স্তন ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করতে নিয়মিত স্ক্রিনিং গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ৪০ থেকে ৭৪ বছর বয়সী সাধারণ ঝুঁকির নারীদের জন্য প্রতি দুই বছরে একবার স্ক্রিনিং ম্যামোগ্রাম করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে যাঁদের পরিবারে স্তন ক্যানসারের ইতিহাস রয়েছে বা নির্দিষ্ট জিনগত ঝুঁকি আছে, তাঁদের আরও কম বয়স থেকে পরীক্ষা শুরু করার প্রয়োজন হতে পারে। তাই বয়স, শারীরিক অবস্থা ও ব্যক্তিগত ঝুঁকি বিবেচনায় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

স্তন ক্যানসার নারীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যঝুঁকি। তবে আশার কথা হলো, রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে চিকিৎসার সুযোগ এবং সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। সমস্যা হলো, প্রাথমিক অবস্থায় অনেক সময় স্তনে ব্যথা, চাকা বা অন্য কোনো স্পষ্ট উপসর্গ দেখা যায় না। এ কারণে উপসর্গের জন্য অপেক্ষা না করে বয়স ও ঝুঁকি অনুযায়ী স্ক্রিনিং করানো প্রয়োজন।

ম্যামোগ্রাম হলো স্তনের বিশেষ ধরনের এক্স-রে পরীক্ষা। এর মাধ্যমে স্তনে এমন কিছু অস্বাভাবিক পরিবর্তন শনাক্ত করা সম্ভব, যা হাত দিয়ে পরীক্ষা করে বোঝা নাও যেতে পারে। সাধারণত কোনো উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগেই স্তন ক্যানসারের সম্ভাব্য লক্ষণ খুঁজে বের করতে এই পরীক্ষা করা হয়। তবে ম্যামোগ্রাম করানোর সঠিক সময় নির্ভর করে ব্যক্তির বয়স ও ঝুঁকির ওপর।

সাধারণ ঝুঁকির নারীদের ক্ষেত্রে ৪০ থেকে ৭৪ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতি দুই বছরে একটি স্ক্রিনিং ম্যামোগ্রাম করার পরামর্শ দেওয়া হয়। নিয়মিত এই পরীক্ষা স্তনের সন্দেহজনক পরিবর্তন দ্রুত শনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারে। তবে প্রত্যেক নারীর স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতি এক নয়। তাই স্ক্রিনিংয়ের সময়সূচি নির্ধারণের আগে চিকিৎসকের সঙ্গে নিজের ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করা ভালো।

যাঁদের বিআরসিএ-১ বা বিআরসিএ-২ জিনে মিউটেশন রয়েছে, তাঁদের স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে। এ ছাড়া পরিবারের একাধিক সদস্যের স্তন ক্যানসারের ইতিহাস কিংবা অল্প বয়সে শরীরের ঊর্ধ্বাংশে রেডিয়েশন চিকিৎসা নেওয়ার ইতিহাস থাকলেও বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। এসব ক্ষেত্রে সাধারণ নিয়মের চেয়ে আগে এবং ঘন ঘন স্ক্রিনিংয়ের প্রয়োজন হতে পারে।

উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা অনেক নারীর ক্ষেত্রে ৩০ বছর বয়স থেকে প্রতিবছর ব্রেস্ট এমআরআইয়ের পাশাপাশি ম্যামোগ্রাম করার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। তবে সবার জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। কোন বয়সে পরীক্ষা শুরু হবে এবং কত ঘন ঘন করা হবে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ব্যক্তির ঝুঁকি মূল্যায়ন করে নির্ধারণ করেন।

৭৫ বছর বয়সের পর নিয়মিত স্ক্রিনিং চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন কি না, তা নির্ভর করে ব্যক্তির সামগ্রিক স্বাস্থ্য, অন্যান্য রোগ, সম্ভাব্য আয়ু এবং চিকিৎসকের পরামর্শের ওপর। এ বয়সে স্ক্রিনিংয়ের সুবিধা ও সম্ভাব্য অসুবিধা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। নিজের স্বাস্থ্যগত অবস্থা সম্পর্কে চিকিৎসককে বিস্তারিত জানানোও গুরুত্বপূর্ণ।

তবে স্তনে নতুন কোনো চাকা দেখা দিলে, নিপল থেকে রক্ত বা অস্বাভাবিক স্রাব বের হলে, স্তনের ত্বক কুঁচকে গেলে, নিপল ভেতরের দিকে ঢুকে গেলে কিংবা স্তনের আকারে নতুন পরিবর্তন দেখা দিলে অপেক্ষা করা উচিত নয়। এসব লক্ষণ দেখা দিলে বয়স ৪০ বছরের কম হলেও দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। স্ক্রিনিংয়ের নির্ধারিত বয়সে পৌঁছানোর অপেক্ষা না করে প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা করানো জরুরি।

ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. আরমান রেজা চৌধুরী, এভারকেয়ার হাসপাতাল, ঢাকার পরামর্শ অনুযায়ী, স্তন ক্যানসার শনাক্তে সচেতনতা ও সময়মতো পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখতে হবে, স্ক্রিনিংয়ের মূল উদ্দেশ্য হলো উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগেই রোগের সম্ভাব্য লক্ষণ শনাক্ত করা। নিজের বয়স ও ঝুঁকি অনুযায়ী সঠিক সময়ে পরীক্ষা করালে দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হতে পারে।