টক্সিক সিনেমা মুক্তির আগেই নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। দক্ষিণী সুপারস্টার ইয়াশ অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত এই সিনেমার নতুন প্রমোশনাল ভিডিও ‘লেডিজ অ্যান্ড লেডিজ’ প্রকাশের পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল বেড়েছে। ভিডিওটিতে শুধু অ্যাকশন নয়, বরং রহস্যময় আবহ, শক্তিশালী নারী চরিত্র এবং ব্যতিক্রমী একটি সতর্কবার্তা সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভিডিওটি নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা।
সম্প্রতি প্রকাশিত ১ মিনিট ৪৪ সেকেন্ডের এই প্রমো ভিডিওর শুরুতেই নির্মাতারা একটি ভিন্নধর্মী সতর্কবার্তা দিয়েছেন। সেখানে বলা হয়, “শিশুরা দূরে থাকো। অভিভাবকরা নিশ্চিত করুন শিশুরা যেন এটি না দেখে। দাদা-দাদিরাও সাবধান। আর প্রপিতামহ-প্রমাতামহদের জন্য—নিজ দায়িত্বে দেখুন।” এমন অস্বাভাবিক বার্তা শুরু থেকেই দর্শকদের মনে সিনেমাটির অন্ধকার ও রহস্যময় জগত সম্পর্কে কৌতূহল তৈরি করে।
ভিডিওজুড়ে শোনা যায় এক নারীকণ্ঠের ভয়েসওভার, যেখানে বলা হয়, “ভালোবাসা নারীদের দানবে পরিণত করে। প্রতারণার গভীরতা বুঝতে পারলেই এর সৌন্দর্য ধরা পড়ে।” এই সংলাপের মধ্য দিয়ে সিনেমার নারী চরিত্রগুলোর জটিল মানসিকতা ও শক্তিশালী উপস্থিতির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এরপর একে একে পর্দায় হাজির হন নয়নতারা, কিয়ারা আদভানি, তারা সুতারিয়া, রুক্মিণী বসন্ত এবং হুমা কুরেশি। প্রত্যেককে ভিন্ন ভিন্ন রহস্যময় ও স্টাইলিশ রূপে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা সিনেমার প্রতি আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রমোর শেষদিকে দৃশ্যপট হঠাৎ বদলে যায়। একটি বারে শুরু হয় উত্তেজনাপূর্ণ সংঘর্ষ, যেখানে ইয়াশ অভিনীত কেন্দ্রীয় চরিত্র ‘রায়া’ শান্তভাবে প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন, “একজন করে আসবে, নাকি সবাই একসঙ্গে?” এরপরই শুরু হয় দ্রুতগতির অ্যাকশন, হাতাহাতি এবং কাচ ভাঙার রোমাঞ্চকর দৃশ্য। শেষ মুহূর্তে আবারও সেই নারীকণ্ঠের ভয়েসওভার শোনা যায়, “পুরুষদের সেই চিরচেনা প্রদর্শনী ভুলে যেও না।” সংলাপ শেষ হতেই বন্দুক কক করার শব্দ পুরো ভিডিওটিকে আরও রহস্যময় করে তোলে।
পরিচালক গীতু মোহনদাস জানিয়েছেন, ‘টক্সিক’ শুধু একটি অ্যাকশন সিনেমা নয়; এটি শক্তিশালী চরিত্র, আবেগ, প্রতিশোধ এবং জটিল সম্পর্কের গল্পও তুলে ধরবে। সিনেমাটি একযোগে কন্নড় ও ইংরেজি ভাষায় নির্মিত হয়েছে। পাশাপাশি হিন্দি, তেলেগু, তামিল এবং মালয়ালম ভাষায় ডাবিং করে বিশ্বব্যাপী মুক্তি দেওয়া হবে। বহুভাষিক এই পরিকল্পনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছেও পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়েছেন নির্মাতারা।
কেভিএন প্রোডাকশনস ও মনস্টার মাইন্ড ক্রিয়েশন্স প্রযোজিত ‘টক্সিক’ আগামী ২৬ আগস্ট বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। রহস্যময় প্রচারণা, শক্তিশালী নারী চরিত্র, আন্তর্জাতিক মানের নির্মাণ এবং ইয়াশের নতুন অ্যাকশন অবতার—সব মিলিয়ে সিনেমাটি ইতোমধ্যেই বছরের অন্যতম প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্রে পরিণত হয়েছে। এখন দর্শকদের অপেক্ষা, বড় পর্দায় ‘টক্সিক’ কতটা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে।




























