দিল্লির অগ্নিকাণ্ডে জামায়াতের শোক প্রকাশ করে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লির একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশিসহ বহু মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় দলটির পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়েছে। বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এ শোক ও সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে গভীরভাবে উদ্বেগজনক।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ৩ জুন সকালে ভারতের রাজধানী দিল্লির মালভিয়া নগর এলাকায় অবস্থিত ‘ফ্লুরিশ স্টে বিঅ্যান্ডবি’ নামের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে বাংলাদেশি ও অন্যান্য বিদেশি নাগরিকসহ মোট ২১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৪৭ জন আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দিল্লির অগ্নিকাণ্ডে জামায়াতের শোক জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, এই মর্মান্তিক ঘটনায় যেসব মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি। একই সঙ্গে শোকাহত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। তিনি বলেন, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী নিহতদের মধ্যে ১৭ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন, যাদের মধ্যে বাংলাদেশিও আছেন। পাশাপাশি আহতদের মধ্যেও কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশি নাগরিকদের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে তিনি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। বিশেষ করে নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একই সঙ্গে আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের বিষয়টি মানবিক বিবেচনায় দ্রুত সম্পন্ন করা প্রয়োজন।
ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি। তার মতে, এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। বাংলাদেশ সরকারের প্রতিও আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ভারতে হতাহত বাংলাদেশি নাগরিকদের পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো সরকারের দায়িত্ব। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো কিছুটা হলেও সহায়তা পাবে। এ ছাড়া দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। তার মতে, আকস্মিক এ দুর্ঘটনায় পরিবারগুলো বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে পারে, তাই তাদের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন।
বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা ও জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এ ধরনের দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত কূটনৈতিক তৎপরতা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। সব মিলিয়ে, দিল্লির ভয়াবহ হোটেল অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। একই সঙ্গে আহতদের চিকিৎসা, নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
























