ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) এক তেলবাহী সুপারট্যাংকারে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বাহিনী। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
আইআরজিসির নৌবাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে তাদের নির্ধারিত নিয়ম মানতে হবে। এসব নিয়ম উপেক্ষা করে কোনো জাহাজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করলে কঠোর পরিণতির মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভর করে এই নৌপথ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাহিনী।
শনিবার হরমুজ প্রণালিতে দুই মিলিয়ন ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল বহনে সক্ষম একটি সুপারট্যাংকারে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের খবর প্রকাশিত হয়। আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাজটি সমুদ্রের নিচে থাকা মাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের দাবি, অনুমোদনহীন পথে প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করার সময় জাহাজটি এই ঘটনার মুখে পড়ে।
তবে জাহাজটির নাম, মালিকানা, পতাকাবাহী দেশ এবং ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ইরানের দেওয়া ঘটনার বিবরণও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
এর আগেও হরমুজ প্রণালির আশপাশে একাধিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। সৌদি আরবের উপকূলের কাছাকাছি এলাকায় একটি তেলবাহী ট্যাংকার অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় নাবিকদের নিরাপত্তা, জাহাজ চলাচল এবং সমুদ্রপথে জ্বালানি পরিবহন নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জ্বালানি রপ্তানির জন্য এই নৌপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) উল্লেখযোগ্য অংশ এই প্রণালি দিয়ে বিভিন্ন দেশে পৌঁছায়।
ফলে এই নৌপথে জাহাজ চলাচল দীর্ঘ সময় ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে। তেল পরিবহনের খরচ বাড়ার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এর প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে জাহাজ চলাচলের পরিস্থিতি, সরবরাহের ধারাবাহিকতা এবং আঞ্চলিক সংঘাত কতটা দীর্ঘায়িত হয়, তার ওপর।
এদিকে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক মহলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নতুন করে দেওয়া আইআরজিসির সতর্কবার্তার পর এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নিয়ে নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন