ঢাকা ০১:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ঢাকায় ২,৫০০ কোটি টাকার প্রকল্পে আসছে ৪০০ ইলেকট্রিক বাস

ঢাকায় ইলেকট্রিক বাস নামানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার - গ্রাফিক্সঃ মীরর বাংলা

রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও বায়ুদূষণ কমাতে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪০০টি ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন রুটে এসব বাস চলাচল করবে।

প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো গণপরিবহনে আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করা, পরিবহন খাতের কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং রাজধানীর বায়ুর মান উন্নত করা।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ৪০০টি ইলেকট্রিক বাস পরিচালনার জন্য তিনটি চার্জিং ডিপো নির্মাণ করা হবে। পূর্বাচলে ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) প্রায় ১ দশমিক ৩ একর জায়গায় একটি ডিপো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া রাজউকের ঝিলমিল এলাকায় এবং কাঁচপুরে আরও দুটি ডিপো নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজধানীর পুরোনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ বাসগুলো পর্যায়ক্রমে সরিয়ে ইলেকট্রিক বাস চালুর ব্যবস্থা করা হবে। ফিটনেসবিহীন বাসের চলাচল বন্ধেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।

ইলেকট্রিক বাসগুলো কোম্পানিভিত্তিক ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলে পরিচালিত হবে। এতে বাসের রং ও ব্যবস্থাপনায় অভিন্নতা থাকবে। প্রতিটি বাসে রুট নম্বর ও কোম্পানির নাম উল্লেখ থাকবে। পাশাপাশি অটোমেটিক দরজা এবং ই-টিকিটিং ব্যবস্থাও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় বাসের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চার্জিং অবকাঠামো, নীতিমালা প্রণয়ন, ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ থাকবে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সূত্র অনুযায়ী, প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংক থেকে ২ হাজার ১৩৫ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বাকি ৩৬৫ কোটি টাকা দেবে বাংলাদেশ সরকার। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে রাজধানীর বর্তমান গণপরিবহন ব্যবস্থায় বিপুলসংখ্যক পুরোনো বাস চলাচল করছে। বিআরটিএর হিসাব অনুযায়ী, ঢাকায় নিবন্ধিত বাস ও মিনিবাসের সংখ্যা প্রায় ৫৪ হাজার। এর মধ্যে ১৬ হাজার ১৯৮টি বাস ও মিনিবাসের বয়স ২০ বছরের বেশি, অর্থাৎ এগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ।

নগরবাসীর মতে, ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগ পরিবেশ ও গণপরিবহনের জন্য ইতিবাচক। তবে নতুন বাস চালুর পাশাপাশি পুরোনো ও ফিটনেসবিহীন বাস সরানো এবং গণপরিবহনে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করাও জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পটি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে বায়ুদূষণ ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি গণপরিবহনের সেবার মান উন্নত হতে পারে। তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাস মালিক, শ্রমিক ও যাত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

জনপ্রিয় সংবাদ

পুরুষ নির্যাতন দমন আইন কি প্রয়োজন? আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ

ঢাকায় ২,৫০০ কোটি টাকার প্রকল্পে আসছে ৪০০ ইলেকট্রিক বাস

Update Time : ১২:৫০:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও বায়ুদূষণ কমাতে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪০০টি ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন রুটে এসব বাস চলাচল করবে।

প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো গণপরিবহনে আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করা, পরিবহন খাতের কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং রাজধানীর বায়ুর মান উন্নত করা।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ৪০০টি ইলেকট্রিক বাস পরিচালনার জন্য তিনটি চার্জিং ডিপো নির্মাণ করা হবে। পূর্বাচলে ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) প্রায় ১ দশমিক ৩ একর জায়গায় একটি ডিপো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া রাজউকের ঝিলমিল এলাকায় এবং কাঁচপুরে আরও দুটি ডিপো নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  চন্দনাইশে বন্যার পানিতে ভেসে গেল মৎস্যচাষি জেলে টিটু দাশের স্বপ্ন

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজধানীর পুরোনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ বাসগুলো পর্যায়ক্রমে সরিয়ে ইলেকট্রিক বাস চালুর ব্যবস্থা করা হবে। ফিটনেসবিহীন বাসের চলাচল বন্ধেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।

ইলেকট্রিক বাসগুলো কোম্পানিভিত্তিক ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলে পরিচালিত হবে। এতে বাসের রং ও ব্যবস্থাপনায় অভিন্নতা থাকবে। প্রতিটি বাসে রুট নম্বর ও কোম্পানির নাম উল্লেখ থাকবে। পাশাপাশি অটোমেটিক দরজা এবং ই-টিকিটিং ব্যবস্থাও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় বাসের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চার্জিং অবকাঠামো, নীতিমালা প্রণয়ন, ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ থাকবে।

আরও পড়ুন  ডাক অধিদপ্তরের সব কার্যালয় ও ডাকঘর এখন তামাকমুক্ত

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সূত্র অনুযায়ী, প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংক থেকে ২ হাজার ১৩৫ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বাকি ৩৬৫ কোটি টাকা দেবে বাংলাদেশ সরকার। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে রাজধানীর বর্তমান গণপরিবহন ব্যবস্থায় বিপুলসংখ্যক পুরোনো বাস চলাচল করছে। বিআরটিএর হিসাব অনুযায়ী, ঢাকায় নিবন্ধিত বাস ও মিনিবাসের সংখ্যা প্রায় ৫৪ হাজার। এর মধ্যে ১৬ হাজার ১৯৮টি বাস ও মিনিবাসের বয়স ২০ বছরের বেশি, অর্থাৎ এগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ।

আরও পড়ুন  সম্পদ-শিক্ষায় এগিয়ে বিএনপির নারী প্রার্থী, বলছে হলফনামা

নগরবাসীর মতে, ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগ পরিবেশ ও গণপরিবহনের জন্য ইতিবাচক। তবে নতুন বাস চালুর পাশাপাশি পুরোনো ও ফিটনেসবিহীন বাস সরানো এবং গণপরিবহনে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করাও জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পটি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে বায়ুদূষণ ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি গণপরিবহনের সেবার মান উন্নত হতে পারে। তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাস মালিক, শ্রমিক ও যাত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।