ঢাকা ১২:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চীনের জুন: যখন দেশজুড়ে শুরু হয় গ্র্যাজুয়েশন উৎসব Logo বিচারকের দায়িত্বটা ততটা সহজ নয়: মোশাররফ করিম Logo ফোন নিরাপত্তা টিপস: কার্যকর উপায়ে হ্যাকারদের এড়িয়ে চলুন Logo জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে ডা. শফিকুর রহমানের বিশেষ কূটনৈতিক ঘোষণা Logo নেইমারের ফিটনেস আপডেট নিয়ে আনচেলত্তির অবিশ্বাস্য ও বিস্ফোরক ঘোষণা Logo ৫২ হাজার কোটি রুপির অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র কিনছে ভারত Logo মমতার হুঙ্কার: আমাকে থামাতে হলে খুন করতে হবে, বিদ্রোহীদের কড়া বার্তা Logo জ্ঞানচর্চার নতুন প্ল্যাটফর্ম আল-উম্মাহ জার্নাল ও ওয়েবসাইট Logo ‘জন নায়াগন’ সেন্সর আপডেট: চাঞ্চল্যকর ভুয়া সার্টিফিকেটের সত্য জানুন Logo খেলাধুলা তরুণ-কিশোরদের মাদক থেকে দূরে রাখে : মীর হেলাল

হার্ট ও কিডনি ভালো রাখতে খান এই ৪ মাছ

ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ হার্ট ও কিডনির সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক।

হার্ট ভালো রাখতে চর্বিযুক্ত মাছ খাওয়ার পরামর্শ অনেকেই জানেন। তবে একই সঙ্গে এই মাছ কিডনির সুস্থতাও বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানিয়েছেন পুষ্টিবিদরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ স্যামন, ম্যাকারেল, ট্রাউট ও টুনা নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে খেলে কিডনির কার্যক্ষমতা বজায় রাখা, প্রদাহ কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের (ক্রনিক কিডনি ডিজিজ) ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। যদিও এটি কোনো ওষুধ নয়, তবে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ।

কেন কিডনির যত্ন জরুরি?

বিশ্বজুড়ে ক্রনিক কিডনি ডিজিজ (সিকেডি) একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ১০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে প্রায় একজন কোনো না কোনো পর্যায়ে কিডনি রোগে আক্রান্ত। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, কিডনির ক্ষতি অনেক সময় দীর্ঘদিন কোনো লক্ষণ ছাড়াই বাড়তে থাকে।

কিডনির প্রধান কাজগুলো হলো—

  • শরীরের বর্জ্য ও অতিরিক্ত পানি ছেঁকে বের করে দেওয়া।
  • রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা।
  • শরীরে পানি ও খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখা।
  • রক্ত তৈরিতে প্রয়োজনীয় হরমোন উৎপাদনে সহায়তা করা।
  • শরীরের গুরুত্বপূর্ণ বিপাকীয় কার্যক্রম সচল রাখা।

কিডনি ঠিকভাবে কাজ না করলে শরীরে ক্ষতিকর বর্জ্য জমে নানা জটিলতা তৈরি হতে পারে।

যে ৪ মাছ হার্ট ও কিডনির জন্য উপকারী

পুষ্টিবিদদের মতে, নিচের চার ধরনের মাছ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ভালো উৎস—

  • স্যামন
  • ম্যাকারেল
  • ট্রাউট
  • টুনা

এই মাছগুলোতে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি শুধু হৃদ্‌যন্ত্র নয়, কিডনির জন্যও উপকারী বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ওমেগা-৩ যেভাবে কিডনিকে সুরক্ষা দেয়

চর্বিযুক্ত মাছের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান হলো ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড।

এর উপকারিতা—

  • শরীরের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
  • কিডনির কোষের ক্ষতি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।
  • রক্তনালির কার্যক্ষমতা উন্নত করে।
  • দীর্ঘমেয়াদে কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে সহায়তা করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু মাছ খেলেই কিডনি রোগ প্রতিরোধ সম্ভব নয়। তবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হিসেবে এটি কিডনি সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

হার্ট ভালো থাকলে কিডনিও ভালো থাকে

চিকিৎসকদের মতে, হৃদ্‌যন্ত্র ও কিডনির সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।

উচ্চ রক্তচাপ কিডনি বিকলের অন্যতম বড় কারণ। আবার কিডনি ঠিকভাবে কাজ না করলে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

চর্বিযুক্ত মাছ যেসবভাবে হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে—

  • রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
  • রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে সাহায্য করে।
  • রক্তনালির স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখে।
  • হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর চাপ কমায়।

ফলে কিডনিও তুলনামূলকভাবে ভালো থাকে।

স্বাস্থ্যকর প্রোটিনের চমৎকার উৎস

চর্বিযুক্ত মাছ উচ্চমানের প্রোটিনের অন্যতম উৎস।

এর বিশেষ সুবিধা হলো—

  • শরীরের প্রয়োজনীয় সব অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিড পাওয়া যায়।
  • পেশি ও কোষ গঠনে সহায়তা করে।
  • শরীরের ক্ষয়পূরণে ভূমিকা রাখে।
  • প্রক্রিয়াজাত মাংসের তুলনায় এতে অতিরিক্ত সোডিয়াম ও ক্ষতিকর চর্বি কম থাকে।

আরও যেসব পুষ্টিগুণ রয়েছে

এই মাছগুলোতে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান রয়েছে, যেমন—

  • ভিটামিন ডি
  • ভিটামিন বি-১২
  • সেলেনিয়াম
  • পটাশিয়াম
  • ফসফরাস (মাছের ধরনভেদে)

এসব উপাদান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, হাড় মজবুত রাখা, স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং কোষের সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

কিডনি রোগ প্রতিরোধে মাছ কতটা কার্যকর?

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো একক খাবার কিডনি রোগ প্রতিরোধ করতে পারে না।

বরং সুস্থ কিডনির জন্য প্রয়োজন—

  • নিয়মিত মাছ খাওয়া।
  • পর্যাপ্ত শাকসবজি ও ফলমূল।
  • হোল গ্রেন বা গোটা শস্য।
  • স্বাস্থ্যকর চর্বি।
  • পর্যাপ্ত পানি পান।
  • নিয়মিত শরীরচর্চা।
  • ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা।

এসব অভ্যাস একসঙ্গে কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।

কারা সতর্ক থাকবেন?

যাদের আগে থেকেই ক্রনিক কিডনি ডিজিজ রয়েছে, তাদের খাদ্যতালিকা অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত।

কারণ—

  • কিছু মাছে ফসফরাসের পরিমাণ বেশি থাকে।
  • কিছু মাছে পটাশিয়ামও বেশি থাকতে পারে।
  • অনেক রোগীর ক্ষেত্রে প্রোটিন গ্রহণ সীমিত রাখতে হয়।

তাই কিডনি রোগ থাকলে নিজের ইচ্ছামতো খাদ্যতালিকা পরিবর্তন না করাই ভালো।

যেভাবে মাছ খেলে বেশি উপকার পাবেন

পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী সপ্তাহে অন্তত দুই দিন চর্বিযুক্ত মাছ খাওয়ার চেষ্টা করা উচিত।

রান্নার স্বাস্থ্যকর পদ্ধতি—

  • গ্রিল করা।
  • স্টিম করা।
  • বেক করা।
  • এয়ার-ফ্রাই করা।

এড়িয়ে চলুন—

  • অতিরিক্ত তেলে ভাজা মাছ।
  • বেশি লবণ ব্যবহার।
  • অতিরিক্ত প্রসেসড সস বা কৃত্রিম স্বাদবর্ধক।

চর্বিযুক্ত মাছ কোনো জাদুকরী ওষুধ নয়। তবে সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের সঙ্গে সপ্তাহে অন্তত দুই দিন স্যামন, ম্যাকারেল, ট্রাউট বা টুনার মতো ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ রাখলে হৃদ্‌যন্ত্র ও কিডনির সুস্থতা বজায় রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে যাদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি রয়েছে, তাদের জন্যও এই অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে উপকারী হতে পারে। তবে আগে থেকে কিডনি রোগ থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা অনুসরণ করা উচিত।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের জুন: যখন দেশজুড়ে শুরু হয় গ্র্যাজুয়েশন উৎসব

হার্ট ও কিডনি ভালো রাখতে খান এই ৪ মাছ

Update Time : ০৯:৫৭:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

হার্ট ভালো রাখতে চর্বিযুক্ত মাছ খাওয়ার পরামর্শ অনেকেই জানেন। তবে একই সঙ্গে এই মাছ কিডনির সুস্থতাও বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানিয়েছেন পুষ্টিবিদরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ স্যামন, ম্যাকারেল, ট্রাউট ও টুনা নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে খেলে কিডনির কার্যক্ষমতা বজায় রাখা, প্রদাহ কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের (ক্রনিক কিডনি ডিজিজ) ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। যদিও এটি কোনো ওষুধ নয়, তবে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ।

কেন কিডনির যত্ন জরুরি?

বিশ্বজুড়ে ক্রনিক কিডনি ডিজিজ (সিকেডি) একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ১০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে প্রায় একজন কোনো না কোনো পর্যায়ে কিডনি রোগে আক্রান্ত। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, কিডনির ক্ষতি অনেক সময় দীর্ঘদিন কোনো লক্ষণ ছাড়াই বাড়তে থাকে।

কিডনির প্রধান কাজগুলো হলো—

  • শরীরের বর্জ্য ও অতিরিক্ত পানি ছেঁকে বের করে দেওয়া।
  • রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা।
  • শরীরে পানি ও খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখা।
  • রক্ত তৈরিতে প্রয়োজনীয় হরমোন উৎপাদনে সহায়তা করা।
  • শরীরের গুরুত্বপূর্ণ বিপাকীয় কার্যক্রম সচল রাখা।

কিডনি ঠিকভাবে কাজ না করলে শরীরে ক্ষতিকর বর্জ্য জমে নানা জটিলতা তৈরি হতে পারে।

যে ৪ মাছ হার্ট ও কিডনির জন্য উপকারী

পুষ্টিবিদদের মতে, নিচের চার ধরনের মাছ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ভালো উৎস—

  • স্যামন
  • ম্যাকারেল
  • ট্রাউট
  • টুনা

এই মাছগুলোতে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি শুধু হৃদ্‌যন্ত্র নয়, কিডনির জন্যও উপকারী বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ওমেগা-৩ যেভাবে কিডনিকে সুরক্ষা দেয়

চর্বিযুক্ত মাছের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান হলো ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড।

এর উপকারিতা—

  • শরীরের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
  • কিডনির কোষের ক্ষতি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।
  • রক্তনালির কার্যক্ষমতা উন্নত করে।
  • দীর্ঘমেয়াদে কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে সহায়তা করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু মাছ খেলেই কিডনি রোগ প্রতিরোধ সম্ভব নয়। তবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হিসেবে এটি কিডনি সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

হার্ট ভালো থাকলে কিডনিও ভালো থাকে

চিকিৎসকদের মতে, হৃদ্‌যন্ত্র ও কিডনির সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।

উচ্চ রক্তচাপ কিডনি বিকলের অন্যতম বড় কারণ। আবার কিডনি ঠিকভাবে কাজ না করলে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

চর্বিযুক্ত মাছ যেসবভাবে হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে—

  • রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
  • রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে সাহায্য করে।
  • রক্তনালির স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখে।
  • হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর চাপ কমায়।

ফলে কিডনিও তুলনামূলকভাবে ভালো থাকে।

স্বাস্থ্যকর প্রোটিনের চমৎকার উৎস

চর্বিযুক্ত মাছ উচ্চমানের প্রোটিনের অন্যতম উৎস।

এর বিশেষ সুবিধা হলো—

  • শরীরের প্রয়োজনীয় সব অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিড পাওয়া যায়।
  • পেশি ও কোষ গঠনে সহায়তা করে।
  • শরীরের ক্ষয়পূরণে ভূমিকা রাখে।
  • প্রক্রিয়াজাত মাংসের তুলনায় এতে অতিরিক্ত সোডিয়াম ও ক্ষতিকর চর্বি কম থাকে।

আরও যেসব পুষ্টিগুণ রয়েছে

এই মাছগুলোতে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান রয়েছে, যেমন—

  • ভিটামিন ডি
  • ভিটামিন বি-১২
  • সেলেনিয়াম
  • পটাশিয়াম
  • ফসফরাস (মাছের ধরনভেদে)

এসব উপাদান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, হাড় মজবুত রাখা, স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং কোষের সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

কিডনি রোগ প্রতিরোধে মাছ কতটা কার্যকর?

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো একক খাবার কিডনি রোগ প্রতিরোধ করতে পারে না।

বরং সুস্থ কিডনির জন্য প্রয়োজন—

  • নিয়মিত মাছ খাওয়া।
  • পর্যাপ্ত শাকসবজি ও ফলমূল।
  • হোল গ্রেন বা গোটা শস্য।
  • স্বাস্থ্যকর চর্বি।
  • পর্যাপ্ত পানি পান।
  • নিয়মিত শরীরচর্চা।
  • ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা।

এসব অভ্যাস একসঙ্গে কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।

কারা সতর্ক থাকবেন?

যাদের আগে থেকেই ক্রনিক কিডনি ডিজিজ রয়েছে, তাদের খাদ্যতালিকা অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত।

কারণ—

  • কিছু মাছে ফসফরাসের পরিমাণ বেশি থাকে।
  • কিছু মাছে পটাশিয়ামও বেশি থাকতে পারে।
  • অনেক রোগীর ক্ষেত্রে প্রোটিন গ্রহণ সীমিত রাখতে হয়।

তাই কিডনি রোগ থাকলে নিজের ইচ্ছামতো খাদ্যতালিকা পরিবর্তন না করাই ভালো।

যেভাবে মাছ খেলে বেশি উপকার পাবেন

পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী সপ্তাহে অন্তত দুই দিন চর্বিযুক্ত মাছ খাওয়ার চেষ্টা করা উচিত।

রান্নার স্বাস্থ্যকর পদ্ধতি—

  • গ্রিল করা।
  • স্টিম করা।
  • বেক করা।
  • এয়ার-ফ্রাই করা।

এড়িয়ে চলুন—

  • অতিরিক্ত তেলে ভাজা মাছ।
  • বেশি লবণ ব্যবহার।
  • অতিরিক্ত প্রসেসড সস বা কৃত্রিম স্বাদবর্ধক।

চর্বিযুক্ত মাছ কোনো জাদুকরী ওষুধ নয়। তবে সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের সঙ্গে সপ্তাহে অন্তত দুই দিন স্যামন, ম্যাকারেল, ট্রাউট বা টুনার মতো ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ রাখলে হৃদ্‌যন্ত্র ও কিডনির সুস্থতা বজায় রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে যাদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি রয়েছে, তাদের জন্যও এই অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে উপকারী হতে পারে। তবে আগে থেকে কিডনি রোগ থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা অনুসরণ করা উচিত।