চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ১ লাখ পিস ইয়াবা, ৫টি মোটরসাইকেল এবং ৬ জন মাদক কারবারিকে আটক করেছে র্যাব-৭, চট্টগ্রাম। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব-৭, চট্টগ্রাম জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে যে, একটি বাইকার গ্যাং কক্সবাজার থেকে মোটরসাইকেলে করে বিপুল পরিমাণ মাদক নিয়ে চট্টগ্রাম মহানগরের দিকে আসছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট ২০২৬) সকাল আনুমানিক ১১টা ২০ মিনিটে র্যাব-৭-এর একটি আভিযানিক দল চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া থানাধীন পটিয়া সরকারি কলেজ জামে মসজিদের বিপরীত পাশে সুলতান হোটেলের সামনে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে যানবাহন তল্লাশি শুরু করে।

একপর্যায়ে ৫টি মোটরসাইকেলে করে ৬ জন ব্যক্তি সেখানে পৌঁছালে র্যাব সদস্যরা তাদের থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় মোটরসাইকেলের বক্সে রাখা কাঁধের ব্যাগের ভেতরে বিশেষ কৌশলে স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় আনুমানিক ১ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
অভিযানে আটক ব্যক্তিরা হলেন:
- মোঃ বশির (৩৮), পিতা: মৃত আবুল হোসেন, সাং-ঘোনার পাড়া, থানা-রামু, জেলা-কক্সবাজার।
- বেলাল উদ্দিন (৩২), পিতা: ফরিদ আলম, সাং-মানুন পাড়া, থানা-কক্সবাজার সদর, জেলা-কক্সবাজার।
- নুরুল মোস্তফা (২৭), পিতা: মৃত ছিদ্দিক আহম্মদ, সাং-মধ্যম নাপিতখালী, থানা-ঈদগাঁও, জেলা-কক্সবাজার।
- মোঃ সাইফুল (২৪), পিতা: মৃত দীন মোহাম্মদ, সাং-আমতলীয়া পাড়া, থানা-রামু, জেলা-কক্সবাজার।
- মোঃ হাসান (৩৯), পিতা: মৃত জাফর আহমদ, সাং-পশ্চিম মেরংলোয়া, থানা-রামু, জেলা-কক্সবাজার।
- মোঃ হোসেন (৩৭), পিতা: মৃত রশিদ আহম্মদ, সাং-ঘোনার পাড়া, থানা-রামু, জেলা-কক্সবাজার।
র্যাব জানায়, উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা। একই সঙ্গে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ৫টি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সংঘবদ্ধ এই চক্রটি কক্সবাজার থেকে মোটরসাইকেলের মাধ্যমে বিশেষ কৌশলে ইয়াবা বহন করে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করত। বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত চলছে এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্তের চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
র্যাব-৭, চট্টগ্রাম আরও জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবা ও জব্দকৃত মোটরসাইকেলও মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।
মাদক চোরাচালান ও কারবারের বিরুদ্ধে র্যাবের নিয়মিত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।


























