ঢাকা ০৫:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চট্টগ্রামে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্না করায় রেস্তোরাঁকে ৬ লাখ টাকা জরিমানা Logo গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: চুরি-লুটপাট বন্ধে সময় লাগার কথা নয় Logo শাহজালাল বিমানবন্দরে ২০ কোটি টাকার সোনা উদ্ধার, তোলপাড় Logo গুনাহ ও ঋণের দোয়া: পাপ ও ঋণ থেকে বাঁচার গুরুত্বপূর্ণ আমল Logo ওবায়দুল কাদেরের রায়: আগামী সপ্তাহেই আসতে পারে সিদ্ধান্ত Logo প্লাস্টিকের চাপে কেশবপুরের মৃৎশিল্প, টিকে থাকার লড়াইয়ে কুমাররা Logo চেলসি খেলোয়াড় বিক্রি: বিশ্বরেকর্ড গড়ল ইংলিশ ক্লাবটি Logo দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে বক্তব্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo সংসদে ১০ স্থায়ী কমিটি, দায়িত্ব পেলেন যারা Logo নেপাল-তিব্বতে বন্যা: প্রাণহানি ছাড়াল হাজার

রোহিঙ্গাদের জন্য ১ কোটি ডলার অনুদানের ঘোষণা কানাডার

রোহিঙ্গাদের জন্য ১ কোটি ডলার অনুদানের ঘোষণা কানাডার

কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জীবনমান উন্নয়ন এবং নিরাপদ রান্নার পরিবেশ নিশ্চিতে ১ কোটি কানাডিয়ান ডলার অনুদান দিচ্ছে কানাডা। রোববার (১২ এপ্রিল) ঢাকায় কানাডিয়ান হাইকমিশন এবং জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর এক যৌথ বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়। এই অনুদানের বিশাল অর্থ যৌথভাবে কাজে লাগাবে ইউএনএইচসিআর এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।

বনভূমি রক্ষা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাস রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে রান্নার কাজে এলপিজি গ্যাসের ব্যবহার শুরুর পর থেকে জ্বালানি কাঠের নির্ভরতা প্রায় ৮০ শতাংশ কমে গেছে। এর ফলে শুধু যে কক্সবাজারের প্রাকৃতিক বনভূমি রক্ষা পাচ্ছে তা নয়, প্রতি বছর প্রায় চার লাখ সাত হাজার টন ক্ষতিকর কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণও রোধ করা সম্ভব হচ্ছে।

সবচেয়ে বড় স্বস্তির জায়গা হলো, এই উদ্যোগটি রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের নিরাপত্তায় বড় ভূমিকা রাখছে। আগে গভীর জঙ্গলে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে তারা প্রতিনিয়ত যেসব বিপদের সম্মুখীন হতেন, এলপিজি ব্যবহারের ফলে সেই ঝুঁকি এখন অনেকটাই কমে এসেছে।

কী বলছেন সংশ্লিষ্টরা? এই সহায়তা প্রসঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং জানান, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘদিনের অংশীদার হিসেবে কানাডা সবসময়ই বাংলাদেশের পাশে আছে। নতুন এই জলবায়ু-বান্ধব অনুদান শুধু শরণার্থীদের দৈনন্দিন জীবনই সহজ করবে না, পাশাপাশি কক্সবাজারের মতো পরিবেশগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় দারুণ ভূমিকা রাখবে।

দীর্ঘ ৯ বছর ধরে বাস্তুচ্যুত হয়ে থাকা এই মানুষগুলোর জন্য কানাডার এই সহায়তা তাদের জীবনে কিছুটা হলেও স্বস্তি আনবে বলে মনে করেন ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ জুলিয়েট মুরেকিইসোনি। অন্যদিকে আইওএম বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন চিফ অব মিশন জ্যাসেপ্পে লোপ্রিটে জানান, এই নিরাপদ জ্বালানি ব্যবস্থা পরিবারগুলোর মৌলিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কাঠ সংগ্রহের মতো বিপজ্জনক কাজ থেকে তাদের দূরে রাখছে।

ভবিষ্যৎ প্রভাব উল্লেখ্য, ২০১৮ সাল থেকেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে এলপিজি সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্পগুলোতে ঘরের ভেতরের বাতাস আগের চেয়ে বিশুদ্ধ হয়েছে এবং রান্নার খরচ কমেছে।

ইউএনএইচসিআর এবং আইওএম আশা করছে, কানাডার দেওয়া নতুন এই তহবিলের সাহায্যে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫০০ শরণার্থী পরিবারের এলপিজি সুবিধা নিশ্চিত হবে। একইসঙ্গে কক্সবাজারের প্রায় ১০ হাজার ৭০০ হেক্টর সংরক্ষিত বনভূমি রক্ষা পাবে, পাহাড়ধসের ঝুঁকি কমবে এবং মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যকার সংঘাতও অনেকাংশে কমে আসবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্না করায় রেস্তোরাঁকে ৬ লাখ টাকা জরিমানা

রোহিঙ্গাদের জন্য ১ কোটি ডলার অনুদানের ঘোষণা কানাডার

Update Time : ০৭:৫৬:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জীবনমান উন্নয়ন এবং নিরাপদ রান্নার পরিবেশ নিশ্চিতে ১ কোটি কানাডিয়ান ডলার অনুদান দিচ্ছে কানাডা। রোববার (১২ এপ্রিল) ঢাকায় কানাডিয়ান হাইকমিশন এবং জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর এক যৌথ বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়। এই অনুদানের বিশাল অর্থ যৌথভাবে কাজে লাগাবে ইউএনএইচসিআর এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।

বনভূমি রক্ষা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাস রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে রান্নার কাজে এলপিজি গ্যাসের ব্যবহার শুরুর পর থেকে জ্বালানি কাঠের নির্ভরতা প্রায় ৮০ শতাংশ কমে গেছে। এর ফলে শুধু যে কক্সবাজারের প্রাকৃতিক বনভূমি রক্ষা পাচ্ছে তা নয়, প্রতি বছর প্রায় চার লাখ সাত হাজার টন ক্ষতিকর কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণও রোধ করা সম্ভব হচ্ছে।

আরও পড়ুন  ১০ মিনিট সময় চেয়ে লাখো রোহিঙ্গার আকুতি

সবচেয়ে বড় স্বস্তির জায়গা হলো, এই উদ্যোগটি রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের নিরাপত্তায় বড় ভূমিকা রাখছে। আগে গভীর জঙ্গলে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে তারা প্রতিনিয়ত যেসব বিপদের সম্মুখীন হতেন, এলপিজি ব্যবহারের ফলে সেই ঝুঁকি এখন অনেকটাই কমে এসেছে।

কী বলছেন সংশ্লিষ্টরা? এই সহায়তা প্রসঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং জানান, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘদিনের অংশীদার হিসেবে কানাডা সবসময়ই বাংলাদেশের পাশে আছে। নতুন এই জলবায়ু-বান্ধব অনুদান শুধু শরণার্থীদের দৈনন্দিন জীবনই সহজ করবে না, পাশাপাশি কক্সবাজারের মতো পরিবেশগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় দারুণ ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়ুন  নতুন ডিজিটাল বিজ্ঞাপন নীতিমালা ২০২৬: বিদেশি কোম্পানির নিবন্ধন বাধ্যতামূলক

দীর্ঘ ৯ বছর ধরে বাস্তুচ্যুত হয়ে থাকা এই মানুষগুলোর জন্য কানাডার এই সহায়তা তাদের জীবনে কিছুটা হলেও স্বস্তি আনবে বলে মনে করেন ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ জুলিয়েট মুরেকিইসোনি। অন্যদিকে আইওএম বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন চিফ অব মিশন জ্যাসেপ্পে লোপ্রিটে জানান, এই নিরাপদ জ্বালানি ব্যবস্থা পরিবারগুলোর মৌলিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কাঠ সংগ্রহের মতো বিপজ্জনক কাজ থেকে তাদের দূরে রাখছে।

আরও পড়ুন  নবম পে-স্কেল অনুমোদন, চার ধাপে বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন

ভবিষ্যৎ প্রভাব উল্লেখ্য, ২০১৮ সাল থেকেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে এলপিজি সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্পগুলোতে ঘরের ভেতরের বাতাস আগের চেয়ে বিশুদ্ধ হয়েছে এবং রান্নার খরচ কমেছে।

ইউএনএইচসিআর এবং আইওএম আশা করছে, কানাডার দেওয়া নতুন এই তহবিলের সাহায্যে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫০০ শরণার্থী পরিবারের এলপিজি সুবিধা নিশ্চিত হবে। একইসঙ্গে কক্সবাজারের প্রায় ১০ হাজার ৭০০ হেক্টর সংরক্ষিত বনভূমি রক্ষা পাবে, পাহাড়ধসের ঝুঁকি কমবে এবং মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যকার সংঘাতও অনেকাংশে কমে আসবে।