ঢাকা ০৪:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ‘বড় ভাই’ মোদি, ‘ছোট বোন’ তাকাইচি Logo আর্জেন্টিনাকেও কাঁপিয়েছি, এমন লড়াই আর কেউ পারত না: বুবিস্তা Logo মালয়েশিয়ায় মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিলেন আলাল Logo প্রধানমন্ত্রীর চীন ও মালয়েশিয়া সফর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের ‘গেম চেঞ্জার’ Logo কারিগরী শিক্ষায় অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার : পানিসম্পদ মন্ত্রী Logo বিশ্বব্যাংকের আয়ের তালিকা: সুখবর, ৫ দেশ উচ্চমধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত Logo ৩-২ হারেও বিশ্ব জিতে নিল কেপ ভার্দে, আলোচনার কেন্দ্রে ৪০ বছরের এক প্রাচীর Logo হুতির হুমকি: সৌদির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নিয়ে নতুন সতর্কতা Logo মোদির বিদেশি পুরস্কার ঘিরে নতুন বিতর্ক, কী নিয়ে প্রশ্ন? Logo হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে জয়, পেরুর প্রেসিডেন্ট হলেন কেইকো ফুজিমোরি

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে জয়, পেরুর প্রেসিডেন্ট হলেন কেইকো ফুজিমোরি

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০১:১৮:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৬

পেরুর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন কেইকো ফুজিমোরি।ছবি: সংগৃহীত।

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডানপন্থী প্রার্থী কেইকো ফুজিমোরিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেছে দেশটির ইলেকটোরাল কোর্ট ন্যাশনাল জুরি অব ইলেকশনস (জেএনই)। মাত্র ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে তিনি বামপন্থী প্রার্থী রবার্তো সানচেজকে পরাজিত করেছেন।

গত ৭ জুন অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটের প্রায় এক মাস পর শুক্রবার আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশ করা হয়। দীর্ঘ ভোট গণনা শেষে কেইকো ফুজিমোরির জয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে নির্বাচন কমিশন।

চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায়, কেইকো ফুজিমোরি পেয়েছেন ৯২ লাখ ২৩ হাজার ভোট। অন্যদিকে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেস সদস্য রবার্তো সানচেজ পেয়েছেন ৯১ লাখ ৭৩ হাজার ভোট। ফলে মাত্র প্রায় ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন ফুজিমোরি।

আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান ফুজিমোরি। তিনি লেখেন, ‘একটি নতুন অধ্যায়ের শুরু হলো।’ একই সঙ্গে তিনি দায়িত্ব, বিনয় ও জনগণের প্রতি কর্তব্যবোধ নিয়ে দেশ পরিচালনার অঙ্গীকার করেন।

ফুজিমোরি আরও বলেন, ক্ষমতা গ্রহণের আগ পর্যন্ত প্রতিটি দিন তিনি জনগণের কথা শোনার, সংলাপে অংশ নেওয়ার এবং নতুন সরকারের প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাবেন।

৫১ বছর বয়সী কেইকো ফুজিমোরি পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুজিমোরির মেয়ে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে আলবার্তো ফুজিমোরি ১৬ বছর কারাভোগ করেছিলেন। ফলে তাঁর পরিবারের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বরাবরই দেশটির রাজনীতিতে আলোচনার বিষয় হয়ে রয়েছে।

গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার নির্বাচনে কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় নির্বাচন দ্বিতীয় ধাপে গড়ায়। প্রথম দফায় ৩৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও শেষ পর্যন্ত রান–অফে মুখোমুখি হন কেইকো ফুজিমোরি ও রবার্তো সানচেজ।

তবে এবারের নির্বাচনকে ঘিরে শুরু থেকেই বিতর্ক ছিল। ব্যালট বিতরণে বিলম্ব এবং ভোট গণনায় দীর্ঘ সময় লাগায় নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল প্রশ্ন তোলে। কিছু পক্ষ কারচুপির অভিযোগও করেছিল।

রবার্তো সানচেজ দাবি করেন, ভোট গণনায় অনিয়ম ও জালিয়াতি হয়েছে। তবে তিনি এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। নির্বাচন পর্যবেক্ষকরাও এখন পর্যন্ত ভোট কারচুপির কোনো প্রমাণ পাননি বলে জানিয়েছেন।

নির্বাচনের আগে প্রবাসী ভোট গণনার নিয়মে পরিবর্তন আনা নিয়েও সমালোচনা করেছিলেন সানচেজ। তাঁর অভিযোগ ছিল, বিদ্যমান বাধ্যবাধকতা শিথিল করায় নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

আল–জাজিরার লিমা প্রতিনিধি মারিয়ানা সানচেজ জানান, দেশের ভেতরে রবার্তো সানচেজের সমর্থন শক্তিশালী থাকলেও প্রবাসী ভোটারদের বড় অংশ কেইকো ফুজিমোরির পক্ষে ভোট দেন। এই ভোটই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, অল্প ব্যবধানে জয় পাওয়ায় নতুন সরকারকে রাজনৈতিকভাবে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হতে পারে। একই সঙ্গে বিরোধী শিবির সংসদে সরকারকে চাপে রাখতে এবং সমর্থকদের সংগঠিত করার চেষ্টা চালিয়ে যেতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘বড় ভাই’ মোদি, ‘ছোট বোন’ তাকাইচি

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে জয়, পেরুর প্রেসিডেন্ট হলেন কেইকো ফুজিমোরি

Update Time : ০১:১৮:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডানপন্থী প্রার্থী কেইকো ফুজিমোরিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেছে দেশটির ইলেকটোরাল কোর্ট ন্যাশনাল জুরি অব ইলেকশনস (জেএনই)। মাত্র ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে তিনি বামপন্থী প্রার্থী রবার্তো সানচেজকে পরাজিত করেছেন।

গত ৭ জুন অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটের প্রায় এক মাস পর শুক্রবার আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশ করা হয়। দীর্ঘ ভোট গণনা শেষে কেইকো ফুজিমোরির জয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে নির্বাচন কমিশন।

চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায়, কেইকো ফুজিমোরি পেয়েছেন ৯২ লাখ ২৩ হাজার ভোট। অন্যদিকে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেস সদস্য রবার্তো সানচেজ পেয়েছেন ৯১ লাখ ৭৩ হাজার ভোট। ফলে মাত্র প্রায় ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন ফুজিমোরি।

আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান ফুজিমোরি। তিনি লেখেন, ‘একটি নতুন অধ্যায়ের শুরু হলো।’ একই সঙ্গে তিনি দায়িত্ব, বিনয় ও জনগণের প্রতি কর্তব্যবোধ নিয়ে দেশ পরিচালনার অঙ্গীকার করেন।

ফুজিমোরি আরও বলেন, ক্ষমতা গ্রহণের আগ পর্যন্ত প্রতিটি দিন তিনি জনগণের কথা শোনার, সংলাপে অংশ নেওয়ার এবং নতুন সরকারের প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাবেন।

৫১ বছর বয়সী কেইকো ফুজিমোরি পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুজিমোরির মেয়ে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে আলবার্তো ফুজিমোরি ১৬ বছর কারাভোগ করেছিলেন। ফলে তাঁর পরিবারের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বরাবরই দেশটির রাজনীতিতে আলোচনার বিষয় হয়ে রয়েছে।

গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার নির্বাচনে কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় নির্বাচন দ্বিতীয় ধাপে গড়ায়। প্রথম দফায় ৩৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও শেষ পর্যন্ত রান–অফে মুখোমুখি হন কেইকো ফুজিমোরি ও রবার্তো সানচেজ।

তবে এবারের নির্বাচনকে ঘিরে শুরু থেকেই বিতর্ক ছিল। ব্যালট বিতরণে বিলম্ব এবং ভোট গণনায় দীর্ঘ সময় লাগায় নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল প্রশ্ন তোলে। কিছু পক্ষ কারচুপির অভিযোগও করেছিল।

রবার্তো সানচেজ দাবি করেন, ভোট গণনায় অনিয়ম ও জালিয়াতি হয়েছে। তবে তিনি এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। নির্বাচন পর্যবেক্ষকরাও এখন পর্যন্ত ভোট কারচুপির কোনো প্রমাণ পাননি বলে জানিয়েছেন।

নির্বাচনের আগে প্রবাসী ভোট গণনার নিয়মে পরিবর্তন আনা নিয়েও সমালোচনা করেছিলেন সানচেজ। তাঁর অভিযোগ ছিল, বিদ্যমান বাধ্যবাধকতা শিথিল করায় নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

আল–জাজিরার লিমা প্রতিনিধি মারিয়ানা সানচেজ জানান, দেশের ভেতরে রবার্তো সানচেজের সমর্থন শক্তিশালী থাকলেও প্রবাসী ভোটারদের বড় অংশ কেইকো ফুজিমোরির পক্ষে ভোট দেন। এই ভোটই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, অল্প ব্যবধানে জয় পাওয়ায় নতুন সরকারকে রাজনৈতিকভাবে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হতে পারে। একই সঙ্গে বিরোধী শিবির সংসদে সরকারকে চাপে রাখতে এবং সমর্থকদের সংগঠিত করার চেষ্টা চালিয়ে যেতে পারে।