সামান্থার সকালের রুটিনে রয়েছে এমন কিছু অভ্যাস, যেগুলো ব্যস্ততার মধ্যেও নিয়মিত ধরে রাখেন দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভু। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাতেও নিজের প্রতিদিনের এই অভ্যাসগুলো থেকে বিরতি নেননি তিনি। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে নিজের সকালের রুটিনের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে এসব তথ্য জানান অভিনেত্রী।
সামান্থা বলেন, দিনের শুরুটা তার কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কাজের চাপ, ব্যস্ততা কিংবা নানা ধরনের দুশ্চিন্তার মধ্যেও নিজের জন্য প্রতিদিন কিছুটা সময় রাখেন তিনি। প্রায় ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত নিজের মন ও স্নায়ুতন্ত্রকে স্বাভাবিক রাখতে এই সময় ব্যয় করেন অভিনেত্রী। তার মতে, দিনের বাকি সময়ে অনেক কাজ করার সক্ষমতার পেছনে সকালের এই রুটিনের বড় ভূমিকা রয়েছে।
অভিনেত্রীর সকালের অভ্যাসের অন্যতম অংশ হলো জার্নাল লেখা। প্রতিদিন ঘুম থেকে ওঠার পর নিজের জীবনের যেসব বিষয় নিয়ে কৃতজ্ঞ বোধ করেন, সেগুলো খাতার একটি পাতায় লিখে রাখেন তিনি। সামান্থা জানান, শুরুতে এই অভ্যাস তার জন্য মোটেও সহজ ছিল না। জীবনের একটি কঠিন সময়ে একজনের পরামর্শে ডায়েরি লেখা শুরু করেছিলেন তিনি।
সেই সময় মানসিকভাবে ভালো না থাকায় ইতিবাচক কোনো বিষয় খুঁজে বের করে তা লিখে রাখা তার কাছে কঠিন মনে হতো। প্রথম কয়েক মাস এই অভ্যাস ধরে রাখতেও বেশ কষ্ট হয়েছিল। তবে ধীরে ধীরে জীবনের বিভিন্ন পরিস্থিতির দিকে তাকানোর দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। একপর্যায়ে তিনি উপলব্ধি করেন, শারীরিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠার আগেই মানসিকভাবে ভালো অনুভব করতে শুরু করেছেন।
এরপর থেকে জার্নাল লেখা তার দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাসে পরিণত হয়। কাজের ব্যস্ততা কিংবা অবস্থান পরিবর্তন হলেও এই অভ্যাসটি বাদ দিতে চান না সামান্থা। প্রতিদিন নিজের জন্য কিছুটা সময় বের করে কৃতজ্ঞতার বিষয়গুলো লিখে রাখেন তিনি।
সামান্থার সকালের রুটিনে এরপর রয়েছে কিছুক্ষণ সকালের রোদে সময় কাটানো। দিনের শুরুতে প্রাকৃতিক আলো শরীরের জৈবিক ঘড়ি বা ঘুম ও জাগরণের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় কড়া রোদে থাকার প্রয়োজন নেই। কতক্ষণ রোদে থাকা উচিত, তা ঋতু, ত্বকের ধরন এবং সূর্যালোকের তীব্রতার মতো বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে।
নিজের সকালের সময়টিতে সামান্থা ধ্যানের জন্যও আলাদা সময় রাখেন। জার্নাল লেখা ও সকালের আলোতে সময় কাটানোর পর ধ্যান করেন তিনি। অভিনেত্রীর মতে, এই অভ্যাসগুলো তাকে মানসিকভাবে স্থির থাকতে এবং নিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
সামান্থা জানিয়েছেন, কোথায় রয়েছেন বা কাজের চাপ কতটা, সেটি তার এই রুটিনের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। প্রতিদিন প্রায় ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা সময় নিজের জন্য রাখার চেষ্টা করেন তিনি। ব্যস্ততার মধ্যেও এই অভ্যাসগুলো ধরে রাখাকে গুরুত্ব দেন অভিনেত্রী।
তার মতে, দিনের শুরুতে নিজের মনকে কিছুটা সময় দেওয়া পরবর্তী সময়টুকু ভালোভাবে কাটাতে সহায়তা করে। তাই জার্নাল লেখা, সকালের রোদে সময় কাটানো এবং ধ্যান, এই তিনটি অভ্যাসই তার প্রতিদিনের জীবনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাতেও সামান্থা নিজের এই রুটিন বজায় রাখার চেষ্টা করছেন।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন