ঢাকা ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৯ দিনেই রেকর্ড! সামান্থার সিনেমার আয় দেখে অবাক সবাই

‘মা ইনতি বাঙ্গারাম’ সিনেমার একটি আলোচিত দৃশ্যে সামান্থা রুথ প্রভু। ছবি: সংগৃহীত

সামান্থা রুথ প্রভুর অভিনীত ও প্রযোজিত ‘মা ইনতি বাঙ্গারাম’ মুক্তির মাত্র নয় দিনেই বক্স অফিসে নতুন রেকর্ড গড়ার পথে। ভারতের বাজারে ছবিটির আয় ৪৪ থেকে ৪৫ কোটি রুপির কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী ছবিটির আয় ইতোমধ্যে প্রায় ৬৫ কোটি রুপি ছুঁয়েছে, যা সামান্থার ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রথম সপ্তাহ থেকেই দর্শকদের ইতিবাচক সাড়া পেয়ে আসছে ছবিটি। দ্বিতীয় সপ্তাহেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। পরিবারকেন্দ্রিক গল্প, শক্তিশালী নারী চরিত্র এবং মুখে মুখে প্রচারণার কারণে সিনেমাটি এখনো প্রেক্ষাগৃহে ভালো দর্শক টানছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে এর জনপ্রিয়তা অব্যাহত রয়েছে।

মুক্তির অষ্টম দিনে ভারতে সিনেমাটি আনুমানিক ৪ কোটি ৬৫ লাখ রুপি আয় করে। এর ফলে দেশীয় বক্স অফিসে মোট আয় ৪০ কোটি রুপির মাইলফলক অতিক্রম করে। একই সময়ে বিশ্বব্যাপী আয় পৌঁছে যায় প্রায় ৬৫ কোটি রুপিতে, যা নারীপ্রধান একটি বাণিজ্যিক ছবির জন্য উল্লেখযোগ্য অর্জন।

বক্স অফিস বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, অষ্টম দিনে ছবিটির গড় দর্শক উপস্থিতি ছিল ৩৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রতিটি শোতেই দর্শকের উপস্থিতি ছিল সন্তোষজনক। বিশেষ করে অন্ধ্র প্রদেশ ও তেলেঙ্গানায় সিনেমাটি এখনো শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে।

নবম দিনের প্রাথমিক তথ্য আরও আশাব্যঞ্জক। এদিন ছবিটির গড় অকুপেন্সি বেড়ে দাঁড়ায় ৩৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যার শোগুলোতে দর্শকের উপস্থিতি আগের দিনের তুলনায় আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। রাতের শোর হিসাব প্রকাশ না হলেও বিশ্লেষকদের ধারণা, নবম দিনেও ছবিটি ৩ থেকে ৪ কোটি রুপি আয় করতে পারে।

এমনটি হলে ভারতের বাজারে ছবিটির মোট নেট আয় ৪৪ থেকে ৪৫ কোটি রুপির কাছাকাছি পৌঁছে যাবে। একই সঙ্গে এটি সামান্থা রুথ প্রভুর একক নায়িকা হিসেবে অভিনীত সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমার রেকর্ড গড়বে। বড় কোনো পুরুষ তারকার উপস্থিতি ছাড়াই শুধুমাত্র সামান্থার অভিনয় দর্শকদের হলে টেনে আনতে সক্ষম হয়েছে।

ছবিটি পরিচালনা করেছেন নন্দিনী রেড্ডি। শুরু থেকেই তিনি এবং সামান্থা জানিয়েছিলেন, প্রচলিত নারীকেন্দ্রিক গল্পের বাইরে গিয়ে শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী এক নারী চরিত্রকে বড় পরিসরের বাণিজ্যিক সিনেমায় তুলে ধরাই ছিল তাঁদের লক্ষ্য। সেই ভাবনাই দর্শকদের কাছে ইতিবাচকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়েছে।

সিনেমায় সামান্থাকে একজন সাহসী ও লড়াকু নারী হিসেবে দেখা যায়, যিনি নিজের পরিবারকে রক্ষা করতে ঝুঁকি নিতে পিছপা হন না। শাড়ি পরে তাঁর অ্যাকশন দৃশ্যগুলো ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ট্রেলারে দেখা বাস ফাইট দৃশ্যটি প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের কাছ থেকে ব্যাপক করতালি পেয়েছে।

সমালোচকদের মতে, ‘মা ইনতি বাঙ্গারাম’ নারী ক্ষমতায়নের দীর্ঘ বক্তৃতা দেয় না; বরং একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক বিনোদনের মাধ্যমে শক্তিশালী নারী চরিত্রকে তুলে ধরে। অ্যাকশন, আবেগ, পারিবারিক বন্ধন ও বিনোদনের সমন্বয়ই ছবিটির সাফল্যের মূল কারণ। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে সামান্থার ক্যারিয়ারে এটি নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

৯ দিনেই রেকর্ড! সামান্থার সিনেমার আয় দেখে অবাক সবাই

Update Time : ০৯:৩৯:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

সামান্থা রুথ প্রভুর অভিনীত ও প্রযোজিত ‘মা ইনতি বাঙ্গারাম’ মুক্তির মাত্র নয় দিনেই বক্স অফিসে নতুন রেকর্ড গড়ার পথে। ভারতের বাজারে ছবিটির আয় ৪৪ থেকে ৪৫ কোটি রুপির কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী ছবিটির আয় ইতোমধ্যে প্রায় ৬৫ কোটি রুপি ছুঁয়েছে, যা সামান্থার ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রথম সপ্তাহ থেকেই দর্শকদের ইতিবাচক সাড়া পেয়ে আসছে ছবিটি। দ্বিতীয় সপ্তাহেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। পরিবারকেন্দ্রিক গল্প, শক্তিশালী নারী চরিত্র এবং মুখে মুখে প্রচারণার কারণে সিনেমাটি এখনো প্রেক্ষাগৃহে ভালো দর্শক টানছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে এর জনপ্রিয়তা অব্যাহত রয়েছে।

মুক্তির অষ্টম দিনে ভারতে সিনেমাটি আনুমানিক ৪ কোটি ৬৫ লাখ রুপি আয় করে। এর ফলে দেশীয় বক্স অফিসে মোট আয় ৪০ কোটি রুপির মাইলফলক অতিক্রম করে। একই সময়ে বিশ্বব্যাপী আয় পৌঁছে যায় প্রায় ৬৫ কোটি রুপিতে, যা নারীপ্রধান একটি বাণিজ্যিক ছবির জন্য উল্লেখযোগ্য অর্জন।

আরও পড়ুন  সোনার আংটি উপহার: সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্য বিজয়ের নতুন চমক

বক্স অফিস বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, অষ্টম দিনে ছবিটির গড় দর্শক উপস্থিতি ছিল ৩৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রতিটি শোতেই দর্শকের উপস্থিতি ছিল সন্তোষজনক। বিশেষ করে অন্ধ্র প্রদেশ ও তেলেঙ্গানায় সিনেমাটি এখনো শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে।

নবম দিনের প্রাথমিক তথ্য আরও আশাব্যঞ্জক। এদিন ছবিটির গড় অকুপেন্সি বেড়ে দাঁড়ায় ৩৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যার শোগুলোতে দর্শকের উপস্থিতি আগের দিনের তুলনায় আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। রাতের শোর হিসাব প্রকাশ না হলেও বিশ্লেষকদের ধারণা, নবম দিনেও ছবিটি ৩ থেকে ৪ কোটি রুপি আয় করতে পারে।

আরও পড়ুন  চলে গেলেন টেলিভিশন কমেডির কিংবদন্তি

এমনটি হলে ভারতের বাজারে ছবিটির মোট নেট আয় ৪৪ থেকে ৪৫ কোটি রুপির কাছাকাছি পৌঁছে যাবে। একই সঙ্গে এটি সামান্থা রুথ প্রভুর একক নায়িকা হিসেবে অভিনীত সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমার রেকর্ড গড়বে। বড় কোনো পুরুষ তারকার উপস্থিতি ছাড়াই শুধুমাত্র সামান্থার অভিনয় দর্শকদের হলে টেনে আনতে সক্ষম হয়েছে।

ছবিটি পরিচালনা করেছেন নন্দিনী রেড্ডি। শুরু থেকেই তিনি এবং সামান্থা জানিয়েছিলেন, প্রচলিত নারীকেন্দ্রিক গল্পের বাইরে গিয়ে শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী এক নারী চরিত্রকে বড় পরিসরের বাণিজ্যিক সিনেমায় তুলে ধরাই ছিল তাঁদের লক্ষ্য। সেই ভাবনাই দর্শকদের কাছে ইতিবাচকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়েছে।

আরও পড়ুন  ৫টি গোপন কারণে ঘরোয়াভাবে সম্পন্ন হচ্ছে আমির খানের বিয়ে!

সিনেমায় সামান্থাকে একজন সাহসী ও লড়াকু নারী হিসেবে দেখা যায়, যিনি নিজের পরিবারকে রক্ষা করতে ঝুঁকি নিতে পিছপা হন না। শাড়ি পরে তাঁর অ্যাকশন দৃশ্যগুলো ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ট্রেলারে দেখা বাস ফাইট দৃশ্যটি প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের কাছ থেকে ব্যাপক করতালি পেয়েছে।

সমালোচকদের মতে, ‘মা ইনতি বাঙ্গারাম’ নারী ক্ষমতায়নের দীর্ঘ বক্তৃতা দেয় না; বরং একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক বিনোদনের মাধ্যমে শক্তিশালী নারী চরিত্রকে তুলে ধরে। অ্যাকশন, আবেগ, পারিবারিক বন্ধন ও বিনোদনের সমন্বয়ই ছবিটির সাফল্যের মূল কারণ। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে সামান্থার ক্যারিয়ারে এটি নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে।