বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি আজ থেকে দেশের ২৯ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে শুরু হচ্ছে। পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সবুজায়নের গুরুত্ব তুলে ধরতেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একযোগে অংশ নেবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অন্তত কয়েকটি ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হবে। শুধু গাছ লাগানোই নয়, প্রতিটি চারার পরিচর্যা ও সংরক্ষণের দায়িত্বও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ গড়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই কর্মসূচিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণকে কেন্দ্র করে সচেতনতামূলক আলোচনা, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং পরিবেশ বিষয়ক নানা কার্যক্রমও আয়োজন করা হবে। এতে শিক্ষার্থীরা শুধু বইয়ের পাঠ নয়, বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমেও পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর অন্যতম। অতিরিক্ত তাপমাত্রা, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, নদীভাঙন ও বায়ুদূষণের মতো সমস্যার মোকাবিলায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক এই উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পরিবেশবান্ধব চিন্তা ও জীবনধারার সঙ্গে যুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পরিবেশবিদরা বলছেন, একটি পূর্ণবয়স্ক গাছ বছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে এবং অক্সিজেন সরবরাহের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। একই সঙ্গে গাছ মাটির ক্ষয়রোধ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং স্থানীয় আবহাওয়াকে সহনীয় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গাছ লাগানোর পাশাপাশি সেগুলোর নিয়মিত পরিচর্যার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।
সরকারের আশা, এই কর্মসূচি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন হয়ে থাকবে না; বরং এটি শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন অভ্যাসের অংশ হয়ে উঠবে। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি করে সবুজ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব শিক্ষার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গাছ লাগানোর পর সেগুলোর বেঁচে থাকার হার নিশ্চিত করতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোন প্রতিষ্ঠানে কতটি চারা রোপণ করা হয়েছে এবং কতগুলো গাছ টিকে রয়েছে, সে বিষয়েও তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। সফলভাবে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করেন, ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের গাছ লাগানোর অভ্যাস তৈরি করা গেলে ভবিষ্যতে পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। একটি গাছ শুধু ছায়া বা ফলই দেয় না, এটি মানুষের সুস্থ জীবন, বিশুদ্ধ বায়ু এবং নিরাপদ ভবিষ্যতের প্রতীক। তাই প্রত্যেক শিক্ষার্থী যদি অন্তত একটি গাছের দায়িত্ব নেয়, তাহলে কয়েক বছরের মধ্যেই দেশের সবুজায়নে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসতে পারে।
দেশব্যাপী একযোগে শুরু হওয়া বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিবেশ রক্ষায় সরকারের অন্যতম বড় উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক এই কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে, সবুজ ক্যাম্পাস গড়ে উঠবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

























