বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা দেশের অন্যতম ব্যস্ত মহানগর। এখানে প্রতিদিন লাখো মানুষ কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন প্রয়োজনে বাইরে বের হন। তাই ঢাকার আবহাওয়া সম্পর্কে আগাম ধারণা থাকলে দৈনন্দিন পরিকল্পনা করা অনেক সহজ হয়। আজকের আবহাওয়ায় গরম, উচ্চ আর্দ্রতা এবং বৃষ্টির সম্ভাবনা একসঙ্গে বিরাজ করবে। মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় প্রভাবের কারণে আবহাওয়ায় বারবার পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত আবহাওয়া তুলনামূলক শান্ত থাকবে। আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং সূর্যের আলো ধীরে ধীরে তীব্র হবে। সকাল ৮টার পর থেকেই তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করবে। যারা সকালে ব্যায়াম, হাঁটা বা দৌড়ানোর অভ্যাস করেন, তাদের জন্য এ সময়টি তুলনামূলক আরামদায়ক হলেও পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত।
দুপুরের দিকে সূর্যের তাপ সবচেয়ে বেশি অনুভূত হবে। উচ্চ আর্দ্রতার কারণে গরম আরও তীব্র মনে হতে পারে। বাইরে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলে ক্লান্তি, অতিরিক্ত ঘাম, পানিশূন্যতা কিংবা হিট এক্সহস্টশনের ঝুঁকি বাড়তে পারে। নির্মাণ শ্রমিক, রিকশাচালক, ট্রাফিক পুলিশ এবং খোলা আকাশের নিচে কর্মরত ব্যক্তিদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
বিকেলের দিকে আকাশে মেঘের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। অনেক এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও বজ্রসহ বৃষ্টির পাশাপাশি দমকা হাওয়াও বইতে পারে। বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা কিছুটা কমে গেলেও আর্দ্রতা বজায় থাকবে।
রাতের দিকে আবহাওয়া তুলনামূলক আরামদায়ক হবে। দিনের তুলনায় তাপমাত্রা কমে আসবে, তবে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় কিছুটা ভ্যাপসা অনুভূতি থাকতে পারে। কোথাও কোথাও রাতেও হালকা বৃষ্টি হতে পারে।
বর্তমানে বাংলাদেশে বর্ষাকাল চলমান। বঙ্গোপসাগর থেকে আসা আর্দ্র বায়ু দেশের ওপর সক্রিয় থাকায় প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও বৃষ্টি হচ্ছে। ঢাকাতেও একই পরিস্থিতির প্রভাব দেখা যাচ্ছে। দিনের শুরুতে রোদ থাকলেও বিকেল বা সন্ধ্যায় বৃষ্টিপাত এখন স্বাভাবিক ঘটনা।
আজ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে মৃদু থেকে মাঝারি গতিতে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। বজ্রবৃষ্টির সময় বাতাসের গতি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় দুর্বল গাছপালা বা অস্থায়ী স্থাপনার কাছাকাছি অবস্থান না করাই ভালো।
আজ বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা অনেক বেশি থাকবে। উচ্চ আর্দ্রতার কারণে শরীরের ঘাম দ্রুত শুকাতে পারে না। ফলে শরীর আরও গরম অনুভূত হয়। এ কারণে পর্যাপ্ত পানি পান এবং প্রয়োজন হলে ওরস্যালাইন গ্রহণ উপকারী হতে পারে।
স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ:
- প্রচুর পানি পান করুন।
- অতিরিক্ত রোদে দীর্ঘ সময় অবস্থান এড়িয়ে চলুন।
- হালকা ও সুতি কাপড় পরুন।
- ছাতা বা ক্যাপ ব্যবহার করুন।
- শিশু ও বয়স্কদের বিশেষ যত্ন নিন।
- বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গায় অবস্থান করবেন না।
- অতিরিক্ত ঘাম হলে বিশুদ্ধ পানি ও ইলেকট্রোলাইট গ্রহণ করুন।
বৃষ্টির কারণে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে। এতে যানজট বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অফিস সময়ে সড়কে যানবাহনের চাপ আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই বাড়তি সময় হাতে নিয়ে বের হওয়া এবং ট্রাফিক পরিস্থিতি জেনে যাত্রা শুরু করা ভালো।
যদিও ঢাকা মূলত নগরকেন্দ্রিক এলাকা, তবুও আশপাশের কৃষিজমির জন্য এই বৃষ্টি উপকারী হতে পারে। নিয়মিত বৃষ্টিপাত ফসলের জন্য আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে বৃষ্টির ফলে বাতাসের ধুলাবালি কিছুটা কমে পরিবেশ তুলনামূলক নির্মল হয়।
আজ বাইরে বের হলে অবশ্যই ছাতা বা রেইনকোট সঙ্গে রাখুন। বৈদ্যুতিক খুঁটি, উঁচু গাছ কিংবা খোলা মাঠে বজ্রপাতের সময় অবস্থান করবেন না। মোটরসাইকেল চালকদের হেলমেটের ভিজার পরিষ্কার রাখা এবং গতিসীমা মেনে চলা উচিত। গাড়িচালকদেরও ভেজা সড়কে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।





























