ঢাকাই শোবিজের অভিনেত্রী সাবিলা নূরের দাম্পত্য জীবন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। স্বামী নেহাল সুন্দর তাহেরের সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়েছে বলে বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে। এসব আলোচনায় উঠে এসেছে ঢালিউড অভিনেতা শাকিব খানের নামও। তবে বিচ্ছেদ কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে ছড়িয়ে পড়া দাবির পক্ষে এখনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

২০১৯ সালে নেহাল সুন্দর তাহেরকে বিয়ে করেন সাবিলা নূর। বিয়ের পর অভিনয়জীবনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও আলোচনায় ছিলেন এই অভিনেত্রী। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাদের সম্পর্কের অবনতি কিংবা বিচ্ছেদের বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। এ বিষয়ে সাবিলা নূর বা তার স্বামীর পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সম্প্রতি অ্যাক্টিভিস্ট মিলি সুলতানার কয়েকটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসে। এসব পোস্টে সাবিলা নূরের দাম্পত্য জীবন নিয়ে বিভিন্ন দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি তার সঙ্গে শাকিব খানের ঘনিষ্ঠতা নিয়েও অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে পোস্টে উত্থাপিত এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

মিলি সুলতানার একটি পোস্টে দাবি করা হয়, ‘তাণ্ডব’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় থেকে সাবিলা নূরের দাম্পত্য জীবনে সমস্যা তৈরি হতে শুরু করে। ওই পোস্টে শাকিব খানের সঙ্গে অভিনেত্রীর ঘনিষ্ঠতার প্রসঙ্গও উল্লেখ করা হয়। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্যে এসেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। ফলে এসব বক্তব্যকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

একই পোস্টে সাবিলা নূরের অতীত জীবন নিয়েও কিছু দাবি করেন মিলি সুলতানা। অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে তোলা এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করার মতো স্বাধীন তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও প্রকাশ্যে আসেনি। তাই এসব সংবেদনশীল দাবির বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে নির্ভরযোগ্য তথ্যের অপেক্ষা করা জরুরি।

পরবর্তী আরেকটি পোস্টে সাবিলা নূরের সঙ্গে ‘রকস্টার’ সিনেমার চিত্রগ্রাহক আবদুল মামুনের কথিত সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আনেন মিলি সুলতানা। তার দাবি, এই বিষয়কে কেন্দ্র করেই সাবিলা ও নেহালের দাম্পত্য সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। তবে অভিযোগটির পক্ষেও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে সাবিলা নূর, নেহাল সুন্দর তাহের কিংবা আবদুল মামুনের নিশ্চিত বক্তব্য প্রকাশ্যে আসেনি।

মিলি সুলতানার পোস্টগুলো ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ এসব দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, আবার অনেকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো দাবি ছড়িয়ে পড়লেই তা সত্য বলে ধরে নেওয়া যায় না। বিশেষ করে কারও ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য জানতে সাবিলা নূরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কাছ থেকে সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে তার দাম্পত্য জীবন নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জন সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

সব মিলিয়ে, সাবিলা নূরের সংসার ভাঙার গুঞ্জন এবং আলোচনায় শাকিব খানের নাম উঠে আসার বিষয়টি এখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অভিযোগের পর্যায়েই রয়েছে। নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য সামনে না আসা পর্যন্ত এসব দাবিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে প্রচার করা সমীচীন নয়।