পর্তুগালের জাতীয় দলে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। কোচ জর্জে জেসুসের সঙ্গে বিরোধের জেরে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় রোনালদোকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন। গত ১০ অক্টোবর তাঁর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের তদন্তও শুরু হয়। ফলে আগামী আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে পর্তুগালের এই অধিনায়ককে দেখা যাবে কি না, তা নির্ভর করছে শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া ও কোচের সঙ্গে বিরোধের সমাধানের ওপর।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি, বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের সূত্রপাত। ওই ম্যাচে পর্তুগাল ২-১ গোলে জিতলেও পুরো ৯০ মিনিট বেঞ্চে বসে ছিলেন রোনালদো। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ওয়ার্মআপ করেও মাঠে নামার সুযোগ পাননি তিনি। এরপর ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচেও তাঁকে শুরুর একাদশে রাখা হবে না বলে জানান জেসুস। এর পরই জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান পর্তুগিজ অধিনায়ক।

রোনালদোর দাবি, কোচের সঙ্গে তাঁর দুটি বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল, যা পরে রক্ষা করা হয়নি। প্রথমে তাঁকে জানানো হয়েছিল, নরওয়ে ও ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচে খেলানো হবে না, যাতে তিনি শারীরিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত হতে পারেন। কিন্তু নরওয়ের ম্যাচের দিন জেসুস তাঁকে অন্তত ৩০ মিনিট খেলানোর কথা জানান বলে দাবি করেন রোনালদো। মাঠে নামার জন্য প্রস্তুতি নিলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে আর খেলানো হয়নি।

দ্বিতীয় বিরোধের বিষয়টি ছিল সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্য। রোনালদোর ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী আলোচনায় কোচ তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করবেন বলে সম্মত হয়েছিলেন। এ জন্য আটটি বিষয় নিয়ে একটি নথিও তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে জেসুসের বক্তব্য সেই সমঝোতার সঙ্গে মেলেনি বলে অভিযোগ করেন রোনালদো। তাঁর মতে, এতে কোচের প্রতি আস্থায় চিড় ধরে। এরপরই তিনি ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

ঘটনার পর সমর্থক ও সতীর্থদের কাছে ক্ষমা চান রোনালদো। তবে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, ফেডারেশন যে শাস্তি দেবে, তা মেনে নিতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে জাতীয় দলের হয়ে খেলার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন তিনি। রোনালদো বলেন, শাস্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ক্লাবের হয়ে খেলতে এবং শারীরিকভাবে প্রস্তুত থাকতে পারলে পর্তুগালের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে তিনি আগের মতোই প্রস্তুত থাকবেন।

অন্যদিকে, জেসুস রোনালদোর সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতা হয়েছিল বলে স্বীকার করেননি। তবে জাতীয় দলে ফেরার দরজা বন্ধ করেননি এই কোচ। তাঁর অবস্থান, দলের সিদ্ধান্ত ও নিয়ম সবার জন্য সমান। এদিকে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পেদ্রো প্রুয়েনসা বিষয়টি সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। রোনালদোর প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা থাকলেও শাস্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ফেডারেশনের শৃঙ্খলা কমিটি।

সব মিলিয়ে রোনালদোর আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ এখন দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে। একদিকে ফেডারেশনের শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত, অন্যদিকে কোচের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি। আগামী ১৪ নভেম্বর ডেনমার্কের বিপক্ষে পর্তুগালের পরবর্তী ম্যাচ নির্ধারিত রয়েছে। তার আগে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয় কি না, সেদিকেই নজর থাকবে সমর্থকদের। তবে রোনালদোর জাতীয় দলে ফেরা নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।