বর্ষাকালে দেশে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় জনসাধারণকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। অনেকেই মনে করেন, বজ্রপাতের সময় ঘরের ভেতরে থাকলেই পুরোপুরি নিরাপদ থাকা যায়। কিন্তু বাস্তবে বজ্রপাত চলাকালে গোসল করা, কলের পানি ব্যবহার করা কিংবা তারযুক্ত বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালানো বিপজ্জনক হতে পারে। এমনকি এসব কারণে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
কেন বজ্রপাতের সময় ঘরের ভেতরেও ঝুঁকি থাকে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বজ্রপাতের বিদ্যুৎ শুধু আকাশেই সীমাবদ্ধ থাকে না। কোনো ভবন, বিদ্যুতের খুঁটি বা আশপাশের স্থানে বজ্রপাত হলে সেই বিদ্যুৎ ধাতব পাইপ, বৈদ্যুতিক তার এবং অন্যান্য পরিবাহী সংযোগের মাধ্যমে ভবনের ভেতরেও প্রবেশ করতে পারে।
এ কারণে বজ্রপাতের সময় ঘরের ভেতরে থাকলেও কিছু কাজ এড়িয়ে চলা জরুরি। বিশেষ করে পানি ও ধাতব সংযোগ ব্যবহার করলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।
বজ্রপাতের সময় গোসল করা কেন বিপজ্জনক?
অনেকেই বৃষ্টির সময় গোসল করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। কিন্তু বজ্রপাত চলাকালে এটি নিরাপদ নয়।
বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পানি সরবরাহের পাইপের মাধ্যমে বজ্রপাতের বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে পারে। ফলে গোসলের সময় সেই বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে দুর্ঘটনা ঘটার ঝুঁকি থাকে।
শুধু গোসল নয়, নিচের কাজগুলোও এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে—
- হাত-মুখ ধোয়া
- বাসন ধোয়া
- কাপড় ধোয়া
- কলের পানি ব্যবহার করে যেকোনো কাজ
প্লাস্টিকের পাইপ থাকলেও কি ঝুঁকি থাকে?
অনেকে মনে করেন, বাড়িতে প্লাস্টিকের পাইপ থাকলে কোনো ঝুঁকি নেই। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অধিকাংশ পানি সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন অংশে ধাতব সংযোগ থাকে। তাই পুরো ব্যবস্থাটি সম্পূর্ণ নিরাপদ বলা যায় না।
অর্থাৎ পাইপ প্লাস্টিকের হলেও বজ্রপাতের সময় অপ্রয়োজনীয়ভাবে পানি ব্যবহার না করাই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।
তারযুক্ত বৈদ্যুতিক যন্ত্র কেন ব্যবহার করা উচিত নয়?
বজ্রপাতের সময় বিদ্যুৎ লাইনের মাধ্যমে অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক প্রবাহ তৈরি হতে পারে। এ কারণে তারযুক্ত বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ে।
বিশেষ করে নিচের যন্ত্রগুলো ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়—
- ডেস্কটপ কম্পিউটার
- তারযুক্ত টেলিফোন
- তারযুক্ত ইন্টারনেট সংযোগযুক্ত ডিভাইস
- বৈদ্যুতিক রান্নার কিছু যন্ত্র
- অন্যান্য তারযুক্ত ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি
ধাতব সংযোগ থেকেও দূরে থাকুন
বজ্রপাতের সময় ধাতব বস্তু বিদ্যুৎ পরিবহনে সহায়ক হতে পারে। তাই অপ্রয়োজনীয়ভাবে ধাতব পাইপ, ধাতব দরজার ফ্রেম বা অন্যান্য ধাতব সংযোগ স্পর্শ না করাই ভালো।
এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
বজ্রপাত থামার পরও কেন অপেক্ষা করতে হবে?
অনেকেই বজ্রপাত বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্বাভাবিক কাজ শুরু করেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি নিরাপদ নয়।
তাদের পরামর্শ হলো, বজ্রপাত সম্পূর্ণ থেমে যাওয়ার পর অন্তত ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে গোসল, পানি ব্যবহার বা অন্যান্য স্বাভাবিক কাজ শুরু করা উচিত। এতে সম্ভাব্য ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
বজ্রপাতের সময়ে যা করবেন না
- গোসল করবেন না।
- কলের পানি ব্যবহার করে হাত-মুখ, বাসন বা কাপড় ধোবেন না।
- তারযুক্ত বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করবেন না।
- ধাতব পাইপ বা ধাতব সংযোগ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন।
- বজ্রপাত শেষ হওয়ার পর অন্তত ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে স্বাভাবিক কাজে ফিরুন।
বর্ষাকালে বজ্রপাতকে কখনোই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। অনেক দুর্ঘটনা সামান্য অসতর্কতার কারণেই ঘটে। তাই বজ্রপাতের সময় নিরাপদ স্থানে অবস্থান করা, পানি ও ধাতব সংযোগ ব্যবহার এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজন ছাড়া বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার না করাই সবচেয়ে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সচেতনতা ও সতর্কতা বজায় রাখলেই বজ্রপাতজনিত দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।





























