ঢাকা ১০:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেবদ্যুতি আইচের বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি, প্রথম সিনেমাতেই জেলে যাওয়ার ভয়!

প্রথম কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করে আলোচনায় দেবদ্যুতি আইচ। ছবি: সংগৃহীত

দেবদ্যুতি আইচ অভিনয়জীবনের দীর্ঘ অপেক্ষার পর বড় পর্দায় অভিষেক করেছেন ‘দ্যা ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’ সিনেমার মাধ্যমে। তবে প্রথম সিনেমার গল্প হাতে পেয়েই তার মনে ভয় ঢুকে গিয়েছিল। এমনকি একপর্যায়ে মনে হয়েছিল, সাহসী রাজনৈতিক ব্যঙ্গধর্মী এই সিনেমায় অভিনয় করতে গিয়ে হয়তো জেলেও যেতে হতে পারে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এমন খোলামেলা মন্তব্য করেছেন এই নবীন অভিনেতা।

ময়মনসিংহের ছেলে দেবদ্যুতি ছোটবেলা থেকেই অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই অভিনয়ের প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে থিয়েটারচর্চার মাধ্যমে অভিনয়ের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেন। থিয়েটারে দীর্ঘ সাত বছর কাজ করার পাশাপাশি বাংলাদেশ ও কলকাতার বিভিন্ন স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন তিনি। প্রায় ১৭ বছরের প্রস্তুতি ও সংগ্রামের পর কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান ‘দ্যা ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’ সিনেমায়।

সিনেমাটিতে তিনি ‘হর্সম্যান’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। চরিত্রটি সম্পর্কে বলতে গিয়ে দেবদ্যুতি জানান, হর্সম্যান একজন সাধারণ তরুণ, যে সমাজে পরিবর্তন আনার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু গল্প যত এগোয়, চরিত্রটির জটিলতা ততই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই চরিত্রকে বাস্তবসম্মতভাবে ফুটিয়ে তুলতে তিনি প্রায় দুই মাস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সময় কাটিয়েছেন। ছাত্ররাজনীতি, হলজীবন, গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন।

সিনেমাটি নিয়ে সবচেয়ে আলোচিত মন্তব্যটি করেন রাজনৈতিক ব্যঙ্গের প্রসঙ্গে। দেবদ্যুতি বলেন, স্ক্রিপ্ট প্রথম পড়েই বুঝেছিলেন এটি সাহসী এবং স্পর্শকাতর একটি কাজ। যখন জানতে পারেন তাকে কেন্দ্রীয় চরিত্রের জন্য ভাবা হচ্ছে, তখন মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছিল—‘প্রথম সিনেমা করেই না আবার জেলে যেতে হয়!’ তবে ভয়কে তিনি সবসময় চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেন। তার ভাষায়, যে কাজ তাকে ভয় দেখায়, সেই কাজের প্রতিই তার আগ্রহ আরও বেড়ে যায়।

চরিত্রের সঙ্গে নিজের মিল নিয়েও কথা বলেছেন এই অভিনেতা। তিনি মনে করেন, যেমন তিনি অভিনয়ের স্বপ্ন পূরণে দীর্ঘ সংগ্রাম করেছেন, তেমনি হর্সম্যানও নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য লড়াই করেছে। এই মিলই চরিত্রটিকে আরও গভীরভাবে বুঝতে তাকে সাহায্য করেছে। যদিও হর্সম্যানের শেষ পরিণতি বা তার অবস্থান নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি তিনি। দর্শকদের ওপরই সেই সিদ্ধান্ত ছেড়ে দিয়েছেন।

গত ১২ জুন মুক্তি পাওয়া ‘দ্যা ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’ সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন আকাশ হক। এটি লেখক রনো আনোয়ার-এর ছোটগল্প ‘ঝরা পাতার দুঃখ বিলাস’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মিত হয়েছে। প্রথম সিনেমাতেই নিজের অভিনয় ও সাহসী মন্তব্যের মাধ্যমে আলোচনায় উঠে আসা দেবদ্যুতি আইচ এখন দর্শকদের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

দেবদ্যুতি আইচের বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি, প্রথম সিনেমাতেই জেলে যাওয়ার ভয়!

Update Time : ০৯:২২:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

দেবদ্যুতি আইচ অভিনয়জীবনের দীর্ঘ অপেক্ষার পর বড় পর্দায় অভিষেক করেছেন ‘দ্যা ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’ সিনেমার মাধ্যমে। তবে প্রথম সিনেমার গল্প হাতে পেয়েই তার মনে ভয় ঢুকে গিয়েছিল। এমনকি একপর্যায়ে মনে হয়েছিল, সাহসী রাজনৈতিক ব্যঙ্গধর্মী এই সিনেমায় অভিনয় করতে গিয়ে হয়তো জেলেও যেতে হতে পারে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এমন খোলামেলা মন্তব্য করেছেন এই নবীন অভিনেতা।

ময়মনসিংহের ছেলে দেবদ্যুতি ছোটবেলা থেকেই অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই অভিনয়ের প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে থিয়েটারচর্চার মাধ্যমে অভিনয়ের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেন। থিয়েটারে দীর্ঘ সাত বছর কাজ করার পাশাপাশি বাংলাদেশ ও কলকাতার বিভিন্ন স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন তিনি। প্রায় ১৭ বছরের প্রস্তুতি ও সংগ্রামের পর কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান ‘দ্যা ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’ সিনেমায়।

আরও পড়ুন  ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ইস্রাফীল

সিনেমাটিতে তিনি ‘হর্সম্যান’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। চরিত্রটি সম্পর্কে বলতে গিয়ে দেবদ্যুতি জানান, হর্সম্যান একজন সাধারণ তরুণ, যে সমাজে পরিবর্তন আনার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু গল্প যত এগোয়, চরিত্রটির জটিলতা ততই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই চরিত্রকে বাস্তবসম্মতভাবে ফুটিয়ে তুলতে তিনি প্রায় দুই মাস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সময় কাটিয়েছেন। ছাত্ররাজনীতি, হলজীবন, গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন।

আরও পড়ুন  শহীদ মিনারে কারিনা কায়সারের জানাজা, রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতি

সিনেমাটি নিয়ে সবচেয়ে আলোচিত মন্তব্যটি করেন রাজনৈতিক ব্যঙ্গের প্রসঙ্গে। দেবদ্যুতি বলেন, স্ক্রিপ্ট প্রথম পড়েই বুঝেছিলেন এটি সাহসী এবং স্পর্শকাতর একটি কাজ। যখন জানতে পারেন তাকে কেন্দ্রীয় চরিত্রের জন্য ভাবা হচ্ছে, তখন মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছিল—‘প্রথম সিনেমা করেই না আবার জেলে যেতে হয়!’ তবে ভয়কে তিনি সবসময় চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেন। তার ভাষায়, যে কাজ তাকে ভয় দেখায়, সেই কাজের প্রতিই তার আগ্রহ আরও বেড়ে যায়।

চরিত্রের সঙ্গে নিজের মিল নিয়েও কথা বলেছেন এই অভিনেতা। তিনি মনে করেন, যেমন তিনি অভিনয়ের স্বপ্ন পূরণে দীর্ঘ সংগ্রাম করেছেন, তেমনি হর্সম্যানও নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য লড়াই করেছে। এই মিলই চরিত্রটিকে আরও গভীরভাবে বুঝতে তাকে সাহায্য করেছে। যদিও হর্সম্যানের শেষ পরিণতি বা তার অবস্থান নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি তিনি। দর্শকদের ওপরই সেই সিদ্ধান্ত ছেড়ে দিয়েছেন।

আরও পড়ুন  শাবনূরকে নিয়ে আবেগঘন বার্তায় মুগ্ধ করলেন পূর্ণিমা

গত ১২ জুন মুক্তি পাওয়া ‘দ্যা ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’ সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন আকাশ হক। এটি লেখক রনো আনোয়ার-এর ছোটগল্প ‘ঝরা পাতার দুঃখ বিলাস’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মিত হয়েছে। প্রথম সিনেমাতেই নিজের অভিনয় ও সাহসী মন্তব্যের মাধ্যমে আলোচনায় উঠে আসা দেবদ্যুতি আইচ এখন দর্শকদের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।