ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দেশে আবারও বাড়তির দিকে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৭৭ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।
ডেঙ্গু আক্রান্ত নতুন রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে বরিশাল বিভাগে। সেখানে সিটি করপোরেশনের বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ৩৯ জন ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া খুলনা বিভাগে ২৪ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫ জন, ঢাকা বিভাগে ৪ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, একই সময়ে ৪৬ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন। ফলে চলতি বছরে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১৮৪ জনে।
চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৩৮৪ জন। আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৬৩ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ শতাংশ নারী। এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুজনিত কারণে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুমে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার বাড়ে। ফলে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। তাই বাসাবাড়ি, ছাদ, বারান্দা এবং আশপাশের এলাকায় পানি জমতে না দেওয়া, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং মশা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
গত দুই বছরের পরিসংখ্যানও উদ্বেগজনক। ২০২৫ সালে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিল ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ৪১৩ জনের। অন্যদিকে ২০২৪ সালে আক্রান্ত হয়েছিল ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ৫৭৫ জনের। তাই ডেঙ্গু আক্রান্ত সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।



















