ইয়েমেনে খাদ্যসংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দীর্ঘদিনের সংঘাত ও অর্থনৈতিক দুর্দশার মধ্যে দেশটির প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ দৈনন্দিন খাবারের চাহিদা পূরণ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, প্রতি ১০ জনের মধ্যে প্রায় ৮ জনই খাদ্যসংকটের চাপে রয়েছেন। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
ডব্লিউএফপির সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনের তাইজ প্রদেশে তীব্র লড়াইয়ের কারণে প্রায় আট লাখ মানুষের কাছে জরুরি খাদ্য সহায়তা পৌঁছানো যাচ্ছে না। যুদ্ধের কারণে যোগাযোগ ও সহায়তা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে। সংস্থাটির তথ্য বলছে, দেশটির সংকটাপন্ন এলাকাগুলোর মধ্যে তাইজে খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক।
খাদ্যসংকটের পাশাপাশি দেশটিতে স্বাস্থ্যসেবাও ভয়াবহ চাপের মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি) জানিয়েছে, সংঘাত বেড়ে যাওয়ায় আহত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে এবং হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতা ক্রমেই কমছে। অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম, অ্যানাস্থেশিয়ার ওষুধ, অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট দেখা দিয়েছে। সীমিত সম্পদ নিয়েই চিকিৎসাকর্মীরা আহতদের পাশাপাশি মা, শিশু ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
আইসিআরসির স্বাস্থ্য সমন্বয়কারী ফেরাস আবুসামরা এক বিবৃতিতে জানান, হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রীর ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অন্যদিকে, সংঘাতের কারণে বাড়ছে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা। ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোর অনেকেই প্রয়োজনীয় ওষুধ, টিকাদান এবং মাতৃত্বকালীন জরুরি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাত, অর্থনৈতিক সংকট ও মহামারি ইয়েমেনের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আগে থেকেই দুর্বল করে দিয়েছে। নতুন করে সহিংসতা বাড়ায় সীমিত অবকাঠামো দিয়ে মানুষের বাড়তি চিকিৎসার চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে খাদ্য, চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব একসঙ্গে সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
এ পরিস্থিতিতে জরুরি সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে আইসিআরসি। সংস্থাটি জানিয়েছে, সংঘাত বৃদ্ধির পর থেকে তারা ইয়েমেনে ৫০০ টনেরও বেশি চিকিৎসাসামগ্রী পাঠিয়েছে। তবে দেশটির মানুষের ক্রমবর্ধমান চাহিদার তুলনায় এই সহায়তা কতটা পর্যাপ্ত, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ইয়েমেনে খাদ্যসংকট মোকাবিলায় জরুরি খাদ্য সহায়তা পৌঁছানো, স্বাস্থ্যসেবা সচল রাখা এবং বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর মৌলিক চাহিদা পূরণ এখন বড় চ্যালেঞ্জ।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন