বজ্রপাতে মৃত্যু দেশের বিভিন্ন জেলায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। রোববার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দেশের অন্তত আটটি জেলায় বজ্রপাতের ঘটনায় ১৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ সময় বেশ কয়েকজন আহতও হয়েছেন।স্থানীয় প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, ঠাকুরগাঁও, বগুড়া, নাটোর, পঞ্চগড় ও শেরপুরে পৃথক পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় এসব প্রাণহানি ঘটে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বজ্রপাত বাংলাদেশে প্রায় প্রতি বছরই প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে মাঠে কাজ করা কৃষক, গবাদিপশু চরানো মানুষ কিংবা খোলা জায়গায় অবস্থানকারীরা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলায় বজ্রপাতের ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামে বজ্রপাতের ঘটনায় একসঙ্গে তিনজন মারা যান।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ফুয়াদ (১৪), রাফি (১২) এবং মিজানুর (২০)। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন। একই ঘটনায় একটি গরুও মারা গেছে। অন্যদিকে ফুলছড়ি উপজেলার জামিরা চরে বজ্রপাতে ঘোড়ার গাড়িচালক মানিক হোসেন (২২) মারা যান। বজ্রপাতের সময় তার ঘোড়াটিও মারা যায়। সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ ও রায়গঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। তাড়াশ উপজেলার মাধাইনগর এলাকায় মাঠে কাজ করার সময় কৃষক আব্দুল হামিদ বজ্রপাতে নিহত হন।
রায়গঞ্জ উপজেলার মল্লিকচান এলাকায় ধান জড়ো করার সময় হাসান শেখ নামে এক যুবক বজ্রপাতে মারা যান।জামালপুরের সদর ও মেলান্দহ উপজেলায়ও বজ্রপাতের ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। সদর উপজেলার চরাঞ্চলে গরু চরাতে গিয়ে হাসমত আলী নিহত হন। মেলান্দহ উপজেলায় রান্না করার সময় বজ্রপাতে আহত হয়ে মর্জিনা আক্তারের মৃত্যু হয়।বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় জমি থেকে ছাগল আনতে গিয়ে বজ্রপাতে সুমন নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার দুটি গ্রামে বজ্রপাতের ঘটনায় লাবণী আক্তার ও ইলিয়াস আলী নিহত হন। নাটোরের সিংড়া উপজেলার চলনবিলে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে সম্রাট হোসেন নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। পঞ্চগড়ের একটি চা-বাগানে কাজ করার সময় বজ্রপাতে সারওয়ারদ্দী নামে এক শ্রমিক নিহত হন এবং আরও দুইজন আহত হন।শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় ধান কাটতে গিয়ে ইসলামি ফাউন্ডেশনের শিক্ষক আবুল হাসান বজ্রপাতে মারা গেছেন।
রাজধানীতেও বজ্রপাতের প্রভাব দেখা গেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার এলাকায় বজ্রপাতের ঘটনায় দুই নারী শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসা দেওয়া হয়। আহত দুই শিক্ষার্থী হলেন সুফিয়া আক্তার ও ফারাহ আক্তার।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, নদীর পাড় বা উঁচু স্থানে থাকা বিপজ্জনক। নিরাপদ থাকতে কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে—
- ঝড়বৃষ্টি শুরু হলে দ্রুত ঘরে আশ্রয় নেওয়া
- খোলা মাঠে অবস্থান না করা
- গাছের নিচে দাঁড়িয়ে না থাকা
- মোবাইল বা ধাতব বস্তু ব্যবহার কমানো























