ঢাকা ০৭:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo হাম মৃত্যু ছাড়াল ৬০০, নতুন আক্রান্ত আরও ৫৫ Logo আর্জেন্টিনা নয়, ব্রাজিলও নয়; সবচেয়ে দামি দল ফ্রান্স Logo সুন্দরবন ভ্রমণ প্যাকেজ: খরচ, দর্শনীয় স্থান ও পূর্ণ গাইড Logo খুরশিদ আলম ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান, স্ত্রীর ঋণ খেলাপি হওয়া বাধা নয়: বাংলাদেশ ব্যাংক Logo স্পেন দলে জার্সি চমক, ১০ নম্বর পেলেন ওলমো; আলোচনায় গাভির নতুন পরিচয় Logo এসএসসি পরীক্ষা সূচি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য Logo ডেঙ্গু চিকিৎসা সহজ করতে বেসরকারি হাসপাতালে বড় ছাড়ের প্রস্তাব Logo ব্যাটারিচালিত রিকশা মহানগর এলাকার বাইরে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা Logo সিভি ভুল এড়ানোর গাইড: চাকরি পেতে জরুরি টিপস Logo ডেঙ্গু আক্রান্ত বৃদ্ধি: ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ৭৭ জনের নতুন তথ্য

জুনে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি, ৩ দিন তাপপ্রবাহের শঙ্কা

তাপমাত্রা

জ্যৈষ্ঠের তীব্র গরমে যখন দেশের মানুষ অতিষ্ঠ, তখন আরও উদ্বেগের খবর দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটির দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস অনুযায়ী, জুন মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। পাশাপাশি মাসজুড়ে ২ থেকে ৩টি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সোমবার (১ জুন) প্রকাশিত আবহাওয়া অধিদপ্তরের মাসিক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর ফলে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গরমের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে।

বর্তমানে ঢাকাসহ দেশের প্রায় ৪০টি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, চলমান এই পরিস্থিতি আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় অস্বস্তি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ বলা হয়। তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রির মধ্যে উঠলে সেটিকে মাঝারি তাপপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। আর ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করলে সেটি তীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে বিবেচিত হয়।

জুন মাসের পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, মাসের প্রথমার্ধেই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বা বর্ষা দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে বিস্তার লাভ করতে পারে। তবে বর্ষার আগমন সত্ত্বেও বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে গরমের প্রকোপ পুরোপুরি কমবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুম শুরু হলেও অনেক সময় বৃষ্টির পরিমাণ কম থাকলে তাপমাত্রা দ্রুত কমে না। বরং বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় ভ্যাপসা গরম আরও বেশি অনুভূত হতে পারে। এ কারণে জুন মাসে গরম ও আর্দ্রতার সম্মিলিত প্রভাব মানুষকে ভোগাতে পারে।

পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, জুন মাসে দেশে ৫ থেকে ৭ দিন হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বজ্রঝড় হতে পারে। এছাড়া কয়েকটি স্থানে দমকা হাওয়া ও বজ্রপাতের ঘটনাও ঘটতে পারে। বিশেষ করে বর্ষা শুরু হওয়ার সময় এসব আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি বেশি দেখা যায়।

বঙ্গোপসাগরেও এ মাসে ১ থেকে ২টি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে একটি লঘুচাপ মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। যদিও বর্তমানে বড় ধরনের কোনো ঘূর্ণিঝড়ের ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি।

নদ-নদীর পরিস্থিতি নিয়েও পূর্বাভাসে কিছু তথ্য দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, দেশের প্রধান নদীগুলোতে স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকতে পারে। তবে বিচ্ছিন্ন ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে কিছু অঞ্চলের নদীর পানি সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীগুলোর পানি সমতল সময় বিশেষে বাড়তে পারে। যদিও এই মুহূর্তে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কার কথা বলা হয়নি। তবুও সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ কমিটির সভায় মে মাসের আবহাওয়াচিত্রও পর্যালোচনা করা হয়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে অঞ্চলভেদে বৃষ্টির পরিমাণে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য ছিল।

চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়ার বৈচিত্র্য স্পষ্টভাবে দেখা গেছে।

গত মাসে বঙ্গোপসাগরে একটি উল্লেখযোগ্য আবহাওয়াগত ঘটনা ঘটে। ১১ মে শ্রীলঙ্কা উপকূলের কাছাকাছি দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে এটি সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়ে উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়।

১৩ মে সৃষ্ট ওই সুস্পষ্ট লঘুচাপ ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে এটি বড় ধরনের কোনো দুর্যোগে রূপ নেয়নি। তবে এর প্রভাবে কিছু অঞ্চলে আবহাওয়ার পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছিল।

মে মাসে দেশের ওপর দিয়ে দুটি মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। প্রথমটি ছিল ১৬ মে থেকে ২৬ মে পর্যন্ত। দ্বিতীয়টি শুরু হয় ২৯ মে এবং মাসের শেষ দিন পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।

গত মাসে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়। সেখানে পারদ উঠেছিল ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ছিল।

অন্যদিকে মে মাসে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে দিনাজপুরে। জেলার ওপর দিয়ে ১৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। যা ওই মাসে দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

এদিকে স্বল্পমেয়াদি পূর্বাভাসে মঙ্গলবারের আবহাওয়া সম্পর্কেও কিছু তথ্য দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

একই সঙ্গে এসব অঞ্চলে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু স্থানে মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে স্থানীয়ভাবে আবহাওয়ার কিছুটা পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

মঙ্গলবার সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। অর্থাৎ বৃষ্টিপাত হলেও দেশের সামগ্রিক তাপমাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন নাও আসতে পারে।

বর্তমানে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, ময়মনসিংহ, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৃদু তাপপ্রবাহ বিরাজ করছে। এছাড়া রংপুর, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের বিস্তীর্ণ এলাকাও তাপপ্রবাহের আওতায় রয়েছে।

বুধবারও প্রায় একই ধরনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক জানিয়েছেন, চলমান তাপপ্রবাহ আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে যেসব এলাকায় বৃষ্টিপাত হবে, সেসব স্থানে তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসতে পারে। এতে স্থানীয়ভাবে স্বস্তি ফিরলেও সার্বিক গরম পুরোপুরি কমবে না।

সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টার তথ্য অনুযায়ী, দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে খুলনায়। সেখানে তাপমাত্রা ছিল ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল নরসিংদীতে, ২১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

একই সময়ে দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে রাঙামাটি ও কুমিল্লায়। দুই জেলাতেই ৫২ মিলিমিটার করে বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও তাপপ্রবাহ একসঙ্গে বিরাজ করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তীব্র গরমের সময় প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া জরুরি। কারণ দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। জুন মাসে তাপমাত্রা আরও বাড়ার আশঙ্কা থাকায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

জনপ্রিয় সংবাদ

হাম মৃত্যু ছাড়াল ৬০০, নতুন আক্রান্ত আরও ৫৫

জুনে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি, ৩ দিন তাপপ্রবাহের শঙ্কা

Update Time : ০৯:৫২:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

জ্যৈষ্ঠের তীব্র গরমে যখন দেশের মানুষ অতিষ্ঠ, তখন আরও উদ্বেগের খবর দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটির দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস অনুযায়ী, জুন মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। পাশাপাশি মাসজুড়ে ২ থেকে ৩টি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সোমবার (১ জুন) প্রকাশিত আবহাওয়া অধিদপ্তরের মাসিক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর ফলে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গরমের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে।

বর্তমানে ঢাকাসহ দেশের প্রায় ৪০টি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, চলমান এই পরিস্থিতি আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় অস্বস্তি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ বলা হয়। তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রির মধ্যে উঠলে সেটিকে মাঝারি তাপপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। আর ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করলে সেটি তীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে বিবেচিত হয়।

জুন মাসের পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, মাসের প্রথমার্ধেই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বা বর্ষা দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে বিস্তার লাভ করতে পারে। তবে বর্ষার আগমন সত্ত্বেও বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে গরমের প্রকোপ পুরোপুরি কমবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুম শুরু হলেও অনেক সময় বৃষ্টির পরিমাণ কম থাকলে তাপমাত্রা দ্রুত কমে না। বরং বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় ভ্যাপসা গরম আরও বেশি অনুভূত হতে পারে। এ কারণে জুন মাসে গরম ও আর্দ্রতার সম্মিলিত প্রভাব মানুষকে ভোগাতে পারে।

আরও পড়ুন  তাপপ্রবাহ ১১ জেলায়, টানা বৃষ্টির পূর্বাভাস রোববার থেকে

পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, জুন মাসে দেশে ৫ থেকে ৭ দিন হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বজ্রঝড় হতে পারে। এছাড়া কয়েকটি স্থানে দমকা হাওয়া ও বজ্রপাতের ঘটনাও ঘটতে পারে। বিশেষ করে বর্ষা শুরু হওয়ার সময় এসব আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি বেশি দেখা যায়।

বঙ্গোপসাগরেও এ মাসে ১ থেকে ২টি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে একটি লঘুচাপ মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। যদিও বর্তমানে বড় ধরনের কোনো ঘূর্ণিঝড়ের ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি।

নদ-নদীর পরিস্থিতি নিয়েও পূর্বাভাসে কিছু তথ্য দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, দেশের প্রধান নদীগুলোতে স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকতে পারে। তবে বিচ্ছিন্ন ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে কিছু অঞ্চলের নদীর পানি সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীগুলোর পানি সমতল সময় বিশেষে বাড়তে পারে। যদিও এই মুহূর্তে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কার কথা বলা হয়নি। তবুও সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ কমিটির সভায় মে মাসের আবহাওয়াচিত্রও পর্যালোচনা করা হয়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে অঞ্চলভেদে বৃষ্টির পরিমাণে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য ছিল।

চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়ার বৈচিত্র্য স্পষ্টভাবে দেখা গেছে।

আরও পড়ুন  ঢাকার তাপমাত্রা বাড়ার পূর্বাভাস: দাবদাহে আরও অস্বস্তির আশঙ্কা

গত মাসে বঙ্গোপসাগরে একটি উল্লেখযোগ্য আবহাওয়াগত ঘটনা ঘটে। ১১ মে শ্রীলঙ্কা উপকূলের কাছাকাছি দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে এটি সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়ে উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়।

১৩ মে সৃষ্ট ওই সুস্পষ্ট লঘুচাপ ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে এটি বড় ধরনের কোনো দুর্যোগে রূপ নেয়নি। তবে এর প্রভাবে কিছু অঞ্চলে আবহাওয়ার পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছিল।

মে মাসে দেশের ওপর দিয়ে দুটি মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। প্রথমটি ছিল ১৬ মে থেকে ২৬ মে পর্যন্ত। দ্বিতীয়টি শুরু হয় ২৯ মে এবং মাসের শেষ দিন পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।

গত মাসে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়। সেখানে পারদ উঠেছিল ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ছিল।

অন্যদিকে মে মাসে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে দিনাজপুরে। জেলার ওপর দিয়ে ১৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। যা ওই মাসে দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

এদিকে স্বল্পমেয়াদি পূর্বাভাসে মঙ্গলবারের আবহাওয়া সম্পর্কেও কিছু তথ্য দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

একই সঙ্গে এসব অঞ্চলে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু স্থানে মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে স্থানীয়ভাবে আবহাওয়ার কিছুটা পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

মঙ্গলবার সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। অর্থাৎ বৃষ্টিপাত হলেও দেশের সামগ্রিক তাপমাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন নাও আসতে পারে।

আরও পড়ুন  তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২০২৬: আবারও বাড়ছে গরম, কবে মিলবে স্বস্তি

বর্তমানে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, ময়মনসিংহ, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৃদু তাপপ্রবাহ বিরাজ করছে। এছাড়া রংপুর, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের বিস্তীর্ণ এলাকাও তাপপ্রবাহের আওতায় রয়েছে।

বুধবারও প্রায় একই ধরনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক জানিয়েছেন, চলমান তাপপ্রবাহ আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে যেসব এলাকায় বৃষ্টিপাত হবে, সেসব স্থানে তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসতে পারে। এতে স্থানীয়ভাবে স্বস্তি ফিরলেও সার্বিক গরম পুরোপুরি কমবে না।

সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টার তথ্য অনুযায়ী, দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে খুলনায়। সেখানে তাপমাত্রা ছিল ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল নরসিংদীতে, ২১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

একই সময়ে দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে রাঙামাটি ও কুমিল্লায়। দুই জেলাতেই ৫২ মিলিমিটার করে বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও তাপপ্রবাহ একসঙ্গে বিরাজ করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তীব্র গরমের সময় প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া জরুরি। কারণ দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। জুন মাসে তাপমাত্রা আরও বাড়ার আশঙ্কা থাকায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।