বলিউডের বাস্তবধর্মী নির্মাণের অন্যতম দৃষ্টান্ত। ছেলের জন্মের আনন্দ যেন সেই তরুণ অভিনেতার আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।

ঘটনাটি ঘটে ‘খুন পসিনা’র শুটিংয়ের সময়। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সে সময়ের অ্যাকশন মাস্টার মোহন বাগ্গাদ পুরোনো সেই স্মৃতি সামনে আনেন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, সিনেমায় অমিতাভের সঙ্গে বাঘের একটি দৃশ্য ছিল। দৃশ্যটির জন্য একজন স্টান্টম্যানকে নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও তাঁর চেহারা অমিতাভের সঙ্গে যথেষ্ট মিলছিল না। পরে বীরু দেবগনের দলের সদস্য মোহন বাগ্গাদকে ওই ঝুঁকিপূর্ণ কাজের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

সত্যিকারের বাঘের সামনে দাঁড়ানোর বিষয়টি সহজ ছিল না। মোহন বাগ্গাদ নিজেও ভয় পেয়েছিলেন, কারণ সেটি কোনো কৃত্রিম প্রাণী বা বিশেষ প্রযুক্তিনির্ভর দৃশ্য ছিল না। তবু তিনি কাজটি করতে রাজি হন। সত্তরের দশকের সিনেমার সঙ্গে বর্তমান সময়ের তুলনা করলে তখনকার ঝুঁকির মাত্রা স্পষ্ট হয়। এখন কম্পিউটার গ্রাফিকস, নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষিত স্টান্ট টিমের মাধ্যমে এমন দৃশ্য তৈরি করা সম্ভব হলেও সে সময় বাস্তব ঝুঁকি নিয়েই অনেক অ্যাকশন দৃশ্য ধারণ করা হতো।

অমিতাভের ক্যারিয়ারের সেই সময়টি ছিল তাঁর তারকা হয়ে ওঠার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ‘জঞ্জির’, ‘দিওয়ার’, ‘শোলে’ ও ‘ডন’-এর মতো সিনেমায় শক্তিশালী অ্যাকশন চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকের কাছে ‘অ্যাংরি ইয়াং ম্যান’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। ‘খুন পসিনা’ও তাঁর সেই সময়ের উল্লেখযোগ্য সিনেমা। তবে বাঘের সঙ্গে লড়াইয়ের গল্পকে আরও আবেগপূর্ণ করে তুলেছিল তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের বিশেষ একটি ঘটনা—ঠিক সেই সময় তিনি প্রথমবারের মতো বাবা হয়েছেন।

১৯৭৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি অমিতাভ ও জয়া বচ্চনের পরিবারে জন্ম নেয় তাঁদের ছেলে অভিষেক বচ্চন। ছেলের জন্মের আনন্দের মধ্যেই অমিতাভকে পেশাগত কাজে ফিরতে হয়েছিল। মোহন বাগ্গাদের স্মৃতিচারণায় উঠে আসে, সন্তানের জন্ম তাঁকে যেন নতুন সাহস দিয়েছিল। তাঁর বক্তব্যে ঘটনাটি এমন এক আবেগের সঙ্গে উঠে এসেছে, যেখানে অমিতাভ নিজের ঘরে জন্ম নেওয়া ছেলেকে শক্তির প্রতীক হিসেবে দেখেছিলেন। সেই মানসিক দৃঢ়তাই হয়তো ভয়ংকর দৃশ্যটির মুখোমুখি হওয়ার সাহস বাড়িয়েছিল।

অমিতাভের জীবনে অভিষেকের জন্ম ছিল গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায়। পরবর্তীতে অভিষেকও অভিনয় জগতে প্রবেশ করে নিজের পরিচিতি তৈরি করেন। আর ‘খুন পসিনা’র বাঘের সেই ঘটনা আজও বলিউডের পুরোনো অ্যাকশন যুগের বিস্ময়কর স্মৃতি হয়ে আছে। এটি শুধু একটি ঝুঁকিপূর্ণ শুটিংয়ের গল্প নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক তরুণ বাবার আবেগ, সাহস এবং তারকা হয়ে ওঠার সময়কার কঠিন পরিশ্রম। কয়েক দশক পরও সেই ঘটনা অমিতাভের কিংবদন্তি ক্যারিয়ারের এক অনন্য অধ্যায় হিসেবে মনে রাখার মতো।

জনপ্রিয় সংবাদ

এসএসসি ফল প্রকাশ, জিপিএ–৫ পেল ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী

ছেলের জন্মের খবর শুনে যেন আরও সাহসী হয়ে উঠেছিলেন অমিতাভ বচ্চন!

Update Time : ১১:৪৯:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

অমিতাভ বচ্চনের ক্যারিয়ারের শুরুর সময়ের একটি অবিশ্বাস্য ঘটনা আবারও আলোচনায় এসেছে। ১৯৭৬ সালে ছেলে অভিষেক বচ্চনের জন্মের পর ‘খুন পসিনা’ সিনেমার শুটিংয়ে সত্যিকারের বাঘের সঙ্গে লড়াইয়ের দৃশ্যে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় এমন ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাকশন দৃশ্যে অভিনয় করা ছিল বলিউডের বাস্তবধর্মী নির্মাণের অন্যতম দৃষ্টান্ত। ছেলের জন্মের আনন্দ যেন সেই তরুণ অভিনেতার আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।

ঘটনাটি ঘটে ‘খুন পসিনা’র শুটিংয়ের সময়। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সে সময়ের অ্যাকশন মাস্টার মোহন বাগ্গাদ পুরোনো সেই স্মৃতি সামনে আনেন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, সিনেমায় অমিতাভের সঙ্গে বাঘের একটি দৃশ্য ছিল। দৃশ্যটির জন্য একজন স্টান্টম্যানকে নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও তাঁর চেহারা অমিতাভের সঙ্গে যথেষ্ট মিলছিল না। পরে বীরু দেবগনের দলের সদস্য মোহন বাগ্গাদকে ওই ঝুঁকিপূর্ণ কাজের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন  তামান্না ভাটিয়া বিস্ফোরক মন্তব্য, দক্ষিণী সিনেমায় নারীদের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন

সত্যিকারের বাঘের সামনে দাঁড়ানোর বিষয়টি সহজ ছিল না। মোহন বাগ্গাদ নিজেও ভয় পেয়েছিলেন, কারণ সেটি কোনো কৃত্রিম প্রাণী বা বিশেষ প্রযুক্তিনির্ভর দৃশ্য ছিল না। তবু তিনি কাজটি করতে রাজি হন। সত্তরের দশকের সিনেমার সঙ্গে বর্তমান সময়ের তুলনা করলে তখনকার ঝুঁকির মাত্রা স্পষ্ট হয়। এখন কম্পিউটার গ্রাফিকস, নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষিত স্টান্ট টিমের মাধ্যমে এমন দৃশ্য তৈরি করা সম্ভব হলেও সে সময় বাস্তব ঝুঁকি নিয়েই অনেক অ্যাকশন দৃশ্য ধারণ করা হতো।

অমিতাভের ক্যারিয়ারের সেই সময়টি ছিল তাঁর তারকা হয়ে ওঠার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ‘জঞ্জির’, ‘দিওয়ার’, ‘শোলে’ ও ‘ডন’-এর মতো সিনেমায় শক্তিশালী অ্যাকশন চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকের কাছে ‘অ্যাংরি ইয়াং ম্যান’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। ‘খুন পসিনা’ও তাঁর সেই সময়ের উল্লেখযোগ্য সিনেমা। তবে বাঘের সঙ্গে লড়াইয়ের গল্পকে আরও আবেগপূর্ণ করে তুলেছিল তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের বিশেষ একটি ঘটনা—ঠিক সেই সময় তিনি প্রথমবারের মতো বাবা হয়েছেন।

আরও পড়ুন  আসামে বন্যা: গৃহহারা ৫০০ পরিবারের পাশে সালমান খান

১৯৭৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি অমিতাভ ও জয়া বচ্চনের পরিবারে জন্ম নেয় তাঁদের ছেলে অভিষেক বচ্চন। ছেলের জন্মের আনন্দের মধ্যেই অমিতাভকে পেশাগত কাজে ফিরতে হয়েছিল। মোহন বাগ্গাদের স্মৃতিচারণায় উঠে আসে, সন্তানের জন্ম তাঁকে যেন নতুন সাহস দিয়েছিল। তাঁর বক্তব্যে ঘটনাটি এমন এক আবেগের সঙ্গে উঠে এসেছে, যেখানে অমিতাভ নিজের ঘরে জন্ম নেওয়া ছেলেকে শক্তির প্রতীক হিসেবে দেখেছিলেন। সেই মানসিক দৃঢ়তাই হয়তো ভয়ংকর দৃশ্যটির মুখোমুখি হওয়ার সাহস বাড়িয়েছিল।

আরও পড়ুন  বাগদানের গুঞ্জনের মাঝেই নতুন ছবি শেয়ার করলেন পূজা চেরী

অমিতাভের জীবনে অভিষেকের জন্ম ছিল গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায়। পরবর্তীতে অভিষেকও অভিনয় জগতে প্রবেশ করে নিজের পরিচিতি তৈরি করেন। আর ‘খুন পসিনা’র বাঘের সেই ঘটনা আজও বলিউডের পুরোনো অ্যাকশন যুগের বিস্ময়কর স্মৃতি হয়ে আছে। এটি শুধু একটি ঝুঁকিপূর্ণ শুটিংয়ের গল্প নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক তরুণ বাবার আবেগ, সাহস এবং তারকা হয়ে ওঠার সময়কার কঠিন পরিশ্রম। কয়েক দশক পরও সেই ঘটনা অমিতাভের কিংবদন্তি ক্যারিয়ারের এক অনন্য অধ্যায় হিসেবে মনে রাখার মতো।