বিএনপির সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। চলতি বছরের ডিসেম্বর অথবা ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে কাউন্সিল আয়োজনের কথা বলা হলেও দলীয় সূত্রগুলোর ভাষ্য, নির্ধারিত সময়ে এ আয়োজন হওয়ার সম্ভাবনা কম। এর মধ্যেই দলের সাংগঠনিক শূন্যতা পূরণ ও নেতৃত্ব পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ চলছে। এমন পরিস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে আগামী বছরের শুরুতে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে।

বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পরপর কেন্দ্রীয় কাউন্সিল হওয়ার কথা। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নানা সীমাবদ্ধতার কারণে গত এক দশকে কাউন্সিল করতে পারেনি দলটি। সর্বশেষ ষষ্ঠ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে।

গত জুনে দলের তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চলতি বছরের ডিসেম্বর অথবা ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে সপ্তম কাউন্সিল হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন পদে নতুন নেতাদের অন্তর্ভুক্তি এবং শূন্য পদ পূরণের তৎপরতায় কাউন্সিলের সময় নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

দলীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বৈশ্বিক পরিস্থিতি, জ্বালানি সংকট ও দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ বিবেচনায় কাউন্সিল আরও পিছিয়ে যেতে পারে। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খানও জানিয়েছেন, ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে কাউন্সিল আয়োজনের সম্ভাবনা এখন নেই। এ বিষয়ে প্রস্তুতিও এখনও শুরু হয়নি। তবে অভ্যন্তরীণভাবে নেতৃত্বের শূন্যস্থান পূরণের কাজ চলছে।

গত ১৫ আগস্ট জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে চার নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করে বিএনপি। তারা হলেন রুহুল কবির রিজভী, আমানউল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম ডোনার ও মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। এরপর ২০ আগস্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দলীয় পদ ছাড়লে রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

দলটির স্থায়ী কমিটির আরও তিনটি পদ শূন্য রয়েছে। এসব পদে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম। পাশাপাশি ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদেও নতুন মুখ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

মহাসচিব পদে রিজভীর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা জোরালো হয়েছে। দীর্ঘদিন বিএনপির দফতর ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিজ্ঞতা এবং স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির পর তাকে এ পদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখছেন দলের একাংশের নেতারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভাইস চেয়ারম্যানের ভাষ্য, ২০২৭ সালের শুরুতেই কাউন্সিলের জন্য অপেক্ষা না করে রিজভীকে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব করা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।

কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, এবারের কাউন্সিল বর্ণিলভাবে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য সার্বিক প্রস্তুতিতে আরও সময় প্রয়োজন। চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারিত হলে তা জানানো হবে।

১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর বিএনপির ছয়টি কেন্দ্রীয় কাউন্সিল হয়েছে। জিয়াউর রহমান, বিচারপতি আবদুস সাত্তার, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান এই চার নেতা বিভিন্ন সময়ে দলের প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ৯ জানুয়ারি স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারেক রহমান দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান।