জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) করদাতাদের উদ্দেশে যে সতর্কবার্তা দিয়েছে, সেটি মূলত কর অডিটকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে যাওয়া প্রতারণার ঘটনার প্রেক্ষাপটে। নিচে বিষয়টি আরও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো—
অডিটের নামে অর্থ আদায়ের প্রতারণা, কী বলছে এনবিআর?
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র নিজেদের এনবিআরের কর্মকর্তা বা অডিট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পরিচয় দিয়ে করদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। তারা দাবি করছে যে সংশ্লিষ্ট করদাতার আয়কর রিটার্ন বা কর নথি অডিটের জন্য নির্বাচিত হয়েছে।
এরপর তারা দুটি কৌশল অবলম্বন করছে—
- অডিট থেকে অব্যাহতির আশ্বাস দিয়ে অর্থ দাবি করা।
- কর ফাঁকি, জরিমানা বা মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করা।
এনবিআরের মতে, এসব দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং প্রতারণার অংশ।
কীভাবে যোগাযোগ করছে প্রতারকরা?
প্রতারকরা সাধারণত—
- ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করছে।
- কখনও এসএমএস বা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করছে।
- নিজেদের কর কর্মকর্তা, অডিট অফিসার বা এনবিআরের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে।
- দ্রুত টাকা পাঠাতে মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করতে বলছে।
কর অডিটের প্রকৃত নিয়ম কী?
এনবিআর স্পষ্টভাবে জানিয়েছে—
- কর নথি অডিটে নির্বাচিত হলে শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক লিখিত নোটিশ দেওয়া হয়।
- অডিট সংক্রান্ত যোগাযোগ আইন অনুযায়ী নির্ধারিত পদ্ধতিতেই করা হয়।
- কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে অর্থ দাবি করেন না।
- অডিট থেকে অব্যাহতির বিনিময়ে কোনো ধরনের অর্থ নেওয়ার সুযোগ বা বিধান নেই।
করদাতাদের জন্য এনবিআরের পরামর্শ
এনবিআর করদাতাদের প্রতি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে—
- ব্যক্তিগত নম্বর থেকে আসা ফোনে বিশ্বাস করবেন না।
- অডিট বন্ধ বা সমস্যা সমাধানের নামে কাউকে টাকা দেবেন না।
- সন্দেহজনক ফোন, এসএমএস বা বার্তার বিষয়ে সতর্ক থাকুন।
- প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চল বা এনবিআরের অফিসে সরাসরি যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই করুন।
- প্রতারণার চেষ্টা হলে নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা এনবিআরকে অবহিত করুন।
কেন বাড়ছে এ ধরনের প্রতারণা?
বিশেষজ্ঞদের মতে—
- কর ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তরের ফলে করদাতার সংখ্যা বেড়েছে।
- অনেক নতুন করদাতা অডিট প্রক্রিয়া সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা রাখেন না।
- এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতারকরা ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে।
প্রতারণা এড়াতে করদাতারা যা করবেন
- এনবিআরের লিখিত নোটিশ ছাড়া কোনো অডিট সংক্রান্ত দাবি বিশ্বাস করবেন না।
- ব্যক্তিগত বিকাশ, নগদ বা ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠাবেন না।
- অজানা নম্বর থেকে আসা কর-সংক্রান্ত নির্দেশনা যাচাই না করে কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না।
- নিজের কর-সংক্রান্ত তথ্য অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে শেয়ার করবেন না।
এনবিআরের বার্তা
এনবিআর বলেছে, কর প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তারা আইন অনুযায়ী নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় করদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তাই কেউ যদি অডিটের ভয় দেখিয়ে বা অডিট থেকে অব্যাহতির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ দাবি করে, তাহলে সেটিকে প্রতারণা হিসেবে বিবেচনা করে সতর্ক থাকতে হবে।
সংস্থাটি করদাতাদের অনুরোধ করেছে, এ ধরনের প্রতারণার শিকার না হয়ে যেকোনো সন্দেহজনক যোগাযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় কর্তৃপক্ষকে দ্রুত অবহিত করতে।


























