বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষণায় বস্ত্র খাতে নগদ সহায়তা ৫ শতাংশ করা হয়েছে, যা দেশের রপ্তানিমুখী বস্ত্র ও তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য বড় স্বস্তির খবর। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য আগের ১.৫ শতাংশের পরিবর্তে এখন ৫ শতাংশ হারে বিকল্প নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য দেশীয় কাঁচামালের ব্যবহার বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা।
রোববার (১২ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ (এফইপিডি) এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে। এতে জানানো হয়, সরকার ঘোষিত রপ্তানি প্রণোদনা নীতির আওতায় বিকল্প নগদ সহায়তার হার সংশোধন করা হয়েছে। নতুন হার ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
এই সুবিধা মূলত সেই রপ্তানিকারকেরা পাবেন, যারা বন্ডেড ওয়্যারহাউস বা ডিউটি ড্র-ব্যাক সুবিধা গ্রহণের পরিবর্তে দেশের স্থানীয় উৎপাদকদের কাছ থেকে সুতা, কাপড় ও অন্যান্য অনুমোদিত কাঁচামাল সংগ্রহ করবেন। এর মাধ্যমে দেশীয় শিল্পের উৎপাদন বাড়বে, মূল্য সংযোজন বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় উদ্যোক্তারাও সরাসরি লাভবান হবেন।
নগদ সহায়তা পাওয়ার জন্য রপ্তানিকারকদের বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) অথবা সংশ্লিষ্ট স্বীকৃত বাণিজ্য সংগঠনের সদস্য হতে হবে। পাশাপাশি দেশীয় সরবরাহকারীদের কাছ থেকে কাঁচামাল কেনার প্রয়োজনীয় দালিলিক প্রমাণও জমা দিতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নগদ সহায়তার হার বাড়ানো হলেও স্থানীয় উৎস থেকে সুতা ও কাপড় সংগ্রহের তথ্য যাচাইয়ের বিদ্যমান পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। অর্থাৎ আগের নিয়মেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে সহায়তা দেওয়া হবে। এতে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে এবং প্রকৃত রপ্তানিকারকেরাই সুবিধা পাবেন।
বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ার এই সময়ে সরকারের এমন উদ্যোগ দেশের বস্ত্র ও পোশাক শিল্পকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় কাঁচামালের ব্যবহার বাড়লে আমদানিনির্ভরতা কমবে, উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং রপ্তানি আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

























