ঢাকা ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: আতঙ্ক নয়, বৈজ্ঞানিক যাচাইয়ের আহ্বান Logo ৪৪ রাষ্ট্রীয় শিল্প ইজারা নয়, প্রতিরোধের ডাক জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল Logo ছোট আঁচড়, বড় বিপদ! পোষা প্রাণীর কামড়ে জলাতঙ্কের ঝুঁকি Logo রাকসু ভিপি সাংবাদিকদের সতর্কবার্তা দিলেন Logo চট্টগ্রাম ওয়াসা: সিস্টেম লসে ৭৮ কোটি টাকার পানি Logo আবারও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে সঞ্চয়পত্র, বাড়ছে বিনিয়োগকারীর আগ্রহ Logo কুমিল্লা মাদক ধ্বংস: বিজিবির বড় অভিযানে চাঞ্চল্যকর তথ্য Logo শাহজালাল বিমানবন্দরে ৯২ লাখ টাকার সোনার বার উদ্ধার Logo সকালের মধ্যে ৮ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে সতর্কসংকেত Logo ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা নিবাস কারাগারে, রিমান্ড শুনানি রবিবার

জাবিতে নারী নিরাপত্তার দাবিতে মৌন মিছিল

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘নারী নিরাপত্তা মঞ্চ’–এর ব্যানারে মৌন মিছিল

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা এবং নারী শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক যৌন হয়রানির ঘটনার প্রতিবাদে মৌন মিছিল করেছেন ছাত্রীরা। বুধবার বিকেলে ‘নারী নিরাপত্তা মঞ্চ’ ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নেন বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী। নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনারের পাদদেশে গিয়ে শেষ হয়।

মিছিল শেষে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী অদ্রিজা দাস। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা নিরাপত্তাহীনতারই বহিঃপ্রকাশ।

অদ্রিজা দাস তার বক্তব্যে অভিযোগ করেন, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে প্রতিনিয়ত নারী শিক্ষার্থীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। কিন্তু অধিকাংশ ঘটনায় কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। ফলে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং অপরাধীরা পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

তিনি বলেন, শুধু একটি নির্দিষ্ট ঘটনার বিচার দাবি করতেই তারা রাস্তায় নামেননি। বরং দীর্ঘদিনের ব্যবস্থাগত ব্যর্থতার বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিবাদ জানাতেই এই আন্দোলনের সূচনা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এখনই দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

নারী শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ‘নারী নিরাপত্তা মঞ্চ’-এর আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশের ঘোষণাও দেওয়া হয় এ কর্মসূচি থেকে। আন্দোলনকারীরা জানান, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পর তারা উপলব্ধি করেছেন যে বিচ্ছিন্নভাবে প্রতিবাদ করলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। তাই সংগঠিতভাবে দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলনের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার মতো গুরুতর ঘটনার পরও ক্যাম্পাসে আরও কয়েকটি হয়রানির ঘটনা ঘটেছে। যা প্রমাণ করে, নিরাপত্তা সংকট কেবল একটি নির্দিষ্ট ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ ও প্রশাসনিক দুর্বলতার সঙ্গে জড়িত।

তারা অভিযোগ করেন, অনেক সময় ভুক্তভোগীরা সামাজিক চাপ ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অভিযোগ জানাতে ভয় পান। আবার অভিযোগ দিলেও বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় আটকে যায়। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে নিরাপদ শিক্ষাঙ্গনে পরিণত করতে হলে শুধু তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলেই হবে না। প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কার। এর মধ্যে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার, অভিযোগ গ্রহণের স্বচ্ছ ব্যবস্থা এবং জেন্ডার সংবেদনশীল নীতিমালা বাস্তবায়নের দাবি তোলা হয়।

মৌন মিছিলে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। সেখানে “নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই”, “হয়রানির বিচার চাই” এবং “নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করো”সহ নানা স্লোগান লেখা ছিল। কর্মসূচি চলাকালে পুরো পরিবেশ ছিল শান্তিপূর্ণ ও সংযত।

মিছিলে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে এসে তারা প্রায়ই অনিরাপত্তার মধ্যে থাকেন। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাসের নির্জন এলাকায় চলাচলের সময় ভয় কাজ করে। অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে হয়রানির অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের মৌলিক দায়িত্ব। কিন্তু বাস্তবে অনেক সময় ঘটনাগুলোকে গুরুত্ব সহকারে দেখা হয় না। এ কারণে শিক্ষার্থীদের নিজেদের অধিকার আদায়ে সংগঠিত হতে হচ্ছে।

আন্দোলনকারীরা আরও জানান, তাদের এই প্ল্যাটফর্ম কেবল প্রতিবাদ কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ভবিষ্যতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম, সহায়তা নেটওয়ার্ক গঠন এবং ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়ানোর কাজও করবে নারী নিরাপত্তা মঞ্চ।

তারা বলেন, যৌন হয়রানি ও সহিংসতার বিরুদ্ধে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনও জরুরি। শুধুমাত্র প্রশাসনিক ব্যবস্থা দিয়ে সমস্যার পুরো সমাধান সম্ভব নয়। এজন্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও এই কর্মসূচির প্রতি সংহতি জানান। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন। ক্যাম্পাসজুড়ে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে যেন কোনো নারী শিক্ষার্থী এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার না হন, সেজন্য স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

তারা আরও বলেন, নিরাপদ পরিবেশ ছাড়া শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। নারী শিক্ষার্থীরা যদি আতঙ্ক ও অনিরাপত্তার মধ্যে থাকেন, তবে তা পুরো শিক্ষাব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানান তারা।

কর্মসূচি শেষে আন্দোলনকারীরা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। প্রয়োজনে আরও বড় পরিসরে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। একইসঙ্গে তারা সব শিক্ষার্থীকে এই আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে পাশে থাকার আহ্বান জানান।

জনপ্রিয় সংবাদ

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: আতঙ্ক নয়, বৈজ্ঞানিক যাচাইয়ের আহ্বান

জাবিতে নারী নিরাপত্তার দাবিতে মৌন মিছিল

Update Time : ০৮:১২:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা এবং নারী শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক যৌন হয়রানির ঘটনার প্রতিবাদে মৌন মিছিল করেছেন ছাত্রীরা। বুধবার বিকেলে ‘নারী নিরাপত্তা মঞ্চ’ ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নেন বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী। নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনারের পাদদেশে গিয়ে শেষ হয়।

মিছিল শেষে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী অদ্রিজা দাস। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা নিরাপত্তাহীনতারই বহিঃপ্রকাশ।

অদ্রিজা দাস তার বক্তব্যে অভিযোগ করেন, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে প্রতিনিয়ত নারী শিক্ষার্থীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। কিন্তু অধিকাংশ ঘটনায় কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। ফলে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং অপরাধীরা পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

তিনি বলেন, শুধু একটি নির্দিষ্ট ঘটনার বিচার দাবি করতেই তারা রাস্তায় নামেননি। বরং দীর্ঘদিনের ব্যবস্থাগত ব্যর্থতার বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিবাদ জানাতেই এই আন্দোলনের সূচনা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এখনই দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

আরও পড়ুন  এনসিপিতে যোগ দিলেন জুনায়েদ-রাফে-রিফাতসহ ৪৭ নেতা

নারী শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ‘নারী নিরাপত্তা মঞ্চ’-এর আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশের ঘোষণাও দেওয়া হয় এ কর্মসূচি থেকে। আন্দোলনকারীরা জানান, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পর তারা উপলব্ধি করেছেন যে বিচ্ছিন্নভাবে প্রতিবাদ করলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। তাই সংগঠিতভাবে দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলনের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার মতো গুরুতর ঘটনার পরও ক্যাম্পাসে আরও কয়েকটি হয়রানির ঘটনা ঘটেছে। যা প্রমাণ করে, নিরাপত্তা সংকট কেবল একটি নির্দিষ্ট ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ ও প্রশাসনিক দুর্বলতার সঙ্গে জড়িত।

তারা অভিযোগ করেন, অনেক সময় ভুক্তভোগীরা সামাজিক চাপ ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অভিযোগ জানাতে ভয় পান। আবার অভিযোগ দিলেও বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় আটকে যায়। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে নিরাপদ শিক্ষাঙ্গনে পরিণত করতে হলে শুধু তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলেই হবে না। প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কার। এর মধ্যে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার, অভিযোগ গ্রহণের স্বচ্ছ ব্যবস্থা এবং জেন্ডার সংবেদনশীল নীতিমালা বাস্তবায়নের দাবি তোলা হয়।

আরও পড়ুন  আজ সকাল থেকে বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

মৌন মিছিলে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। সেখানে “নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই”, “হয়রানির বিচার চাই” এবং “নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করো”সহ নানা স্লোগান লেখা ছিল। কর্মসূচি চলাকালে পুরো পরিবেশ ছিল শান্তিপূর্ণ ও সংযত।

মিছিলে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে এসে তারা প্রায়ই অনিরাপত্তার মধ্যে থাকেন। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাসের নির্জন এলাকায় চলাচলের সময় ভয় কাজ করে। অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে হয়রানির অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের মৌলিক দায়িত্ব। কিন্তু বাস্তবে অনেক সময় ঘটনাগুলোকে গুরুত্ব সহকারে দেখা হয় না। এ কারণে শিক্ষার্থীদের নিজেদের অধিকার আদায়ে সংগঠিত হতে হচ্ছে।

আন্দোলনকারীরা আরও জানান, তাদের এই প্ল্যাটফর্ম কেবল প্রতিবাদ কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ভবিষ্যতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম, সহায়তা নেটওয়ার্ক গঠন এবং ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়ানোর কাজও করবে নারী নিরাপত্তা মঞ্চ।

তারা বলেন, যৌন হয়রানি ও সহিংসতার বিরুদ্ধে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনও জরুরি। শুধুমাত্র প্রশাসনিক ব্যবস্থা দিয়ে সমস্যার পুরো সমাধান সম্ভব নয়। এজন্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

আরও পড়ুন  চট্টগ্রাম জলাবদ্ধতা সমস্যা বাড়ছে: ১০ হাজার কোটি টাকায়ও মিলছে না সমাধান

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও এই কর্মসূচির প্রতি সংহতি জানান। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন। ক্যাম্পাসজুড়ে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে যেন কোনো নারী শিক্ষার্থী এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার না হন, সেজন্য স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

তারা আরও বলেন, নিরাপদ পরিবেশ ছাড়া শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। নারী শিক্ষার্থীরা যদি আতঙ্ক ও অনিরাপত্তার মধ্যে থাকেন, তবে তা পুরো শিক্ষাব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানান তারা।

কর্মসূচি শেষে আন্দোলনকারীরা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। প্রয়োজনে আরও বড় পরিসরে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। একইসঙ্গে তারা সব শিক্ষার্থীকে এই আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে পাশে থাকার আহ্বান জানান।