রুনা খান ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পাওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশ। বেসরকারি সংস্থা ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা রুনা খান ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। এশিয়ার অন্যতম সম্মানজনক পুরস্কার হিসেবে পরিচিত এই স্বীকৃতি তাঁর দীর্ঘদিনের মানবিক ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
রুনা খান ২০০২ সালে ফ্রেন্ডশিপ প্রতিষ্ঠা করেন। একটি ভাসমান হাসপাতাল দিয়ে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠান বর্তমানে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং জীবিকার উন্নয়নে কাজ করছে। নদীভাঙন ও দুর্গম অঞ্চলের মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দেওয়াই প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম লক্ষ্য।
র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কারের মাধ্যমে এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মান জানানো হয়, যাঁদের কাজ মানুষের জীবন পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রুনা খানের কাজেও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সুযোগ তৈরি, মানুষের মর্যাদা রক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক উন্নয়নের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
রুনা খানের নেতৃত্বে ফ্রেন্ডশিপের কার্যক্রম শুধু স্বাস্থ্যসেবার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। শিক্ষা, নিরাপদ পানি, জীবিকা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে। বিশেষ করে দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে ফ্রেন্ডশিপের নানা উদ্যোগ ইতিমধ্যে দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে।
এর আগে রুনা খান বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছেন। ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তাঁর নেতৃত্ব ও সামাজিক উদ্যোগ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করতে ভূমিকা রেখেছে। নতুন এই পুরস্কার তাঁর দীর্ঘদিনের কাজকে আরও বড় পরিসরে পরিচিত করে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
রুনা খান ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পাওয়ার খবর বাংলাদেশের জন্যও একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে দীর্ঘদিনের কাজ এবং মানবিক উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মানকে দেখা হচ্ছে। তাঁর এই অর্জনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সামাজিক উন্নয়ন ও মানবসেবামূলক কাজও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।




























