ঢাকা ০৪:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo শেষ দেখায় জাপানের কাছে হার, এবার কি ঘুরে দাঁড়াবে ব্রাজিল? Logo বিশ্বকাপে শেষ ৩২ নিশ্চিত ১৯ দল, বিদায় ৮ দেশের Logo সুপারগার্ল সিনেমা মুক্তি | চার দশক পর ফিরেই ডিসির সবচেয়ে বড় চমক Logo ব্রাজিলকে হারানোর স্বপ্ন দেখছে জাপান, কী বললেন কোচ মরিয়াসু Logo মেসির গোল হলে ভিনির কেন নয়? ফিফায় ব্রাজিলের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ Logo বড় অঘটন: ৪ বারের বিশ্বকাপ জয়ী জার্মানিকে হারিয়ে নকআউটে ইকুয়েডর Logo সোনার আংটি উপহার: সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্য বিজয়ের নতুন চমক Logo পবিত্র আশুরা আজ: রোজা-ইবাদতে দিনটি পালনের আহ্বান Logo মোদির নতুন চ্যালেঞ্জ ‘তেলাপোকা’ আন্দোলন, ক্ষুব্ধ ভারতের তরুণরা Logo ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্প, নিহত ২৩৫—বাঁচার আকুতি এখনো

পবিত্র আশুরা আজ: রোজা-ইবাদতে দিনটি পালনের আহ্বান

পবিত্র আশুরা হোক আত্মশুদ্ধি, ক্ষমা প্রার্থনা ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অনন্য উপলক্ষ।

আজ পবিত্র আশুরা, অর্থাৎ ইসলামি বর্ষপঞ্জির মহররম মাসের ১০ তারিখ। ইসলামের ইতিহাসে দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। এ উপলক্ষে মুসলমানদের রোজা রাখা, নামাজ আদায়, কোরআন তেলাওয়াত, তওবা-ইস্তিগফার এবং দান-সদকার মাধ্যমে দিনটি অতিবাহিত করার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী চিন্তাবিদরা। তারা বলেন, আশুরা শোক প্রকাশের দিন নয়; বরং ইবাদত, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের দিন।

ইসলামের ইতিহাসে আশুরার সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এর মধ্যে অন্যতম হলো আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহে হজরত মুসা (আ.) ও বনি ইসরাইলের ফেরাউনের অত্যাচার থেকে মুক্তি লাভ। বর্ণনা অনুযায়ী, আল্লাহর নির্দেশে লোহিত সাগর বিভক্ত হয়ে যায়। এতে মুসা (আ.) ও তাঁর অনুসারীরা নিরাপদে পার হতে সক্ষম হন, আর ফেরাউন ও তার বাহিনী সাগরে ডুবে যায়। এই ঘটনা আল্লাহর প্রতি ভরসা, ধৈর্য ও সত্যের বিজয়ের এক অনন্য শিক্ষা বহন করে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) আশুরার দিনকে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন এবং এ দিনে বিভিন্ন নেক আমল করতেন। হাদিসে আশুরার রোজার বিশেষ ফজিলতের কথাও উল্লেখ রয়েছে। ইসলামী গবেষকদের মতে, এই দিনটি আত্মসমালোচনা, আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা এবং নেক কাজ বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

আশুরার দিনে করণীয়

  • রোজা রাখা এবং সম্ভব হলে ৯ ও ১০ অথবা ১০ ও ১১ মহররম মিলিয়ে রোজা পালন করা।
  • পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথাযথভাবে আদায় করা।
  • বেশি বেশি তওবা ও ইস্তিগফার করা।
  • পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও নফল ইবাদতে সময় ব্যয় করা।
  • গরিব, অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে দান-সদকা করা।
  • নিজের, পরিবার এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করা।

ইসলামী চিন্তাবিদরা বলেন, আশুরার প্রকৃত শিক্ষা হলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় থাকা, আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখা এবং আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে জীবনকে সুন্দর করে গড়ে তোলা। তাই এ দিনে অতি শোক প্রকাশ, আত্মনির্যাতন বা শরিয়তবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে রোজা, নামাজ এবং আল্লাহর জিকিরে সময় কাটানোই একজন মুসলমানের জন্য উত্তম আমল।

তারা আরও বলেন, আশুরা কেবল একটি ঐতিহাসিক দিনের স্মরণ নয়; বরং এটি ত্যাগ, ধৈর্য, কৃতজ্ঞতা এবং আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ব্যক্তি ও সমাজজীবনে এসব শিক্ষা বাস্তবায়ন করলে মানবিক মূল্যবোধ আরও শক্তিশালী হবে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথ সুগম হবে।

ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, পবিত্র আশুরার মূল বার্তা হলো ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ, পাপ থেকে ফিরে আসা এবং মানবকল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করা। তাই আজকের এই পবিত্র দিনে মুসলমানদের উচিত বেশি বেশি ইবাদত করা, সৎকাজে অংশ নেওয়া এবং ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা নিজেদের জীবনে ধারণ করার চেষ্টা করা। এতে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে শান্তি এবং কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শেষ দেখায় জাপানের কাছে হার, এবার কি ঘুরে দাঁড়াবে ব্রাজিল?

পবিত্র আশুরা আজ: রোজা-ইবাদতে দিনটি পালনের আহ্বান

Update Time : ০২:৫০:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

আজ পবিত্র আশুরা, অর্থাৎ ইসলামি বর্ষপঞ্জির মহররম মাসের ১০ তারিখ। ইসলামের ইতিহাসে দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। এ উপলক্ষে মুসলমানদের রোজা রাখা, নামাজ আদায়, কোরআন তেলাওয়াত, তওবা-ইস্তিগফার এবং দান-সদকার মাধ্যমে দিনটি অতিবাহিত করার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী চিন্তাবিদরা। তারা বলেন, আশুরা শোক প্রকাশের দিন নয়; বরং ইবাদত, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের দিন।

ইসলামের ইতিহাসে আশুরার সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এর মধ্যে অন্যতম হলো আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহে হজরত মুসা (আ.) ও বনি ইসরাইলের ফেরাউনের অত্যাচার থেকে মুক্তি লাভ। বর্ণনা অনুযায়ী, আল্লাহর নির্দেশে লোহিত সাগর বিভক্ত হয়ে যায়। এতে মুসা (আ.) ও তাঁর অনুসারীরা নিরাপদে পার হতে সক্ষম হন, আর ফেরাউন ও তার বাহিনী সাগরে ডুবে যায়। এই ঘটনা আল্লাহর প্রতি ভরসা, ধৈর্য ও সত্যের বিজয়ের এক অনন্য শিক্ষা বহন করে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) আশুরার দিনকে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন এবং এ দিনে বিভিন্ন নেক আমল করতেন। হাদিসে আশুরার রোজার বিশেষ ফজিলতের কথাও উল্লেখ রয়েছে। ইসলামী গবেষকদের মতে, এই দিনটি আত্মসমালোচনা, আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা এবং নেক কাজ বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

আশুরার দিনে করণীয়

  • রোজা রাখা এবং সম্ভব হলে ৯ ও ১০ অথবা ১০ ও ১১ মহররম মিলিয়ে রোজা পালন করা।
  • পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথাযথভাবে আদায় করা।
  • বেশি বেশি তওবা ও ইস্তিগফার করা।
  • পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও নফল ইবাদতে সময় ব্যয় করা।
  • গরিব, অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে দান-সদকা করা।
  • নিজের, পরিবার এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করা।

ইসলামী চিন্তাবিদরা বলেন, আশুরার প্রকৃত শিক্ষা হলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় থাকা, আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখা এবং আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে জীবনকে সুন্দর করে গড়ে তোলা। তাই এ দিনে অতি শোক প্রকাশ, আত্মনির্যাতন বা শরিয়তবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে রোজা, নামাজ এবং আল্লাহর জিকিরে সময় কাটানোই একজন মুসলমানের জন্য উত্তম আমল।

তারা আরও বলেন, আশুরা কেবল একটি ঐতিহাসিক দিনের স্মরণ নয়; বরং এটি ত্যাগ, ধৈর্য, কৃতজ্ঞতা এবং আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ব্যক্তি ও সমাজজীবনে এসব শিক্ষা বাস্তবায়ন করলে মানবিক মূল্যবোধ আরও শক্তিশালী হবে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথ সুগম হবে।

ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, পবিত্র আশুরার মূল বার্তা হলো ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ, পাপ থেকে ফিরে আসা এবং মানবকল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করা। তাই আজকের এই পবিত্র দিনে মুসলমানদের উচিত বেশি বেশি ইবাদত করা, সৎকাজে অংশ নেওয়া এবং ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা নিজেদের জীবনে ধারণ করার চেষ্টা করা। এতে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে শান্তি এবং কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।