শারদীয় দুর্গোৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তিথি মহাসপ্তমী। আজ রোববার (১৮ অক্টোবর) মহাসপ্তমীর দ্বিতীয় দিন। এ বছর তিথির হিসাবে সপ্তমী দুদিন ধরে পালিত হচ্ছে। গতকাল শনিবার থেকে শুরু হওয়া এ তিথিকে ঘিরে পূজামণ্ডপগুলোতে চলছে দেবী দুর্গার আরাধনা, পুষ্পাঞ্জলি ও নানা ধর্মীয় আয়োজন।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, মহাসপ্তমী দেবী দুর্গার শক্তি, কল্যাণ ও অশুভ শক্তি বিনাশের আরাধনার বিশেষ দিন। এ দিনে ভক্তরা দেবীর কাছে পরিবার, সমাজ ও দেশবাসীর শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনা করেন। পূজা-অর্চনা, মন্ত্রপাঠ ও ভোগ নিবেদনের মধ্য দিয়ে মণ্ডপে মণ্ডপে বিরাজ করছে উৎসবের আবহ।

মহাসপ্তমীর অন্যতম প্রধান আচার নবপত্রিকা স্নান ও পূজামণ্ডপে এর প্রবেশ। নবপত্রিকা সাধারণভাবে ‘কলাবউ’ নামে পরিচিত। শাস্ত্রীয় রীতি অনুযায়ী কলাগাছ, কচুগাছ, হলুদগাছ, জয়ন্তী, বেল, ডালিম, অশোক, মানকচু ও ধানগাছ এই নয়টি উদ্ভিদ একত্র করে নবপত্রিকা প্রস্তুত করা হয়।

নির্ধারিত আচার অনুসারে নবপত্রিকাকে স্নান করিয়ে পূজামণ্ডপে প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর শুরু হয় সপ্তমীবিহিত পূজার আনুষ্ঠানিকতা। ষোড়শোপচারসহ বিভিন্ন শাস্ত্রীয় রীতিতে দেবীর পূজা করা হয়। মন্ত্রপাঠ, পুষ্পার্ঘ্য ও ভোগ নিবেদনের পাশাপাশি চলে আরতি।

সকালে পূজা শেষে ভক্তরা ফুল ও বেলপাতা দিয়ে দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করেন। দেবীর আশীর্বাদ কামনায় পূজামণ্ডপে সমবেত হন নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ।

মহাসপ্তমী উপলক্ষে দিনভর পূজামণ্ডপগুলোতে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বাড়বে। পূজা-অর্চনা, প্রসাদ বিতরণ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদ্‌যাপিত হবে দিনটি। সন্ধ্যায় ধূপ, প্রদীপ ও অন্যান্য পূজাসামগ্রী দিয়ে অনুষ্ঠিত হবে সন্ধ্যারতি। ঘণ্টা, শঙ্খ ও ঢাকের শব্দে মুখর হয়ে উঠবে মণ্ডপের পরিবেশ।

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে পৃথক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দশভূজা দেবী দুর্গা অশুভ শক্তির বিনাশ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতি শরতে কৈলাস ছেড়ে মর্ত্যলোকে আসেন। সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে তিনি পিতৃগৃহে সময় কাটানোর পর আবার দেবালয়ে ফিরে যান। দেবীর এই আগমনকে ঘিরেই শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ ও ধর্মীয় তাৎপর্য।

আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের ১৫ দিনকে দেবীপক্ষ বলা হয়। মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীকে আহ্বানের মাধ্যমে এ পক্ষের সূচনা হয়। চণ্ডীপাঠ, মঙ্গলঘট স্থাপন, ঢাক-কাঁসর ও শঙ্খধ্বনির মধ্য দিয়ে মণ্ডপে মণ্ডপে শুরু হয় উৎসবের প্রস্তুতি। ষষ্ঠীতে দেবীর বোধন এবং দশমীতে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। পরে কোজাগরী পূর্ণিমায় লক্ষ্মীপূজার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সমাপ্তি ঘটে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আরেকটি প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ত্রেতাযুগে স্ত্রী সীতাকে উদ্ধারের উদ্দেশ্যে ভগবান রাম শরৎকালে দেবী দুর্গার অকালবোধন করেছিলেন। দেবীর আশীর্বাদে রাবণকে পরাজিত করে সীতাকে উদ্ধার করেন তিনি। শরৎকালে দেবীকে আহ্বান করার ঐতিহ্য থেকেই এ পূজার নাম হয়েছে শারদীয় দুর্গাপূজা।

মহাসপ্তমীর এই পবিত্র তিথিতে ভক্তদের প্রার্থনা, পূজা-অর্চনা ও উৎসবের আয়োজনে মুখর হয়ে উঠেছে দুর্গাপূজার পরিবেশ। ধর্মীয় বিশ্বাস ও সম্প্রীতির আবহে সবার জন্য শান্তি, মঙ্গল ও সমৃদ্ধি কামনার মধ্য দিয়ে উদ্‌যাপিত হচ্ছে মহাসপ্তমী।