ওয়ারেন বাফেটের অনুদান নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে বিল গেটসের দাতব্য ফাউন্ডেশনে নিয়মিত অনুদান দিয়ে এলেও এবার সেই ধারায় বড় পরিবর্তন এনেছেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনকুবের ওয়ারেন বাফেট। সাম্প্রতিক সময়ে বিল গেটসের সঙ্গে বিতর্কিত অর্থলগ্নিকারী ও যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে তথ্য প্রকাশ পাওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত সামনে আসে।
মঙ্গলবার বাফেট কয়েক শ কোটি ডলার মূল্যের বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের শেয়ার দানের ঘোষণা দেন। তবে এবার সেই তালিকায় বিল গেটস ফাউন্ডেশনের নাম নেই। পরিবর্তে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারটি দাতব্য ফাউন্ডেশনের মধ্যে শেয়ারগুলো ভাগ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ৯৫ বছর বয়সী এই বিনিয়োগ কিংবদন্তি জানিয়েছেন, ২০৩৪ সালের শেষ নাগাদ তাঁর হাতে থাকা বাকি সব শেয়ারও একইভাবে দান করে দেবেন।
২০০৬ সালে বাফেট ঘোষণা দিয়েছিলেন, তিনি প্রতিবছর নিজের বিপুল সম্পদের একটি বড় অংশ তৎকালীন বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনকে দান করবেন। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গত প্রায় ২০ বছরে তিনি প্রায় ৪৭ বিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছেন। তবে এবার দাননীতিতে বড় পরিবর্তন এনে তিনি স্পষ্ট করেছেন, ভবিষ্যতের সব অনুদান তাঁর পরিবারের চারটি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমেই পরিচালিত হবে।
এদিকে চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জেফরি এপস্টিন-সংক্রান্ত কিছু নথি প্রকাশ করে। সেখানে বিল গেটসের সঙ্গে এপস্টিনের যোগাযোগের বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে। যদিও বাফেট তাঁর আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে গেটস বা এপস্টিনের নাম উল্লেখ করেননি, মার্চে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পুরো বিষয় প্রকাশ হওয়ার পর থেকে বিল গেটসের সঙ্গে তাঁর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। এমনকি তিনি ভবিষ্যতে এ বিষয়ে কোনো আইনি জটিলতায় জড়াতে চান না বলেও মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে বিল গেটস জানিয়েছেন, ২০১১ সালে তাঁর সঙ্গে জেফরি এপস্টিনের পরিচয় হয়েছিল মূলত সম্ভাব্য অনুদান সংগ্রহের উদ্দেশ্যে। তখন তাঁর ধারণা ছিল, এপস্টিন স্বাস্থ্যখাতে বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহে সহায়তা করতে পারেন। তবে পরবর্তীতে এপস্টিনের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের বিষয়গুলো সামনে আসার পর তিনি স্বীকার করেন, শুরু থেকেই ওই ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করা তাঁর ভুল ছিল। বর্তমান বাস্তবতায় তিনি মনে করেন, সেই সম্পর্ক রাখা মোটেও উচিত হয়নি।
বিল গেটস ফাউন্ডেশন অবশ্য জানিয়েছে, ওয়ারেন বাফেটের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার জন্য তারা কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে ফাউন্ডেশন দাবি করেছে, বিল গেটসের বিশাল আর্থিক প্রতিশ্রুতির কারণে সংস্থাটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম পরিচালনায় কোনো সমস্যা হবে না। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৪৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন মানবকল্যাণমূলক প্রকল্প পরিচালনার মতো আর্থিক সক্ষমতা রয়েছে। ফলে বাফেটের অনুদান বন্ধ হলেও ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমে তাৎক্ষণিক কোনো প্রভাব পড়বে না বলে সংস্থাটি মনে করছে।



























