ঢাকা ১১:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম জলাবদ্ধতা সমস্যা বাড়ছে: ১০ হাজার কোটি টাকায়ও মিলছে না সমাধান

  • Masura Akter Shumaya
  • Update Time : ১০:৪৩:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
  • ৫১৮

চট্টগ্রাম নগরের সড়কে জলাবদ্ধতায় ডুবে থাকা এলাকা |

চট্টগ্রাম জলাবদ্ধতা সমস্যা কেন বাড়ছে ,কেন ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেও জলাবদ্ধতা কমছে না, খাল দখল, ভুল পরিকল্পনা ও অসম্পূর্ণ প্রকল্পের বিস্তারিত বিশ্লেষণ। প্রায় এক দশক ধরে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য বড় বড় প্রকল্প নেওয়া হলেও বাস্তবে পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। বরং সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের প্রবর্তক, চকবাজার, আগ্রাবাদ, মুরাদপুর, জিইসি, বহদ্দারহাটসহ অন্তত ২০টি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কোথাও হাঁটুসমান পানি, কোথাও কোমর বা বুকসমান পানি জমে নগরবাসীর চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অনেক এলাকায় ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত পানি স্থায়ী থাকে, যা নগরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার বড় ধরনের দুর্বলতা তুলে ধরে।

পরিকল্পনার গলদই বড় কারণ

চট্টগ্রাম জলাবদ্ধতা সমস্যা কেন বাড়ছে এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো প্রকল্প পরিকল্পনার ত্রুটি। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলাবদ্ধতার মতো জটিল সমস্যার সমাধানে যেসব বিষয় বিবেচনা করা জরুরি, যেমন পানিপ্রবাহ বিশ্লেষণ, জোয়ার-ভাটা, খাল-নালা ও জলাধারের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা,এসব ক্ষেত্রে যথাযথ গবেষণা হয়নি।১৯৯৫ সালের ড্রেনেজ মহাপরিকল্পনায় যেসব সুপারিশ ছিল, তার অনেকগুলোই বর্তমান প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও তা পুরো নগরের জন্য কার্যকর হচ্ছে না। পরিকল্পনার এই সীমাবদ্ধতা জলাবদ্ধতা সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলছে।

অসম্পূর্ণ প্রকল্প ও সমন্বয়ের অভাব

বর্তমানে চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসনে চারটি বড় প্রকল্প চলছে, যার মোট ব্যয় প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ইতিমধ্যে খরচ হয়ে গেছে। তবে এখনো কোনো প্রকল্প পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি।চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), সিটি কর্পোরেশন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড—এই তিনটি সংস্থা আলাদা আলাদা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। কিন্তু তাদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। ফলে একটি সংস্থার কাজ অন্য সংস্থার কাজের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হচ্ছে না, যা সমস্যা সমাধানের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সব খাল প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত নয়

চট্টগ্রাম জলাবদ্ধতা সমস্যা কেন বাড়ছে—এর আরেকটি বড় কারণ হলো সব খালকে প্রকল্পের আওতায় না আনা। সিডিএর তথ্য অনুযায়ী, নগরে মোট ৭৪টি খাল থাকলেও বড় প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে মাত্র ৩৬টি খাল। অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক খাল এখনো অবহেলিত।এই খালগুলো ভরাট, দখল ও আবর্জনায় বন্ধ হয়ে থাকায় বৃষ্টির পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশিত হতে পারে না। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সব খালকে একসঙ্গে উন্নয়ন না করলে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

খাল দখল ও দূষণ পরিস্থিতি আরও খারাপ করছে

চট্টগ্রামের অনেক খাল এখন কার্যত মৃত। কোথাও খালের বুক ভরাট হয়ে গেছে, কোথাও প্লাস্টিক ও আবর্জনায় বন্ধ হয়ে গেছে পানির প্রবাহ। শিল্পকারখানার বর্জ্য খালে ফেলার কারণে পানি দূষিত হয়ে পড়েছে।খালের দুই পাশে অবৈধ দখলও একটি বড় সমস্যা। বিভিন্ন স্থাপনা, দোকান বা কারখানা খালের জায়গা দখল করে রেখেছে। ফলে খালের প্রস্থ কমে গেছে এবং পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে বৃষ্টির সময় পানি উপচে সড়ক ও বাসাবাড়িতে ঢুকে পড়ে।

অস্থায়ী বাঁধ ও অপরিকল্পিত কাজ

প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় খালে অস্থায়ী বাঁধ দেওয়া হয়েছিল, যা অনেক জায়গায় এখনো অপসারণ করা হয়নি। ফলে বৃষ্টির সময় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়।এছাড়া অনেক জায়গায় খাল খনন বা সংস্কার কাজ অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। এতে করে পানি নিষ্কাশনের পরিবর্তে পানি জমে থাকার প্রবণতা বাড়ছে। এই ধরনের অপরিকল্পিত কাজ জলাবদ্ধতা সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বাস্তবতার সঙ্গে পরিকল্পনার অমিল

চট্টগ্রাম জলাবদ্ধতা সমস্যা কেন বাড়ছে এর পেছনে বাস্তবতার সঙ্গে পরিকল্পনার অমিলও দায়ী। প্রকল্পগুলো কাগজে-কলমে অনেক অগ্রগতি দেখালেও মাঠপর্যায়ে সেই উন্নতির প্রতিফলন নেই।গত এক দশকে ৫০টির বেশি সভা এবং ২০০টির বেশি সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও সেগুলোর বেশিরভাগই বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে শুধু সময় ও অর্থ ব্যয় হয়েছে।

সমাধানের পথ :

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। সব খাল পুনরুদ্ধার, দখলমুক্ত করা এবং আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। না হলে হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেও এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হবে না।সব মিলিয়ে বলা যায়, চট্টগ্রাম জলাবদ্ধতা সমস্যা কেন বাড়ছে এর পেছনে রয়েছে পরিকল্পনার গলদ, অসম্পূর্ণ প্রকল্প, খাল দখল, সমন্বয়ের অভাব এবং বাস্তবায়নের দুর্বলতা। যতদিন এসব মূল সমস্যা সমাধান না হবে, ততদিন প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি ঘটবে। নগরবাসীর প্রত্যাশা শুধু কাগজে নয়, বাস্তবেও যেন পরিবর্তন আসে। অন্যথায় হাজার কোটি টাকার প্রকল্পও জলাবদ্ধতার এই চক্র ভাঙতে পারবে না।

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রাম জলাবদ্ধতা সমস্যা বাড়ছে: ১০ হাজার কোটি টাকায়ও মিলছে না সমাধান

Update Time : ১০:৪৩:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

চট্টগ্রাম জলাবদ্ধতা সমস্যা কেন বাড়ছে ,কেন ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেও জলাবদ্ধতা কমছে না, খাল দখল, ভুল পরিকল্পনা ও অসম্পূর্ণ প্রকল্পের বিস্তারিত বিশ্লেষণ। প্রায় এক দশক ধরে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য বড় বড় প্রকল্প নেওয়া হলেও বাস্তবে পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। বরং সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের প্রবর্তক, চকবাজার, আগ্রাবাদ, মুরাদপুর, জিইসি, বহদ্দারহাটসহ অন্তত ২০টি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কোথাও হাঁটুসমান পানি, কোথাও কোমর বা বুকসমান পানি জমে নগরবাসীর চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অনেক এলাকায় ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত পানি স্থায়ী থাকে, যা নগরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার বড় ধরনের দুর্বলতা তুলে ধরে।

পরিকল্পনার গলদই বড় কারণ

চট্টগ্রাম জলাবদ্ধতা সমস্যা কেন বাড়ছে এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো প্রকল্প পরিকল্পনার ত্রুটি। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলাবদ্ধতার মতো জটিল সমস্যার সমাধানে যেসব বিষয় বিবেচনা করা জরুরি, যেমন পানিপ্রবাহ বিশ্লেষণ, জোয়ার-ভাটা, খাল-নালা ও জলাধারের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা,এসব ক্ষেত্রে যথাযথ গবেষণা হয়নি।১৯৯৫ সালের ড্রেনেজ মহাপরিকল্পনায় যেসব সুপারিশ ছিল, তার অনেকগুলোই বর্তমান প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও তা পুরো নগরের জন্য কার্যকর হচ্ছে না। পরিকল্পনার এই সীমাবদ্ধতা জলাবদ্ধতা সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলছে।

আরও পড়ুন  লোডশেডিং কমবে: আগামী সপ্তাহ থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতির আশ্বাস

অসম্পূর্ণ প্রকল্প ও সমন্বয়ের অভাব

বর্তমানে চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসনে চারটি বড় প্রকল্প চলছে, যার মোট ব্যয় প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ইতিমধ্যে খরচ হয়ে গেছে। তবে এখনো কোনো প্রকল্প পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি।চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), সিটি কর্পোরেশন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড—এই তিনটি সংস্থা আলাদা আলাদা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। কিন্তু তাদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। ফলে একটি সংস্থার কাজ অন্য সংস্থার কাজের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হচ্ছে না, যা সমস্যা সমাধানের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সব খাল প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত নয়

চট্টগ্রাম জলাবদ্ধতা সমস্যা কেন বাড়ছে—এর আরেকটি বড় কারণ হলো সব খালকে প্রকল্পের আওতায় না আনা। সিডিএর তথ্য অনুযায়ী, নগরে মোট ৭৪টি খাল থাকলেও বড় প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে মাত্র ৩৬টি খাল। অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক খাল এখনো অবহেলিত।এই খালগুলো ভরাট, দখল ও আবর্জনায় বন্ধ হয়ে থাকায় বৃষ্টির পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশিত হতে পারে না। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সব খালকে একসঙ্গে উন্নয়ন না করলে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন  এখনই অনলাইন ক্লাস চালুর পরিকল্পনা নেই: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

খাল দখল ও দূষণ পরিস্থিতি আরও খারাপ করছে

চট্টগ্রামের অনেক খাল এখন কার্যত মৃত। কোথাও খালের বুক ভরাট হয়ে গেছে, কোথাও প্লাস্টিক ও আবর্জনায় বন্ধ হয়ে গেছে পানির প্রবাহ। শিল্পকারখানার বর্জ্য খালে ফেলার কারণে পানি দূষিত হয়ে পড়েছে।খালের দুই পাশে অবৈধ দখলও একটি বড় সমস্যা। বিভিন্ন স্থাপনা, দোকান বা কারখানা খালের জায়গা দখল করে রেখেছে। ফলে খালের প্রস্থ কমে গেছে এবং পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে বৃষ্টির সময় পানি উপচে সড়ক ও বাসাবাড়িতে ঢুকে পড়ে।

অস্থায়ী বাঁধ ও অপরিকল্পিত কাজ

প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় খালে অস্থায়ী বাঁধ দেওয়া হয়েছিল, যা অনেক জায়গায় এখনো অপসারণ করা হয়নি। ফলে বৃষ্টির সময় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়।এছাড়া অনেক জায়গায় খাল খনন বা সংস্কার কাজ অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। এতে করে পানি নিষ্কাশনের পরিবর্তে পানি জমে থাকার প্রবণতা বাড়ছে। এই ধরনের অপরিকল্পিত কাজ জলাবদ্ধতা সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

আরও পড়ুন  হাম প্রাদুর্ভাব তথ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন

বাস্তবতার সঙ্গে পরিকল্পনার অমিল

চট্টগ্রাম জলাবদ্ধতা সমস্যা কেন বাড়ছে এর পেছনে বাস্তবতার সঙ্গে পরিকল্পনার অমিলও দায়ী। প্রকল্পগুলো কাগজে-কলমে অনেক অগ্রগতি দেখালেও মাঠপর্যায়ে সেই উন্নতির প্রতিফলন নেই।গত এক দশকে ৫০টির বেশি সভা এবং ২০০টির বেশি সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও সেগুলোর বেশিরভাগই বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে শুধু সময় ও অর্থ ব্যয় হয়েছে।

সমাধানের পথ :

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। সব খাল পুনরুদ্ধার, দখলমুক্ত করা এবং আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। না হলে হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেও এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হবে না।সব মিলিয়ে বলা যায়, চট্টগ্রাম জলাবদ্ধতা সমস্যা কেন বাড়ছে এর পেছনে রয়েছে পরিকল্পনার গলদ, অসম্পূর্ণ প্রকল্প, খাল দখল, সমন্বয়ের অভাব এবং বাস্তবায়নের দুর্বলতা। যতদিন এসব মূল সমস্যা সমাধান না হবে, ততদিন প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি ঘটবে। নগরবাসীর প্রত্যাশা শুধু কাগজে নয়, বাস্তবেও যেন পরিবর্তন আসে। অন্যথায় হাজার কোটি টাকার প্রকল্পও জলাবদ্ধতার এই চক্র ভাঙতে পারবে না।