ঢাকা ০৪:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, ৮ আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যু Logo শিশুর শরীরে কালো দাগ কেন হয়? অ্যাকাথোসিস নিগ্রিক্যানস ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি জানুন Logo আয়োকিগাহারা ফরেস্ট: জাপানের রহস্যময় ‘সুইসাইড ফরেস্ট’ এর অজানা সত্য Logo মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার ইঙ্গিতে তেলের দামে নিম্নগতি Logo ইরানের সঙ্গে সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্পের ইঙ্গিত Logo প্রথম সপ্তাহেই ঝড়, উত্তর আমেরিকায় বাড়ছে ‘দম’ এর দাপট Logo ইরান সংকট খাদ্য নিরাপত্তা: সারের বাজারে নতুন বৈশ্বিক চাপ Logo চন্দনাইশে মখলেছুর রহমান চৌধুরী-আলতাজ খাতুন স্কুলে পুরস্কার বিতরণ ও এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় Logo চুক্তিতে না এলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র: পেন্টাগনের সতর্কবার্তা Logo আপনার লোকেশন ট্র্যাক করছে স্মার্টফোন! বন্ধ করবেন যেভাবে

চট্টগ্রামে তোপের মুখে হাসনাত আবদুল্লাহ

চট্টগ্রামে তোপের মুখে হাসনাত আব্দুল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এম মনজুর আলমের বাসভবনে গিয়ে স্থানীয় ছাত্রদল ও যুবদল নেতা-কর্মীদের তোপের মুখে পড়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতা এবং সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে নগরের কাট্টলী এলাকায় সাবেক এই মেয়রের বাসায় অবস্থানকালে এ বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হন তিনি।

হাসনাত আবদুল্লাহর এই আকস্মিক সফরের আনুষ্ঠানিক কোনো কারণ জানানো না হলেও একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে মনজুর আলমকে এনসিপি থেকে মেয়র প্রার্থী করার বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা করতেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন।

জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরের দিকে নিজের ব্যক্তিগত গাড়িতে করে মনজুর আলমের কাট্টলীর বাসায় প্রবেশ করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তবে ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই এই খবর স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের কাছে পৌঁছে যায়। এরপরই যুবদল নেতা শাহেদ আকবরের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা ওই বাড়ির সামনে জড়ো হন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, শুরুতে মনজুর আলমের পরিবারের পক্ষ থেকে এনসিপি নেতার উপস্থিতির বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কিছুক্ষণ পর হাসনাত আবদুল্লাহ নিজেই বেরিয়ে আসেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে যুবদল নেতা শাহেদ আকবর জানান, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একজন সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে হাসনাত আবদুল্লাহ আমাদের সবার কাছেই অত্যন্ত সম্মান ও ভালোবাসার পাত্র। কিন্তু তাঁর মতো একজন স্পষ্টভাষী ভারত ও আওয়ামী লীগবিরোধী নেতা কেন একজন সাবেক আওয়ামী লীগ নেতার বাসায় গোপন বৈঠকে আসবেন, আমরা মূলত সেটিরই কৈফিয়ত চেয়েছি।”

তিনি আরও জানান, এ নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা করলে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাঁর বেশ কিছুক্ষণ তর্ক-বিতর্ক হয়। পরবর্তীতে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে আন্দোলনকারীরাই তাঁকে সসম্মানে মূল সড়ক পর্যন্ত এগিয়ে দেন এবং তিনি সেখান থেকে চলে যান।

এম মনজুর আলমের বর্ণিল রাজনৈতিক অতীত রয়েছে। রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে তিনি কাট্টলী থেকে আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে একাধিকবার ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই তিনি দল পরিবর্তন করে বিএনপিতে যোগ দেন এবং ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিএনপির সমর্থনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তবে মেয়র পদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি আবারও আওয়ামী লীগের শীর্ষ মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ান। বর্তমানে চসিক নির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁর পুনরায় মেয়র পদে লড়াইয়ের গুঞ্জন জোরালো হয়েছে। ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই হাসনাত আবদুল্লাহর এই সফর স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

এদিকে, এই গোপন বৈঠক ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ে এনসিপি চট্টগ্রাম শাখার নেতা জোবায়েরুল ইসলাম আরিফের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, ৮ আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যু

চট্টগ্রামে তোপের মুখে হাসনাত আবদুল্লাহ

Update Time : ০৯:৫০:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এম মনজুর আলমের বাসভবনে গিয়ে স্থানীয় ছাত্রদল ও যুবদল নেতা-কর্মীদের তোপের মুখে পড়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতা এবং সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে নগরের কাট্টলী এলাকায় সাবেক এই মেয়রের বাসায় অবস্থানকালে এ বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হন তিনি।

হাসনাত আবদুল্লাহর এই আকস্মিক সফরের আনুষ্ঠানিক কোনো কারণ জানানো না হলেও একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে মনজুর আলমকে এনসিপি থেকে মেয়র প্রার্থী করার বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা করতেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন।

জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরের দিকে নিজের ব্যক্তিগত গাড়িতে করে মনজুর আলমের কাট্টলীর বাসায় প্রবেশ করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তবে ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই এই খবর স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের কাছে পৌঁছে যায়। এরপরই যুবদল নেতা শাহেদ আকবরের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা ওই বাড়ির সামনে জড়ো হন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, শুরুতে মনজুর আলমের পরিবারের পক্ষ থেকে এনসিপি নেতার উপস্থিতির বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কিছুক্ষণ পর হাসনাত আবদুল্লাহ নিজেই বেরিয়ে আসেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে যুবদল নেতা শাহেদ আকবর জানান, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একজন সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে হাসনাত আবদুল্লাহ আমাদের সবার কাছেই অত্যন্ত সম্মান ও ভালোবাসার পাত্র। কিন্তু তাঁর মতো একজন স্পষ্টভাষী ভারত ও আওয়ামী লীগবিরোধী নেতা কেন একজন সাবেক আওয়ামী লীগ নেতার বাসায় গোপন বৈঠকে আসবেন, আমরা মূলত সেটিরই কৈফিয়ত চেয়েছি।”

তিনি আরও জানান, এ নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা করলে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাঁর বেশ কিছুক্ষণ তর্ক-বিতর্ক হয়। পরবর্তীতে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে আন্দোলনকারীরাই তাঁকে সসম্মানে মূল সড়ক পর্যন্ত এগিয়ে দেন এবং তিনি সেখান থেকে চলে যান।

এম মনজুর আলমের বর্ণিল রাজনৈতিক অতীত রয়েছে। রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে তিনি কাট্টলী থেকে আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে একাধিকবার ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই তিনি দল পরিবর্তন করে বিএনপিতে যোগ দেন এবং ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিএনপির সমর্থনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তবে মেয়র পদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি আবারও আওয়ামী লীগের শীর্ষ মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ান। বর্তমানে চসিক নির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁর পুনরায় মেয়র পদে লড়াইয়ের গুঞ্জন জোরালো হয়েছে। ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই হাসনাত আবদুল্লাহর এই সফর স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

এদিকে, এই গোপন বৈঠক ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ে এনসিপি চট্টগ্রাম শাখার নেতা জোবায়েরুল ইসলাম আরিফের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।