ঢাকা ১০:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo লামিন ইয়ামালের বিলাসবহুল ঘড়ি সংগ্রহে নজর কাড়ছে যে টাইমপিসগুলো Logo সালমান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে কেন শুরু হলো নতুন আলোচনা? Logo আইফোন ১৮ প্রো লঞ্চের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ, সেপ্টেম্বরেই আসছে নতুন আইফোন? Logo ২০৩০ ফুটবল বিশ্বকাপ: আয়োজক দেশ, সূচি ও নতুন ফরম্যাটে যা জানা গেছে Logo কম আলোতে গাছ: কম যত্নেই সতেজ থাকবে ৯টি ইনডোর প্ল্যান্ট Logo প্রবাসী আয় উৎস: সৌদি আরব ও যুক্তরাজ্যের অবস্থান Logo বিকাশে লেনদেন: স্মার্ট ডিজিটাল অর্থনীতির নতুন অধ্যায় Logo অনন্যা পান্ডের হোয়াইট ক্যামেলিয়া ব্রাইডাল লুক: ১০০ ক্যারেট হীরায় নজরকাড়া রাজকীয় সাজ Logo রাঙ্গামাটিতে বন্যায় কৃষি-মৎস্যে ৬০ কোটি টাকার ক্ষতি Logo ৬৪ দলের বিশ্বকাপ, কতটা সম্ভব ফিফার নতুন পরিকল্পনা

মাথা ন্যাড়া করে আর্জেন্টিনার সমর্থন ছাড়লেন ২ যুবক

আর্জেন্টিনার পরাজয়ের হতাশায় মাথা ন্যাড়া করে সমর্থন ছাড়ার ঘোষণা দুই যুবকের।ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের পর দুই যুবকের এমন ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সকালে নাপিতের দোকানে গিয়ে তারা প্রকাশ্যে মাথা ন্যাড়া করেন। ঘটনাটি দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড়ও জমে যায়।

মাথা ন্যাড়া করার সময় উপস্থিত অনেকেই তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার অনুরোধ করলেও তারা নিজেদের অবস্থানে অনড় ছিলেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

রোমান মিয়া বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি আর্জেন্টিনার সমর্থক। লিওনেল মেসির খেলা দেখে আর্জেন্টিনাকে ভালোবাসতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু টানা কয়েকটি বড় টুর্নামেন্টে প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় এবার চরম হতাশ হয়েছেন বলে জানান তিনি।

অন্য যুবক আল আমিনও বলেন, ফাইনাল ম্যাচ নিয়ে তাদের অনেক স্বপ্ন ছিল। বন্ধুদের সঙ্গে খেলা দেখার জন্য আগে থেকেই নানা আয়োজন করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলের হার তাদের মানসিকভাবে ভেঙে দেয়। তাই আবেগের বশে মাথা ন্যাড়া করে আর্জেন্টিনার সমর্থন ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিশ্বকাপ চলাকালে ওই দুই যুবক নিজেদের বাড়ি ও আশপাশে আর্জেন্টিনার পতাকা টানিয়েছিলেন। প্রতিটি ম্যাচ উপলক্ষে তারা বন্ধুদের নিয়ে একসঙ্গে খেলা দেখতেন এবং দলের জয়ে আনন্দ-উল্লাস করতেন। ফাইনালে পরাজয়ের পর তাদের এমন প্রতিক্রিয়া অনেককেই বিস্মিত করেছে।

তবে এলাকার অনেক ফুটবলপ্রেমীর মতে, খেলাধুলায় জয়-পরাজয় স্বাভাবিক বিষয়। একটি ম্যাচে হারের কারণে প্রিয় দলের প্রতি সমর্থন ত্যাগ করা উচিত নয়। তারা দুই যুবককে আবেগের পরিবর্তে খেলাটিকে ইতিবাচকভাবে দেখার পরামর্শ দেন।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ বিষয়টিকে নিছক ফুটবলপ্রেমীদের আবেগ বলে মন্তব্য করেছেন, আবার কেউ এটিকে অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ফাইনাল ম্যাচ শেষ হওয়ার পর থেকেই দুই যুবক চরম হতাশায় ভুগছিলেন বলে তাদের স্বজনরা জানান। খেলা শেষ হওয়ার পর তারা দীর্ঘ সময় কারও সঙ্গে তেমন কথা বলেননি। পরদিন সকালে নিজেদের সিদ্ধান্তের কথা পরিবার ও বন্ধুদের জানিয়ে স্থানীয় একটি সেলুনে গিয়ে মাথা ন্যাড়া করেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন জানান, মাথা ন্যাড়া করার সময় আশপাশের অনেক মানুষ মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি দ্রুত আলোচনায় আসে। অনেকে এটিকে ফুটবলপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখলেও, আবার অনেকে এটিকে অতিরিক্ত আবেগের প্রকাশ বলে মন্তব্য করেন।

রোমান মিয়া দাবি করেন, আর্জেন্টিনার প্রতিটি ম্যাচের আগে তিনি দলের জার্সি পরে বন্ধুদের সঙ্গে খেলা দেখতেন। বিশ্বকাপের শুরু থেকে ফাইনাল পর্যন্ত দলের প্রতি তার অগাধ বিশ্বাস ছিল। তাই শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার হতাশা থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।

আল আমিন বলেন, ফাইনালের আগে তারা এলাকার কয়েকজন সমর্থকের সঙ্গে শিরোপা উদযাপনের প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে পরাজয়ের কারণে সব পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। এতে তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দুই যুবক এলাকায় আর্জেন্টিনার ‘কট্টর সমর্থক’ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট এলেই তারা বাড়িতে পতাকা টাঙাতেন, জার্সি সংগ্রহ করতেন এবং দলকে সমর্থন জানিয়ে নানা আয়োজন করতেন।

তবে তাদের এই ঘোষণার পরও অনেক বন্ধু ও স্বজন মনে করছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের ক্ষোভ কমে যাবে এবং ভবিষ্যতে আবারও আর্জেন্টিনার সমর্থক হিসেবে ফিরে আসবেন। কারণ দীর্ঘদিনের একটি দলের প্রতি আবেগ একদিনে শেষ হয়ে যায় না।

ফুটবলবিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে ফাইনালে ওঠাই একটি বড় অর্জন। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে জয়-পরাজয় খেলাধুলারই অংশ। তাই সমর্থকদের উচিত ফলাফলের চেয়ে দলের প্রতি দীর্ঘদিনের ভালোবাসা ও সমর্থনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া।

জনপ্রিয় সংবাদ

লামিন ইয়ামালের বিলাসবহুল ঘড়ি সংগ্রহে নজর কাড়ছে যে টাইমপিসগুলো

মাথা ন্যাড়া করে আর্জেন্টিনার সমর্থন ছাড়লেন ২ যুবক

Update Time : ১০:০০:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের পর দুই যুবকের এমন ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সকালে নাপিতের দোকানে গিয়ে তারা প্রকাশ্যে মাথা ন্যাড়া করেন। ঘটনাটি দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড়ও জমে যায়।

মাথা ন্যাড়া করার সময় উপস্থিত অনেকেই তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার অনুরোধ করলেও তারা নিজেদের অবস্থানে অনড় ছিলেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

রোমান মিয়া বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি আর্জেন্টিনার সমর্থক। লিওনেল মেসির খেলা দেখে আর্জেন্টিনাকে ভালোবাসতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু টানা কয়েকটি বড় টুর্নামেন্টে প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় এবার চরম হতাশ হয়েছেন বলে জানান তিনি।

অন্য যুবক আল আমিনও বলেন, ফাইনাল ম্যাচ নিয়ে তাদের অনেক স্বপ্ন ছিল। বন্ধুদের সঙ্গে খেলা দেখার জন্য আগে থেকেই নানা আয়োজন করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলের হার তাদের মানসিকভাবে ভেঙে দেয়। তাই আবেগের বশে মাথা ন্যাড়া করে আর্জেন্টিনার সমর্থন ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিশ্বকাপ চলাকালে ওই দুই যুবক নিজেদের বাড়ি ও আশপাশে আর্জেন্টিনার পতাকা টানিয়েছিলেন। প্রতিটি ম্যাচ উপলক্ষে তারা বন্ধুদের নিয়ে একসঙ্গে খেলা দেখতেন এবং দলের জয়ে আনন্দ-উল্লাস করতেন। ফাইনালে পরাজয়ের পর তাদের এমন প্রতিক্রিয়া অনেককেই বিস্মিত করেছে।

তবে এলাকার অনেক ফুটবলপ্রেমীর মতে, খেলাধুলায় জয়-পরাজয় স্বাভাবিক বিষয়। একটি ম্যাচে হারের কারণে প্রিয় দলের প্রতি সমর্থন ত্যাগ করা উচিত নয়। তারা দুই যুবককে আবেগের পরিবর্তে খেলাটিকে ইতিবাচকভাবে দেখার পরামর্শ দেন।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ বিষয়টিকে নিছক ফুটবলপ্রেমীদের আবেগ বলে মন্তব্য করেছেন, আবার কেউ এটিকে অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ফাইনাল ম্যাচ শেষ হওয়ার পর থেকেই দুই যুবক চরম হতাশায় ভুগছিলেন বলে তাদের স্বজনরা জানান। খেলা শেষ হওয়ার পর তারা দীর্ঘ সময় কারও সঙ্গে তেমন কথা বলেননি। পরদিন সকালে নিজেদের সিদ্ধান্তের কথা পরিবার ও বন্ধুদের জানিয়ে স্থানীয় একটি সেলুনে গিয়ে মাথা ন্যাড়া করেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন জানান, মাথা ন্যাড়া করার সময় আশপাশের অনেক মানুষ মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি দ্রুত আলোচনায় আসে। অনেকে এটিকে ফুটবলপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখলেও, আবার অনেকে এটিকে অতিরিক্ত আবেগের প্রকাশ বলে মন্তব্য করেন।

রোমান মিয়া দাবি করেন, আর্জেন্টিনার প্রতিটি ম্যাচের আগে তিনি দলের জার্সি পরে বন্ধুদের সঙ্গে খেলা দেখতেন। বিশ্বকাপের শুরু থেকে ফাইনাল পর্যন্ত দলের প্রতি তার অগাধ বিশ্বাস ছিল। তাই শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার হতাশা থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।

আল আমিন বলেন, ফাইনালের আগে তারা এলাকার কয়েকজন সমর্থকের সঙ্গে শিরোপা উদযাপনের প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে পরাজয়ের কারণে সব পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। এতে তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দুই যুবক এলাকায় আর্জেন্টিনার ‘কট্টর সমর্থক’ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট এলেই তারা বাড়িতে পতাকা টাঙাতেন, জার্সি সংগ্রহ করতেন এবং দলকে সমর্থন জানিয়ে নানা আয়োজন করতেন।

তবে তাদের এই ঘোষণার পরও অনেক বন্ধু ও স্বজন মনে করছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের ক্ষোভ কমে যাবে এবং ভবিষ্যতে আবারও আর্জেন্টিনার সমর্থক হিসেবে ফিরে আসবেন। কারণ দীর্ঘদিনের একটি দলের প্রতি আবেগ একদিনে শেষ হয়ে যায় না।

ফুটবলবিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে ফাইনালে ওঠাই একটি বড় অর্জন। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে জয়-পরাজয় খেলাধুলারই অংশ। তাই সমর্থকদের উচিত ফলাফলের চেয়ে দলের প্রতি দীর্ঘদিনের ভালোবাসা ও সমর্থনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া।