ঢাকা ০১:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানি প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ Logo যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টন গম আমদানি অনুমোদন Logo আলি খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন না নরেন্দ্র মোদি Logo দীপিকা-ক্যাটরিনাকে পেছনে ফেলে আলিয়ার নতুন রেকর্ড, চমকে গেল বলিউড Logo দোষ কি গোলরক্ষকদের, নাকি বিশ্বকাপের নতুন বলের? Logo ফোয়েবি ব্রিজার্সের দারুণ প্রত্যাবর্তন, আসছে নতুন অ্যালবাম Logo লিওনেল মেসি স্পাইডার-ম্যান প্রচারণায়, পারিশ্রমিক শুনে চোখ কপালে! Logo ম্যাচের আগেই মেসিকে হারিয়ে দিলেন এক প্রেসিডেন্ট! কী বললেন তিনি? Logo সময় রায়না ঘিরে তুমুল বিতর্ক, নেটফ্লিক্সে দারুণ প্রত্যাবর্তন Logo শি জিনপিংয়ের বড় বার্তা, কেন বদলে যেতে বললেন কমিউনিস্ট পার্টিকে?

জয়া আহসানের অভিনয়যাত্রা, দুই বাংলায় সাফল্যের অনন্য গল্প

জন্মদিনে শুভেচ্ছায় সিক্ত অভিনেত্রী জয়া আহসান। ছবি: সংগৃহীত

জয়া আহসান বাংলাদেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনের অন্যতম আলোচিত ও সফল অভিনেত্রী। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তিনি শুধু দেশের দর্শকদের মন জয় করেননি, বরং পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্র অঙ্গনেও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। আজ ১ জুলাই এই জনপ্রিয় অভিনেত্রীর জন্মদিন। বিশেষ এই দিনে সহকর্মী, ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের শুভেচ্ছায় ভাসছেন তিনি। অভিনয়ে বৈচিত্র্য, চরিত্র নির্বাচনে সচেতনতা এবং ধারাবাহিক সাফল্যের কারণে জয়া আহসান দুই বাংলার অন্যতম পরিচিত মুখে পরিণত হয়েছেন।

শৈশব থেকেই শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ ছিল জয়ার। ছবি আঁকা, নাচ ও গান শেখার পাশাপাশি তিনি ধীরে ধীরে অভিনয়ের প্রতি আকৃষ্ট হন। ছোটপর্দার নাটক ও বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে শোবিজে যাত্রা শুরু করেন। টেলিভিশনে জনপ্রিয়তা অর্জনের পর বড় পর্দায় অভিনয়ের সিদ্ধান্ত নেন। ২০০৪ সালে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত ‘ব্যাচেলর’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হলেও কয়েক বছর বিরতির পর ২০১০ সালে ‘ডুবসাঁতার’ দিয়ে আবার বড় পর্দায় ফিরে আসেন।

জয়ার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় মোড় আসে ২০১১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘গেরিলা’ সিনেমার মাধ্যমে। নাসির উদ্দীন ইউসুফ পরিচালিত এই চলচ্চিত্রে ‘বিলকিস’ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি প্রথমবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। এরপর ‘চোরাবালি’, ‘জিরো ডিগ্রি’, ‘দেবী’ এবং ‘বিউটি সার্কাস’-এ অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ আরও একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। বর্তমানে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জনকারী অভিনেত্রীদের মধ্যে তিনি অন্যতম।

বাংলাদেশের পাশাপাশি কলকাতার চলচ্চিত্রেও জয়া আহসান সমান সফল। কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘বিসর্জন’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি পশ্চিমবঙ্গেও ব্যাপক প্রশংসা পান। এছাড়া ‘কণ্ঠ’, ‘রোববার’, ‘অর্ধাঙ্গিনী’সহ একাধিক আলোচিত সিনেমায় অভিনয় করেছেন। কলকাতার বিভিন্ন পুরস্কার আসরেও তিনি সেরা অভিনেত্রীর স্বীকৃতি পেয়েছেন। দুই বাংলার দর্শকদের কাছে সমান জনপ্রিয়তা ধরে রাখার কৃতিত্ব খুব কম শিল্পীরই রয়েছে।

অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজক হিসেবেও সফল জয়া। তাঁর প্রযোজিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘দেবী’ দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা পাওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবেও সফল হয়। এরপর নতুন প্রযোজনা নিয়েও কাজ করছেন তিনি। ২০২৩ সালে অনিরুদ্ধ রায় চৌধুরী পরিচালিত হিন্দি চলচ্চিত্র ‘কদক সিং’-এর মাধ্যমে বলিউডেও অভিষেক ঘটে তাঁর। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র ‘ফেরেশতে’ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়ে আলোচনায় আসে।

অভিনয়ের প্রতিটি ধাপে নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন জয়া আহসান। বাংলাদেশ ও ভারতের চলচ্চিত্রে সমানতালে কাজ করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি নিয়মিত উপস্থিতি রাখছেন। জন্মদিনের এই বিশেষ দিনে তাঁর দীর্ঘ অভিনয়জীবনের সাফল্য, অর্জন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ভক্তদের আগ্রহও তুঙ্গে। নতুন নতুন চরিত্রে দর্শকদের সামনে হাজির হয়ে বাংলা চলচ্চিত্রকে আরও সমৃদ্ধ করবেন—এমন প্রত্যাশাই করছেন তাঁর অনুরাগীরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানি প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ

জয়া আহসানের অভিনয়যাত্রা, দুই বাংলায় সাফল্যের অনন্য গল্প

Update Time : ০৯:৪৩:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

জয়া আহসান বাংলাদেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনের অন্যতম আলোচিত ও সফল অভিনেত্রী। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তিনি শুধু দেশের দর্শকদের মন জয় করেননি, বরং পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্র অঙ্গনেও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। আজ ১ জুলাই এই জনপ্রিয় অভিনেত্রীর জন্মদিন। বিশেষ এই দিনে সহকর্মী, ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের শুভেচ্ছায় ভাসছেন তিনি। অভিনয়ে বৈচিত্র্য, চরিত্র নির্বাচনে সচেতনতা এবং ধারাবাহিক সাফল্যের কারণে জয়া আহসান দুই বাংলার অন্যতম পরিচিত মুখে পরিণত হয়েছেন।

শৈশব থেকেই শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ ছিল জয়ার। ছবি আঁকা, নাচ ও গান শেখার পাশাপাশি তিনি ধীরে ধীরে অভিনয়ের প্রতি আকৃষ্ট হন। ছোটপর্দার নাটক ও বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে শোবিজে যাত্রা শুরু করেন। টেলিভিশনে জনপ্রিয়তা অর্জনের পর বড় পর্দায় অভিনয়ের সিদ্ধান্ত নেন। ২০০৪ সালে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত ‘ব্যাচেলর’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হলেও কয়েক বছর বিরতির পর ২০১০ সালে ‘ডুবসাঁতার’ দিয়ে আবার বড় পর্দায় ফিরে আসেন।

আরও পড়ুন  দেবদ্যুতি আইচের বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি, প্রথম সিনেমাতেই জেলে যাওয়ার ভয়!

জয়ার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় মোড় আসে ২০১১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘গেরিলা’ সিনেমার মাধ্যমে। নাসির উদ্দীন ইউসুফ পরিচালিত এই চলচ্চিত্রে ‘বিলকিস’ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি প্রথমবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। এরপর ‘চোরাবালি’, ‘জিরো ডিগ্রি’, ‘দেবী’ এবং ‘বিউটি সার্কাস’-এ অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ আরও একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। বর্তমানে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জনকারী অভিনেত্রীদের মধ্যে তিনি অন্যতম।

আরও পড়ুন  প্রেমিকের অন্য সম্পর্কে আপত্তি নেই! মন্তব্যে বিতর্কে নিকি গ্লেজার

বাংলাদেশের পাশাপাশি কলকাতার চলচ্চিত্রেও জয়া আহসান সমান সফল। কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘বিসর্জন’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি পশ্চিমবঙ্গেও ব্যাপক প্রশংসা পান। এছাড়া ‘কণ্ঠ’, ‘রোববার’, ‘অর্ধাঙ্গিনী’সহ একাধিক আলোচিত সিনেমায় অভিনয় করেছেন। কলকাতার বিভিন্ন পুরস্কার আসরেও তিনি সেরা অভিনেত্রীর স্বীকৃতি পেয়েছেন। দুই বাংলার দর্শকদের কাছে সমান জনপ্রিয়তা ধরে রাখার কৃতিত্ব খুব কম শিল্পীরই রয়েছে।

অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজক হিসেবেও সফল জয়া। তাঁর প্রযোজিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘দেবী’ দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা পাওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবেও সফল হয়। এরপর নতুন প্রযোজনা নিয়েও কাজ করছেন তিনি। ২০২৩ সালে অনিরুদ্ধ রায় চৌধুরী পরিচালিত হিন্দি চলচ্চিত্র ‘কদক সিং’-এর মাধ্যমে বলিউডেও অভিষেক ঘটে তাঁর। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র ‘ফেরেশতে’ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়ে আলোচনায় আসে।

আরও পড়ুন  নায়িকা মৌসুমীর মা হাসপাতালে: দোয়া চাইলেন ওমর সানী

অভিনয়ের প্রতিটি ধাপে নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন জয়া আহসান। বাংলাদেশ ও ভারতের চলচ্চিত্রে সমানতালে কাজ করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি নিয়মিত উপস্থিতি রাখছেন। জন্মদিনের এই বিশেষ দিনে তাঁর দীর্ঘ অভিনয়জীবনের সাফল্য, অর্জন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ভক্তদের আগ্রহও তুঙ্গে। নতুন নতুন চরিত্রে দর্শকদের সামনে হাজির হয়ে বাংলা চলচ্চিত্রকে আরও সমৃদ্ধ করবেন—এমন প্রত্যাশাই করছেন তাঁর অনুরাগীরা।