রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলায় হামলায় বাবা গুলিবিদ্ধ এবং তার ছেলে ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে মহিরগোলা এলাকায় নিজেদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। স্বজনদের অভিযোগ, কেরানীগঞ্জে ফরহাদ হত্যা মামলায় জড়িতদের নাম প্রকাশ করায় বাবা-ছেলেকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

আহত ব্যক্তির নাম মো. সুমন আলী (৪৫)। তার ছেলে ফাহিমও হামলায় আহত হয়েছেন। রাত ১০টার দিকে তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে দুজনই সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহতদের স্বজন পারভেজ জানান, সুমন ও ফাহিম ফুটপাতে ভ্যানের ওপর আলু-পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ধরনের কাঁচামাল বিক্রি করেন। বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে সাত-আটজন ব্যক্তি তাদের দোকানের সামনে এসে অতর্কিতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় সুমনকে গুলি করা হয় এবং ফাহিমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর পাশাপাশি মারধর করা হয়।

স্বজনদের দাবি, গত ১৫ সেপ্টেম্বর কেরানীগঞ্জের আর্শীনগরে একটি সেলুনে ফরহাদ নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ফুটপাতে দোকান বসানো এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নিহত ফরহাদ সুমন আলীর শ্যালক। ওই ঘটনায় জড়িতদের নাম প্রকাশের কারণেই সুমন ও তার ছেলেকে হামলার শিকার হতে হয়েছে বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের।

এদিকে বসিলার ময়ূর ভিলার সামনের ফুটপাতের দোকানগুলো থেকে নিয়মিত টাকা আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তাদের ভাষ্য, ফুটপাতের কোন জায়গায় দোকান বসানো হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করে টাকার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। এ নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরোধ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

স্থানীয়দের কেউ কেউ রাব্বি নামে এক ব্যক্তিকে চাঁদাবাজি মামলায় অভিযুক্ত বাদল শরীফ ওরফে বাদলের গ্রুপের সদস্য বলে দাবি করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হালিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে হামলার কারণ এবং এতে কারা জড়িত, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানাতে পারেননি তিনি।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানান, আহত বাবা-ছেলে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।

আহতদের গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার রাজাবাড়ি দিঘীরপাড় এলাকায়। বর্তমানে তারা মোহাম্মদপুরের বসিলায় বসবাস করেন।